ঢাকা শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

অঘটন থেকে বাঁচল ইংল্যান্ড

ইতিহাস গড়তে পারল না নেপাল

ইতিহাস গড়তে পারল না নেপাল

শুরুর আগে থকেই আলোচনায় এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং সেই ইস্যুতে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা পাকিস্তানের। এসবই ছিল আলোচনার কারণ। তবে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় দিনে ঘটতে যাচ্ছিল বড় অঘটন। যার জন্ম দিতে যাচ্ছিল নেপাল। ইতিহাস গড়তে হিমালয়ের দেশটির প্রয়োজন ছিল শেষ বলে ছয় রান। ঝড় তুলে দলকে ঐতিহাসিক জয়ের স্বপ্ন দেখানো লোকেশ বাম ছিলেন স্ট্রাইকে। কিন্তু স্যাম কারানের করা লো ফুলটস বলটিতে এক রানের বেশি নিতে পারলেন না তিনি। তাতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য এক জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েও পারল না এশিয়ার দলটি।

কয়েক মাস আগেই টি-টোয়েন্টির দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে এই সংস্করণের সিরিজে হারিয়ে চমক দেখিয়েছিল নেপাল। এবার দুইবারের শিরোপা জয়ী ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও অবিস্মরণীয় জয়ের আশা জাগায় তারা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ১৮৫ রানের লক্ষ্য তাড়ায় হেরে গেল স্রেফ ৪ রানে। শেষ ১৫ বলে নেপালের যখন প্রয়োজন ৩৭ রান, পরপর দুই বলে জফ্রা আর্চারকে ছক্কায় ওড়ান লোকেশ। তাতে সমীকরণ দাঁড়ায় ১২ বলে ২৪ রানের। ১৯তম ওভারে লুক উডকে দুটি চার মেরে লক্ষ্যের কাছে দলকে নিয়ে যান তিনি। কিন্তু শেষ ওভারে কারানের অসাধারণ বোলিংয়ে ১০ রানের সমীকরণ মেলাতে পারেননি লোকেশ। দুই ছক্কা ও চারটি চারে ২০ বলে ৩৯ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। ওই ওভারে একটি বাউন্ডারিও দেননি ইংলিশ অলরাউন্ডার কারান। শেষ বলটি করার পর হুঙ্কার দিয়ে ওঠেন তিনি। তার নৈপুণ্যেই নেপালের বিপক্ষে প্রথমবার খেলতে নেমে অঘটনের শিকার হওয়া থেকে বাঁচে ইংলিশরা। শক্তি-সামর্থ্য ও অভিজ্ঞতায় অনেক পিছিয়ে থাকা নেপালের বিপক্ষে ব্যাটিংটাও আশানুরূপ ছিল না ইংল্যান্ডের। চারটি করে ছক্কা-চারে জেকব বেথেল ৫৫ রান এবং তিনটি ছক্কা ও চারটি চারে হ্যারি ব্রুক ৫৩ রান করেন বটে, কিন্তু শেষ দিকে উইল জ্যাকসের ক্যামিও ইনিংসটিই গড়ে দেয় ব্যবধান। চারটি ছক্কা ও একটি চারে ১৮ বলে ৩৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন জ্যাকস। পরে অফ স্পিনে ২ ওভারে ১৭ রান দিয়ে নেন এক উইকেট। ম্যাচ সেরার পুরস্কার ওঠে তারই হাতে। ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে এদি টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তো বটেই, স্বীকৃত ক্রিকেটে নিজের অভিষেক ম্যাচে প্রথম বলেই ফিল সল্টকে ফিরিয়ে দেন শের মাল্লা। ওভারটি অবশ্য ভালোভাবে শেষ করতে পারেননি নেপালের অফ স্পিনার। তাকে দুটি চার ও একটি ছক্কা মারেন জেকব বেথেল। ভালো শুরুর আভাস দিয়ে পাওয়ার প্লেতে ফিরে যান জস বাটলার। ৫ চারে ২৬ রান করে কট বিহাইন্ড হন ইংলিশ বিস্ফোরক ব্যাটসম্যান। সপ্তম ওভারে টম ব্যান্টনকে এলবিডব্লিউ করে দেন নেপালের ‘পোস্টার বয়’ লেগ স্পিনার সান্দিপ লামিছানে। ৫৭ রানে ৩ উইকেট হারানো ইংল্যান্ডকে পথে রাখেন বেথেল ও হ্যারি ব্রুক। তাদের ব্যাটে দ্রুত আসতে থাকে রান। কুশাল ভুর্তেলকে টানা দুই ছক্কা মারেন বেথেল, দ্বিতীয়টিতে ২৮ বলে স্পর্শ করে ফিফটি। পরের ওভারে লামিছানেকে পরপর দুই বলে চার ও ছক্কা হাঁকান ব্রুক। দিপেন্দ্রা সিং আইরিকে আরেকটি ছক্কায় ওড়ান তিনি। ওই ওভারেই বেথেলের বিদায়ে ভাঙে ৪৫ বলে ৭১ রানের জুটি। কারান পারেননি টিকতে। ১৯তম ওভারে বিদায় নেন ব্রুকও।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত