ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

রপ্তানি বহুমুখীকরণ

ঢাকায় ১৫ থেকে ১৭ নভেম্বর 'গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো'

* প্রদর্শনীতে রপ্তানিমুখী ১২টি খাতের ২০০টির বেশি স্টল থাকবে * প্রদর্শনীর মাধ্যমে উৎপাদকরা নতুন ব্যবসার সুযোগ খুঁজে পাবেন * ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ প্রায় ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রপ্তানি আয় ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে
ঢাকায় ১৫ থেকে ১৭ নভেম্বর 'গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো'

দেশের রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনা, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আকৃষ্ট করা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে দ্বিতীয়বারের মতো 'গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো' আয়োজন করতে যাচ্ছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)। আগামী ১৫ থেকে ১৭ নভেম্বর রাজধানীর পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্রে (বিসিএফইসি) তিন দিনব্যাপী এ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। ইপিবি'র ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত সচিব) মোহাম্মদ হাসান আরিফ গতকাল বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ইপিবি আয়োজিত এ প্রদর্শনীতে দেশি-বিদেশি উৎপাদক, রপ্তানিকারক, আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও বাণিজ্য প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। এতে বিভিন্ন ধরনের পণ্য ও সেবা উৎপাদনে বাংলাদেশের সক্ষমতা তুলে ধরা হবে।

এবারের প্রদর্শনীতে রপ্তানিমুখী ১২টি খাতের ২০০টির বেশি স্টল থাকবে। গত বছর প্রথমবারের আয়োজনে আটটি খাতের পণ্য প্রদর্শিত হয়েছিল। তৈরি পোশাকশিল্পের বাইরে অন্যান্য খাতেও রপ্তানি সম্প্রসারণে সরকারের গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি এ উদ্যোগে প্রতিফলিত হয়েছে।

হাসান আরিফ বলেন, এ প্রদর্শনী বাংলাদেশের উৎপাদকদের সঙ্গে বিদেশি ক্রেতাদের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন, নতুন বাজার অনুসন্ধান এবং দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করবে। বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং জ্বালানি নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের রপ্তানি সম্ভাবনা নিয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, প্রতিকূল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির মধ্যেও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ প্রায় ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রপ্তানি আয় ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। এটি দেশের রপ্তানিকারক ও উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা ও দৃঢ়তার পরিচায়ক।

এ প্রদর্শনীর মাধ্যমে উৎপাদকরা নতুন ব্যবসার সুযোগ খুঁজে পাবেন, অধিক মূল্য সংযোজিত পণ্য তুলে ধরতে পারবেন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। দ্বিতীয়বারের এ আয়োজনে তৈরি পোশাক ও বস্ত্র, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হস্তশিল্প ও পাটজাত পণ্য, প্লাস্টিক পণ্য ও রান্নাঘরের সামগ্রী, আসবাব ও গৃহসজ্জা, ওষুধ, কৃষি ও কৃষিপ্রক্রিয়াজাত পণ্য, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, কাগজ ও মোড়কজাতকরণ, মোটরযান, হালকা প্রকৌশল এবং সিরামিক ও টেবিলওয়্যার খাতের পণ্য প্রদর্শিত হবে।

এ সম্প্রসারিত আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশের শিল্পভিত্তির বৈচিত্র্য তুলে ধরা এবং প্রচলিত রপ্তানি পণ্যের বাইরেও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রথমবারের প্রদর্শনীতে ১২৫টি প্রতিষ্ঠান ১৬৪টি স্টল নিয়ে অংশ নিয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এবার স্টলের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছে ইপিবি।

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা যেখানে সাধারণ ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের জন্যও উন্মুক্ত, সেখানে বৈশ্বিক পণ্য সংগ্রহ প্রদর্শনীটি মূলত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক যোগাযোগ (বি-টু-বি) বাড়ানোর লক্ষ্যে আয়োজন করা হচ্ছে।

এর প্রধান উদ্দেশ্য দেশীয় উৎপাদকদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক আমদানিকারক, পণ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক অংশীদারের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করা। এ প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের পণ্য প্রদর্শন, পণ্যের ধরন ও মূল্য নিয়ে আলোচনা, সরবরাহের ব্যবস্থা নির্ধারণ এবং বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে ব্যবসায়িক সহযোগিতার সুযোগ খুঁজতে পারবে।

এ ছাড়াও, বৈশ্বিক পণ্য সংগ্রহ প্রদর্শনীর পর আগামী ১৮ ও ১৯ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ অ্যাপারেল অ্যান্ড টেক্সটাইল এক্সপোজিশন (ব্যাটেক্সপো)।

হাসান আরিফ বলেন, পরপর দুটি আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর আয়োজনের ফলে বিদেশি ক্রেতারা এক সফরেই বাংলাদেশের একাধিক রপ্তানিমুখী খাত পরিদর্শনের সুযোগ পাবেন। এতে তাদের অংশগ্রহণ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এ ব্যবস্থা ক্রেতাদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, ব্যবসায়িক যোগাযোগ সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের প্রচারমূলক কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে সহায়তা করবে।

বৈশ্বিক পণ্য সংগ্রহ প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া আন্তর্জাতিক ক্রেতারা পরবর্তী সময়ে ব্যাটেক্সপোতে দেশের তৈরি পোশাক ও বস্ত্রশিল্পের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার আগে অন্যান্য উৎপাদন খাতের পণ্যও দেখার সুযোগ পাবেন। একই সফরে একাধিক প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার সুযোগ বিদেশি পণ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্য প্রতিনিধিদের বাংলাদেশ সফরকে আরও সুবিধাজনক করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের অংশগ্রহণ উৎসাহিত করতে নিবন্ধিত বিদেশি প্রতিনিধিদের জন্য আবাসন ও বিমানভাড়ায় বিশেষ সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইপিবি।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত