ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

ইসলামে যা কিছু প্রথম

ফারহান হাসনাত
ইসলামে যা কিছু প্রথম

ইসলামের শেষ নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর সৌরভে বদলেছে পৃথিবীর ইতিহাস। দূর হয়েছে অন্ধকার। সভ্য হয়েছে মানুষ এবং জাতি। তিনি যেখানে গিয়েছেন, সেখানে সভ্যতা ও পবিত্রতার বীজ বপন করেছেন। আলো জ্বালিয়েছেন। তাঁর হাত ধরে ইসলামে নানাবিধ আমল, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও স্থাপনার সূচনা হয়েছে। এখানে কয়েকটি উল্লেখ করা হলো—

প্রথম মুসলিম : খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ (রা.) ছিলেন রাসুল (সা.)-এর প্রথম স্ত্রী। নারী-পুরুষ সবার ভেতর তিনি প্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন। পুত্র ইবরাহিম ছাড়া তিনি নবীজির সব সন্তানের মা হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। নবুওয়াতের আগে রাসুল (সা.) যখন হেরা গুহায় নির্জনে সময় কাটাতেন, সেখানে তিনি খাবার নিয়ে যেতেন। ইসলাম গ্রহণের পর নিজের সমুদয় সম্পদ ইসলামের সেবায় দিয়ে দেন। নবীজির সবচেয়ে কষ্টের দিনগুলোয় তিনি পাশে ছিলেন।

মসজিদে কুবা : রাসুল (সা.)-এর নবুওয়াত লাভের পর মসজিদে কুবা ইসলামের ইতিহাসে নির্মিত প্রথম মসজিদ। তিনি মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করার সময় মদিনার অদূরে কুবায় এ মসজিদ নির্মাণ করেন। মদিনার কুলসুম ইবনে হিদম (রা.)-এর খেজুর শুকানোর জায়গায় হিজরতের প্রথম দিন এ মসজিদের ভিত্তি স্থাপন করা হয়। মসজিদে নববি থেকে চার কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এর অবস্থান। সম্মান ও মর্যাদার দিক থেকে মসজিদুল হারাম, মসজিদে নববির পরেই এর অবস্থান।

আজান : পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের শুরুতে আজান দেওয়া হয়। আজান মানে নামাজের দিকে আহ্বান করা। মুহাম্মদ (সা.)-এর আগে অন্য কোনো নবী-রাসুলের যুগে আজান ছিল না। অধিকাংশ মুহাদ্দিসিনের মতে, প্রথম হিজরিতে মদিনায় আজান প্রবর্তিত হয়। ইবনে হাজারের মতে, দ্বিতীয় হিজরিতে। কারও কারও মতে, হিজরতের আগে মক্কায়।

প্রথম শহিদ : ইসলামের প্রথম শহিদ হলেন সুমাইয়া বিনতে খাইয়াত (রা.)। রাসুল (সা.) নবুওয়াত লাভের পরপরই তিনি ও তাঁর পরিবারের লোকেরা মুসলমান হন। তাঁরা ছিলেন অসহায় ও দারিদ্র। কুরাইশরা তাঁদের ওপর সবসময় অত্যাচার-নির্যাতন করত। কিন্তু সুমাইয়া (রা.) শিরকের পথে ফিরে যাননি। নবুওয়াতের ষষ্ঠ বছর তিনি নির্মমভাবে শহিদ হন।

জুমার নামাজ : প্রথম হিজরিতে জুমার নামাজ ফরজ হয়। রাসুল (সা.) হিজরতকালে কুবায় অবস্থান শেষে শুক্রবারে মদিনায় পৌঁছেন। বনি সালাম গোত্রের উপাত্যকায় যোহর নামাজের সময় হলে জুমার নামাজ আদায় করেন। ইতিহাসে এটিই প্রথম জুমার নামাজ। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে সূচনা হয় আরও পরে।

হিজরি সাল গণনা : ইসলাম আসার আগে আরবে সুনির্দিষ্ট কোনো সন তারিখ ছিল না। প্রসিদ্ধ ঘটনার নামে বছরগুলোর নামকরণ করা হতো। ওমর (রা.)-এর শাসনামলে বহু দূর-দূরান্ত পর্যন্ত নতুন নতুন রাষ্ট্র ও ভূখণ্ড ইসলামের অন্তর্ভুক্ত হয়। রাষ্ট্রের জরুরি কাগজ-পত্রে সন-তারিখের উল্লেখ না থাকায় অসুবিধায় পড়তে হতো। পরে হিজরতের ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মারক বানিয়ে ওমর (রা.) হিজজরি নববর্ষের গোড়াপত্তন করেন। (বুখারি ও আবু দাউদ)

ইসলামি প্রচার কেন্দ্র : ইসলাম আসার পর নবীজি (সা.) তিন বছর গোপনে দাওয়াত দিয়েছেন। ততোদিনে কিছু মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছে। রাসুল (সা.) আরকাম ইবনে আবুল আরকাম (রা.)-এর বাড়িটিকে দ্বীনি দাওয়াত, কোরআন শিক্ষা ও তালিমের জন্য নির্বাচন করেন। সাফা পাহাড়ের কাছেই ছিল তাঁর বাড়িটি। দারুল আরকামই ইসলামের আনুষ্ঠানিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। (সিরাতে খাতামুল আম্বিয়া, ৩৮-৩৯)

খুতবা : রাসুল (সা.) শুক্রবার দিন মদিনায় আগমন করেন। কুবায় মসজিদের ভিত্তি স্থাপন করে মদিনার ভেতরে যাত্রা করেন। বনু সালেম গোত্রের কাছে জোহর নামাজের সময় হলে জুমা আদায় করেন। নামাজের আগে যে খুতবা দিলেন, ইসলামের ইতিহাসে সেটিই প্রথম খুতবা।

প্রথম লিখিত সংবিধান : রাসুল (সা.) মদিনায় অবস্থান করে মুসলমান ও অন্যান্য ধর্মালম্বীদের মধ্যে সম্প্রতি স্থাপন, পরস্পর বিরোধ নিরসন করে একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠনের প্রয়াস পান। এ উদ্দেশ্যে তিনি মদিনায় বসবাসরত সব জাতির জন্য ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে একটি মদিনা সনদ প্রণয়ন করেন। যা বিশ্ব ইতিহাসে মদিনা সনদ নামে পরিচিত।

তারাবি : রমজান মাসের বিশেষ ইবাদত হলো তারাবি নামাজ। রমজানের চাঁদ দেখা গেলে রোজার আগেই তারাবি নামাজ আদায় করতে হয়।

তারাবি অর্থ বিশ্রাম নেওয়া, প্রশান্তি লাভ করা। দ্বিতীয় হিজরিতে রমজানের রোজা ফরজ হলে তারাবি নামাজের প্রচলন শুরু হয়। (আল মাজমুআ : ৬/২৫০)।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত