
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়া নিয়ে কিছু দিন আগেও গুজব রটেছিল। জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক সেসময় দেশ ছাড়েননি। নিজেই জানালেন অস্ট্রেলিয়ায় যাচ্ছেন তিনি। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ দেখিয়ে দেশ ছেড়েছেন বিসিবিপ্রধান। গতকাল সোমবার তিনি অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন বলে নিশ্চিত করেছেন বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজামউদ্দিন চৌধুরী। বিসিবি সিইও বলেন, ‘বুলবুল ভাই পারিবারিক কারণে দেশের বাইরে গিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ায় তার পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়ে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তিনি ফিরে আসবেন বলে আশা করছি। ‘আপনারা তো প্রতিদিন সন্ধ্যায় বাসায় ফেরেন, বোর্ড পরিচালকরা সবাই বাসায় ফেরে, পরিবারের সঙ্গে থাকেন, আমি তো পরিবারকে দেখতে পাই না,’ ফোনে বললেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। দেশের ক্রিকেট আঙিনায় সোমবার দুপুর থেকেই খবর ছড়িয়ে পড়ে, অস্ট্রেলিয়ায় যাচ্ছেন বোর্ড প্রধান। তিনি নিজেই সেটির সত্যতা নিশ্চিত করে বললেন, পারিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে যাচ্ছেন। দেশে ফিরে মেয়াদের পূর্ণ করার প্রত্যয়ও শোনালেন দেশের সাবেক এই অধিনায়ক। আমিনুলের পরিবার অনেক বছর ধরেই থিতু মেলবোর্নে। আইসিসিতে চাকরি করার সময় তিনি মেলবোর্ন থেকেই ছুটোছুটি করতেন ক্রিকেট বিশ্বের নানা প্রান্তে। বিসিবি সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি ঢাকাতেই থাকছেন মূলত।
গতকাল সোমবার সকালে বিসিবি পরিচালকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বার্তা দিয়ে সভাপতি জানান, জরুরি পারিবারিক প্রয়োজনে তিনি মেলবোর্নে যাচ্ছেন এবং ফিরে আসবেন শিগগিরই। তার দেশ ছাড়ার খবর দেশের ক্রিকেটে ছড়িয়ে পড়ে দাবানলের মতো। তিনি একেবারেই বিদায় নিলেন কি না, এমন প্রশ্নও ভেসে বেড়াতে থাকে। তবে বিকেলে বিসিবি সভাপতি বললেন, স্রেফ পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে কিছু দিনের জন্য যাচ্ছেন তিনি। রোজা শুরু হচ্ছে, পরিবারকে দেখি না আড়াই মাস ধরে। দুটো ছেলে আছে আমার, স্ত্রী আছে। একটু বাসায় যাচ্ছি। আমি তো প্রেসিডেন্ট, আমার তো ছুটি নেওয়ার কিছু নেই। আমি সবসময় অনলাইনে থাকি, কাজ করি। এই ব্যাপারটাকে কেন অন্য দিকে ঘোরানোর চেষ্টা করছে মানুষ, জানি না। যাহোক, আমি আমার বাড়িতে যাচ্ছি কয়েক দিনের জন্য। পরিবারের সঙ্গে থেকে আবার চলে আসব।’ বুলবুল বলেন, ‘অন্যদিকে ঘোরানোর’ ব্যাপারটি ছড়িয়ে পড়েছে মূলত জাতীয় নির্বাচনের পরপরই তিনি অস্ট্রেলিয়ায় যাচ্ছেন বলে। গত মে মাসের শেষ দিকে চমকপ্রদ পালাবদলে ফারুক আহমেদের জায়গায় বিসিবি সভাপতির দায়িত্ব পান আমিনুল। এরপর অক্টোবরের শুরুতে নির্বাচিত সভাপতি হিসেবেই তিনি দায়িত্ব নেন। তবে সেই নির্বাচন জন্ম দেয় নানা বিতর্ক আর প্রশ্নের। তিনি সভাপতি হন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়, বেশির ভাগ পরিচালকও বোর্ডে আসেন একইভাবে।
জাতীয় নির্বাচনে জিতে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিসিবির এই কমিটি টিকবে কি না, সভাপতি হিসেবে আমিনুলকে রাখা হবে কি না, এসব প্রশ্ন জোরালভাবেই ঘুরছে ক্রিকেট মহলে। তবে আমিনুলও জোর দিয়েই জানালেন, মেয়াদের পুরোটাই থাকবেন তিনি। ‘যেদিকে টার্ন করানোর চেষ্টা করছে মানুষ, এগুলো কিছুই না, জিরো পারসেন্টও নয়। কেন ফিরব না? আমি তো ৪ বছরের জন্য নির্বাচিত সভাপতি। ইনশাআল্লাহ টার্ম পূরণ করব। স্রেফ কয়েকদিনের জন্য যাচ্ছি। আর প্রেসিডেন্টকে ছুটি নিতে হয় নাকি কখনও? আমি অনলাইনে আছি, বোর্ড পরিচালকদের সঙ্গে ভালো যোগাযোগ আছে। মাত্র কয়েক দিনের জন্য যাচ্ছি।’ বিসিবির এই নির্বাচন প্রক্রিয়ার পুরো সময়টাতেই সেই সময়ের ক্রীড়া উপদেষ্টা প্রবল প্রভাব বিস্তার করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে বারবার। ‘নির্বাচন ফিক্সিংয়ের’ অভিযোগে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল। নির্বাচনে ‘সরকারে নগ্ন হস্তক্ষেপ’, নানারকম ‘অনিয়ম ও স্বেচ্ছারিতার’ অভিযোগ তুলে সরে দাঁড়ান মোট ২১ প্রার্থী। নির্বাচনের আগেই পরিচালক পদ পাওয়া নিশ্চিত হয়ে যায় ৯ জনের।
ক্লাব ক্যাটাগরির ১২ পরিচালকের লড়াইয়ে শুরুতে ৩০ জন থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা নেমে আসে ১৫ জনে। ক্রীড়া উপদেষ্টার সাজানো ছকেই নির্বাচন হয়েছে, এমন অভিযোগ উঠেছে বিস্তর। এই বোর্ডকে ‘অবৈধ’ দাবি করে গত ৮ অক্টোবর থেকে সবধরনের ক্রিকেট কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে ঢাকার ৪৫টি ক্লাব।