ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়া ঠিক হয়নি

বললেন কংগ্রেস নেতা শশী থারুর
মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়া ঠিক হয়নি

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর দিনক্ষণ যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই কমছে উত্তেজনা। কারণ, বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়ায় বেঁকে বসেছে পাকিস্তান। তারা বিশ্বকাপ খেললেও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে। এতে নজিরবিহীন সঙ্কটে পড়েছে আইসিসি। বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের এই নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এই পরিস্থিতির শুরুটা হয়েছিল মোস্তাফিজুর রহমানকে দিয়ে। আইপিএল থেকে মোস্তাফিজকে ছেঁটে ফেলার পর ফুঁসে উঠে বাংলাদেশ। নিরাপত্তা উদ্বেগে ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আইসিসির হুমকি-ধামকিতেও কাজ হয়নি। বাংলাদেশ তাদের অবস্থানে অনড় থাকে। শেষ পর্যন্ত টাইগারদের বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করেছে আইসিসি। বাংলাদেশের ন্যায্য দাবির পক্ষে শুরু থেকেই অবস্থান নিয়েছিল পাকিস্তান। এমনকি আইসিসির ভোটাভুটিতে একমাত্র দেশ হিসেবে বাংলাদেশের পক্ষে ভোট দেয় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। পাকিস্তান সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছিল বিশ্বকাপে খেলতে যাবে কি না। পরে সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বিশ্বকাপে বয়কটের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসলেও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। যার ফলে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে আইসিসি এবং সম্প্রচারকদের। পুরো পরিস্থিতি ঘোলাটে করার পেছনে মোস্তাফিজ-ইস্যু এবং ভারতের দায় দেখছেন দেশটির কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার সদস্য শশী থারুর। বার্তা সংস্থা ‘এএনআই’র সঙ্গে আলাপে তিনি বলেন, ‘খোলাখুলি বললে, দুই পক্ষ থেকেই যেভাবে খেলাধুলাকে রাজনীতিকরণ করা হচ্ছে, তা অত্যন্ত লজ্জাজনক।’ মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়া প্রসঙ্গে শশী থারুর বলেন, ‘আমি মনে করি, বাংলাদেশি ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতায় খেলার চুক্তি থেকে বাদ দেওয়া ঠিক হয়নি। এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক।

রাজনীতির অনুপ্রবেশ এখানে স্পষ্ট। আমার মতে, বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়া কিছুটা অতিরঞ্জিত ছিল, তবে সেটিও একই প্রবণতার প্রতিফলন। পাকিস্তান এখন বাংলাদেশের সঙ্গে সংহতি দেখাতে চাইছে।’ তিনি যোগ করেন, ‘পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। আমার মনে হয়, আমাদের সত্যিই বোঝাপড়ায় পৌঁছানো দরকার যে খেলাধুলা-বিশেষ করে ক্রিকেটের মতো একটি খেলা, যা এত মানুষের আবেগের সঙ্গে জড়িত; মানুষকে অন্তত মাঠে একত্র করার মাধ্যম হওয়া উচিত, বিভক্ত করার নয়।’ ‘আমি আন্তরিকভাবে মনে করি, এটি এখন সংশ্লিষ্ট সবার জন্য একটি ‘ওয়েক-আপ কল’। জরুরি ভিত্তিতে পারস্পরিক যোগাযোগ শুরু করা দরকার। আইসিসি এই আলোচনার প্ল্যাটফর্ম হতে পারে। সবাই মিলে বলা উচিত, এই ফালতু কাজগুলো বন্ধ করা যাক। এভাবে চিরকাল চলতে পারে না।’

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত