ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১৯ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ইসলামের নির্দেশনা

মুফতি আইয়ুব নাদীম
সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ইসলামের নির্দেশনা

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ইসলামের শিক্ষা ও নির্দেশনাগুলো খুবই কার্যকর ও বাস্তবমুখী। ইসলাম মানুষের জীবনকে অত্যন্ত মূল্যবান মনে করে এবং যে কোনো ক্ষতি থেকে বাঁচতে নির্দেশনা দেয়। এখানে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ইসলামের আটটি নির্দেশনা তুলে ধরা হলো-

জীবন রক্ষার গুরুত্ব : জীবন রক্ষা করা ইমানি দায়িত্ব। ইচ্ছা করে জীবনকে মৃত্যুর কাছে ঠেলে দেওয়া হারাম। আল্লাহ বলেন, ‘যে একজন মানুষের জীবন রক্ষা করল, সে যেন মানবজাতিকে রক্ষা করল।’ (সুরা মায়িদা : ৩২)। তাই যাপিত জীবনে চলতে-ফিরতে রাস্তায় বেপরোয়া ড্রাইভিং করা থেকে বিরত থাকা অত্যন্ত জরুরি। রাস্তার প্রায় দুর্ঘটনা বেপরোয়া ড্রাইভিংয়ের কারণে হয়।

ধৈর্যশীল হওয়া : ইসলামে ধৈর্য একটি মহৎ গুণ। ধৈর্যশীলদের আল্লাহ ভালোবাসেন। তাদের জন্য আছে আল্লাহর কাছে পুরস্কার। ড্রাইভারদের মধ্যে ধৈর্যের গুণ থাকা অত্যন্ত জরুরি। তাড়াহুড়া প্রায় মানুষের জীবনে বিপদ ডেকে আনে। কোরআনে আছে, ‘আল্লাহ ধৈর্যশীলদের ভালোবাসেন।’ (সুরা আলে ইমরান : ১৪৬)।

নিয়মশৃঙ্খলা মেনে চলা : ইসলাম শৃঙ্খলা পছন্দ করে। নিয়মণ্ডকানুনের আওতায় চলার নাম পরাধীনতা নয়, বরং এটাই প্রকৃত স্বাধীনতা। ইসলামে ট্রাফিক আইন মানা (সিগন্যাল, লেন, গতিসীমা) বাধ্যতামূলক।

অন্যের ক্ষতি না করা : অন্যের সহযোগিতায় আছে জীবনের কল্যাণ। এতে সওয়াব পাওয়া যায়। রাস্তায় গাড়ি চালানোর সময় কারও ক্ষতি করা যাবে না।

অনের সুরক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ক্ষতি করাও যাবে না, ক্ষতি সহ্যও করা যাবে না। যে অন্যের ক্ষতি করল আল্লাহ তার ক্ষতি করবেন। যে তার সঙ্গে শত্রুতা করবে, আল্লাহ তাকে শাস্তি দেবেন।’ (দারাকুতনি : ৩০৭৯)।

আমানত রক্ষা করা : গাড়ি চালানো আমানত বা দায়িত্ব। যাত্রী ও পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা চালকের গুরু দায়িত্ব। এটা তার ওপর আমানত। দায়িত্ব পালনে কোনো রকম অবহেলা করা যাবে না। আমানতের খেয়ানত করা গোনাহ। কোরআনে আছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের আদেশ দিচ্ছেন, তোমরা আমানত তার মালিককে ফেরত দেবে।’ (সুরা নিসা : ৫৮)।

অবৈধ কাজ থেকে বিরত থাকা : অভিযোগ আছে, অনেক ড্রাইভার গাড়ি চালানোর সময় মাদক সেবন করেন। মাদক সেবন করা সর্বাবস্থায় হারাম। গাড়ি চালানোর সময় মাদক সেবন করা আরও বড় অপরাধ।

কারণ, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় অনেক সময় মানুষের জ্ঞান ও বুদ্ধি কাজ করে না। নেশাগ্রস্ত হয়ে গাড়ি চালালে সড়ক দুর্ঘটনার শঙ্কা বেশি থাকে। ইসলামের বিধান ও মানুষের জীবন রক্ষার প্রয়োজনে মাদক সেবন থেকে দূরে থাকতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সব নেশাজাতীয় দ্রব্য মদ আর সব ধরনের মদ হারাম।’ (মুসলিম, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ১৬৭)।

পর্যাপ্ত দক্ষতা অর্জন : দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা ছাড়া গাড়ি চালানো অপরাধ। দক্ষতা ছাড়া গাড়ি চালাতে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও নিষেধ আছে। কাজ করার আগে তা ভালোভাবে শেখে করার কথা বলেছে ইসলাম। অদক্ষতার কারণে প্রায় সময় সড়কে দুর্ঘটনা হয়।

দোয়া করা : যানবাহনে চড়ার আগে দোয়া পড়া নৈতিক দায়িত্ব। এতে নিরাপদ থাকা যায়। যানবাহনে উঠেও কোরআন তেলাওয়াত ও জিকির করা উত্তম। যানবাহনে ওঠার

দোয়া- উচ্চারণ: সুবহানাল্লাজি সাখখারা লানা হাজা, ওয়া মা কুন্না লাহু মুকরিনিন, ওয়া ইন্না ইলা রব্বিনা লামুন কলিবুন।

অর্থ : মহান আল্লাহর পবিত্রতা, যিনি একে (বাহন) আমাদের অধীন করে দিয়েছেন। অথচ আমরা একে অধীন করতে সক্ষম ছিলাম না। আমরা আমাদের প্রতিপালকের কাছে প্রত্যাবর্তনকারী। (মুসলিম : ১৩৪২)।

নৌকা বা জাহাজে ভ্রমণের দোয়া : হজরত মুহাম্মদ (সা.) দোয়া পড়ে নৌকা বা জাহাজে উঠতেন।

দোয়াটি হলো- উচ্চারণ : বিসমিল্লাহি মাজরেহা ওয়া মুরসাহা, ইন্না রাব্বি লাগাফুরুর রহিম।

অর্থ: আল্লাহর নামেই এর গতি ও স্থিতি। আমার পালনকর্তা অতি ক্ষমাপরায়ণ, মেহেরবান। (সুরা হুদ : ৪১)।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত