ঢাকা শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

জাহাজ নির্মাণ ও পুনঃপ্রক্রিয়াকরণে সমন্বিত উদ্যোগ

জাহাজ নির্মাণ ও পুনঃপ্রক্রিয়াকরণে সমন্বিত উদ্যোগ

জাহাজ নির্মাণ ও পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ খাতে রফতানি বাড়াতে নীতিগত ও অবকাঠামোগত সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা কাজে লাগাতে এই দুই খাতকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার। দেশীয় সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বেসরকারি শিপইয়ার্ডগুলোর ব্যাংক গ্যারান্টি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেডের (সিডিডিএল) সম্মেলন কক্ষে প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ থেকে সাত বছরে বিশ্বব্যাপী কয়েক হাজার পুরোনো জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণের আওতায় আসবে। এ বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে দেশে পরিবেশসম্মত গ্রিন শিপইয়ার্ডের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে বেশ কয়েকটি অনুমোদিত গ্রিন ইয়ার্ড রয়েছে, আরো কিছু অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় আছে। এ খাত থেকে ভবিষ্যতে বছরে কয়েক বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

জাহাজ রফতানি সম্প্রসারণে আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ ও নকশা তৈরির সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বাজারে প্রবেশ করতে আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে হবে। এ লক্ষ্যে নরওয়ে ও নেদারল্যান্ডসের মতো দেশের অংশীদারদের সঙ্গে যৌথভাবে একটি আধুনিক ডিজাইন ও দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা চলছে।

বেসরকারি শিপইয়ার্ডগুলোর রফতানি আদেশ বাস্তবায়নে ব্যাংক গ্যারান্টিকে বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি জানান, এ সমস্যা সমাধানে নৌবাহিনীর অধীন ডকইয়ার্ডগুলোর সঙ্গে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে একটি 'হাইব্রিড মডেল' বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে সরকারি তত্ত্বাবধানে ব্যাংক গ্যারান্টি সুবিধা কাজে লাগিয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো জাহাজ নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করতে পারবে।

দুই খাতের উন্নয়নে নৌপরিবহন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি কাজ করবে বলেও জানান তিনি।

সভায় কর্মকর্তারা বড় আকারের জাহাজ নির্মাণে চট্টগ্রাম ড্রাইডকের সম্ভাবনা তুলে ধরেন। এ সক্ষমতা কাজে লাগাতে আধুনিক ক্রেন, ফ্যাব্রিকেশন শপ, নকশা প্রণয়নের সুবিধা এবং অতিরিক্ত নির্মাণ ডক স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথা জানান তারা।

মতবিনিময়ে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক, ডকইয়ার্ডের এরিয়া সুপারিনটেনডেন্ট রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. রুহুল মিনহাজ এবং চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন। এছাড়া নৌবাহিনী ও সিডিডিএলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

পরে বাণিজ্যমন্ত্রী আনোয়ারা উপজেলায় কর্ণফুলী ড্রাইডক পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী আব্দুর রশিদ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত