
চব্বিশের ৫ আগস্টের পর থেকেই বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে সেটি খেলার মাঠ পর্যন্ত গড়িয়েছে। উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের হুমকির মুখে আইপিএল থেকে বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দিতে বাধ্য হয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। এরপর পরিস্থিতি এতটাই জটিল আকার ধারণ করেছে যে, ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়েছে টাইগাররা। এ নিয়ে প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে তুমুল উত্তেজনা বিরাজ করছে। সে উত্তেজনার মধ্যেই বয়সভিত্তিক ফুটবলে ভারতকে পরাজয়ের মালা পড়াল বাংলাদেশ। দারুণ ছন্দে রয়েছে লাল সবুজ দল। ভুটানের জালে এক ডজন গোল দিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে যাত্রা শুরু করেছিল বাংলাদেশ। লাল সবুজের মেয়েদের সেই জয়রথ ছুটছেই। এবার শক্তিশালী ভারতকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় জয় পেয়েছে পিটার বাটলারের দল।
গতকাল সোমবার নেপালের পোখারার রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ জিতেছে ২-০ গোলে। এ জয়ে দুই ম্যাচ থেকে ৬ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে বাংলাদেশ। সমান ম্যাচ খেলে ৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ভারত। এদিন ম্যাচের শুরুতে অবশ্য ভারতকে কিছুটা আক্রমণাত্মক মেজাজে দেখা যায়। নেপালকে ১-০ গোলে হারিয়ে আসা ভারতীয় দলটি প্রথম কোয়ার্টারেই বাংলাদেশের রক্ষণে ভীতি ছড়ায়। তবে গোলরক্ষক ইয়ারজান বেগমের ক্ষিপ্রতায় রক্ষা পায় বাংলাদেশ; দারুণ এক সেভে জাল অক্ষত রাখেন তিনি। প্রাথমিক চাপ সামলে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে গুছিয়ে উঠল বাংলাদেশ। অপির্তা বিশ্বাস সুযোগসন্ধানী শটে দলকে নিলেন এগিয়ে। এরপর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আলপি আক্তার।
ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে জাদা ফের্নান্দেসের ফ্রি কিক অনেকটা লাফিয়ে আটকান তিনি। পরের মিনিটে ফের আক্রমণ শাণায় ভারত। বাম দিক থেকে আসা থ্রু পাস প্রীতিকা বর্মন ধরার আগেই পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে তার পথ আগলে দাঁড়ান ইয়ারজান। তাতে শট নেওয়ার জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়ে। ইয়ারজানের পাশ দিয়ে প্রীতিকা শট নিলেও বল বেরিয়ে যায় দূরের পোস্ট দিয়ে। অষ্টম মিনিটে কোনোমতে পা দিয়ে অন্যটি শট ঠেকিয়ে তিনি আবারও ত্রাতা বাংলাদেশের। ২২তম মিনিটে প্রথম আক্রমণে ওঠে বাংলাদেশ। কিন্তু মামনি চাকমার বক্সে ফেলা বলের নাগাল পাননি সুরভি আকন্দ প্রীতি। তবে এরপর থেকে ভারতের রক্ষণে চাপ বাড়াতে থাকে বাংলাদেশ। সাত মিনিট পর মিলে যায় কাঙ্ক্ষিত গোলও।
মামনি চাকমার ফ্রি কিক ভারতের গোলকিপার
মুন্নির গ্লাভস হয়ে ক্রসবারে লেগে নিচে পড়ে। শেষ মুহূর্তেও পা চালিয়ে তিনি প্রাণান্ত চেষ্টা করেছিলেন বিপদমুক্ত করার, কিন্তু গোলমুখে থাকা বাংলাদেশ অধিনায়ক অপির্তা বিশ্বাস টোকায় খুঁজে নেন জাল। ভুটানকে ১২-০ গোলে হারিয়ে আসর শুরু করা বাংলাদেশ ব্যবধান দ্বিগুণ করে নেয় ৪০তম মিনিটে। ডান দিক থেকে গোলমুখে বাড়ানো সতীর্থের ক্রস দুই ডিফেন্ডারের ফাঁকে থাকা আলপি নিখুঁত টোকায় জালে পাঠান। ৫৬তম মিনিটে মুনকির বাম পায়ের শটে লাফিয়ে আটকে ব্যবধান বাড়তে দেননি গোলকিপার মুন্নি। এরপর বাংলাদেশের আক্রমণের গতি কমে কিছুটা। গোল করার চেয়ে বলের নিয়ন্ত্রণ রেখে দুই গোল আগলে রাখার দিকেই যেন মনোযোগ দেয় দল। ভুটানের জালে এক ডজন গোল দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল বাংলাদেশ।
সে ম্যাচে মুনকি আক্তার একাই করেছিলেন চার গোল, হ্যাটট্রিক পেয়েছিলেন আলপি ও তৃষ্ণা। অন্যদিকে নেপালকে হারিয়ে শুভসূচনা করেছিল ভারত, তবে বাংলাদেশের কাছেই হারের স্বাদ পেতে হলো তাদের। আগামীকাল বুধবার তৃতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক নেপাল। বয়সভিত্তিক এই প্রতিযোগিতা এ পর্যন্ত অনূর্ধ্ব-১৮, ১৯ ও ২০ ক্যাটাগরি মিলিয়ে ছয়বার মাঠে গড়িয়েছে। বাংলাদেশ চারবার এবং ভারত একবার এককভাবে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ২০২৪ সালের আসরে যৌথভাবেও সেরা হয়েছিল বাংলাদেশ ও ভারত।