ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

এএফসি নারী এশিয়ান কাপ

অভিষেকেই চীনের মুখোমুখি বাংলাদেশ

অভিষেকেই চীনের মুখোমুখি বাংলাদেশ

এশিয়ান ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চ এএফসি এশিয়ান কাপ। এই মঞ্চে আগেই অভিষেক হয়েছে বাংলাদেশ পুরুষ ফুটবল দলের। তবে সেটি অনেক আগের কথা। চার দশক পর আবারও এশিয়ার মঞ্চে বাংলাদেশের ফুটবল। আগের ছেলেরা খেললেও এবার সেই মঞ্চে লাল-সবুজের মেয়েরা। বড় মঞ্চে আফঈদা খন্দকার, ঋতুপর্ণাদের প্রথম প্রতিপক্ষ নয়বারের চ্যাম্পিয়ন চীন। আজ বাংলাদেশ সময় দুপুর দুইটায় সিডনির ওয়েস্টার্ন স্টেডিয়ামে শুরু হবে ম্যাচটি। সিডনি থেকে ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে টি স্পোর্টস। গত বছরের জুলাইয়ে বাছাই পর্বে স্বাগতিক মিয়ানমারকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো নারী এশিয়ান কাপের মূলপর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে বাংলাদেশ। সে সময় ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ৭৩ ধাপ এগিয়ে থাকা দলকে হারানো ছিল অবিশ্বাস্য ঘটনা। বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলারের কাছেও যা ছিল ধারনাতীত।

মিয়ানমারের মেয়েদের হারানো কতটা কঠিন কাজ ছিল এবং সেটির মাহাত্ম্য কতটা বেশি তা বোঝাতে বাটলার বলেন, ‘আমরা অনেকটা ‘সিংহের গুহায়’ গিয়ে খেলছিলাম।’ সেই বাংলাদেশ দল এখন অবস্থান করছে অস্ট্রেলিয়ায়। এএফসি নারী এশিয়ান কাপে আজ বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ। এই ম্যাচের আগে দলের বর্তমান অবস্থান আর আগের অবস্থান মনে করে বাটলার বলেন, ‘গুলিস্তানের ক্যাম্প থেকে বাংলাদেশ দল এখন অস্ট্রেলিয়ায়।’ গুলিস্তানে যদিও বাংলাদেশ নারী দল কোনো ক্যাম্প করে না। মতিঝিলের বাফুফে ভবনের চার তলায় ক্যাম্পকে বোঝাতে চেয়েছেন হয়ত।

এছাড়া দেশে থাকতে পল্টনের জাতীয় স্টেডিয়াম অনুশীলন করে বাংলাদেশ। স্টেডিয়াম এলাকা অনেকের কাছেই পরিচিত গুলিস্তান হিসেবে। আফঈদা, মনিকারা এখন অনুশীলন করছেন সিডনির জুবিলি স্টেডিয়ামে। ছবির মতো সুন্দর এই মাঠ দেখে বাংলাদেশের মেয়েরা অভিভূত। এমনকি বাংলাদেশ দলের ব্রিটিশ কোচও অস্ট্রেলিয়ার ট্রেনিং মাঠ দেখে জানিয়েছেন তিনি ‘ইউরোপ’ অনুভব করছেন। প্রথমবারের মতো এই আসরে খেলা বাংলাদেশ দলের উপর প্রত্যাশার চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছেন না পিটার বাটলার। বাস্তবতায় পা রেখে নিজেদের সেরা খেলাটা বের করে আনতে চান তিনি। এটা এমন একটা টুর্নামেন্ট যা বাংলাদেশের মেয়েদের জন্য বিশ্বকাপের সমতুল্য। বাটলার বলেন, ‘এটি আমাদের মেয়েদের জন্য অনেকটা বিশ্বকাপের মতো। আপনি যদি নিয়মিত এই পর্যায়ে খেলতে চান, তবে আপনার দিকে যেসব চ্যালেঞ্জ আসবে সেগুলোর সঙ্গে আপনাকে মানিয়ে নিতে হবে এবং মোকাবিলা করতে হবে।’

‘শুধু মনে করি মাঠে গিয়ে আমাদের নিজেদের খেলাটা খেলতে হবে। আমি বড় কোনো আকাশ কুসুম স্বপ্ন দেখছি না। আমি এই পেশায় অনেক দিন ধরে আছি। অনেক মহাদেশে কাজ করেছি। তবে আমি বিশ্বাস করি মাঝেমধ্যে অদ্ভুত বা অলৌকিক কিছু ঘটে যেতে পারে।’

বাটলার শক্তিশালী চীনের বিপক্ষে দলের অলৌকিকতা দেখার অপেক্ষায়। একই সঙ্গে নিজেদের দুর্বলও ভাবছেন না তিনি। প্রতিপক্ষ শক্তিশালী বলে যে পুরোপুরি রক্ষণাত্মক হয়ে খেলবে বাংলাদেশ সেটিও ভাবছেন না ব্রিটিশ কোচ। বলেন, ‘আমাদের একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকবে। হার, জিত বা ড্র, যা-ই হোক না কেন, আমি যেভাবে চাই দল সেভাবেই খেলবে। ফলাফল যাই হোক না কেন, আমরা রক্ষণাত্মক হয়ে ‘বাস পার্ক’ করার মতো দল নই। আমার মনে হয় আন্তে (চীনের কোচ) আমাদের খেলার ধরন এবং আমার কাজ করার পদ্ধতি সম্পর্কে যথেষ্ট জানেন। তাদের প্রতি আমার সর্বোচ্চ সম্মান রয়েছে। সব মিলিয়ে এটি একটি অত্যন্ত কঠিন ম্যাচ হতে যাচ্ছে।’

এই প্রতিযোগিতার রেকর্ড ৯ বারের চ্যাম্পিয়ন চীন। সিডনিতে দলটি নোঙর ফেলেছে মুকুট ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে তারা ১৭তম, এশিয়ার দলগুলোর মধ্যে চতুর্থ। ১৯৯৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলার অভিজ্ঞতাও আছে চীনের। সেখানে বাংলাদেশ এই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে নিচের র‌্যাঙ্কধারী (১১২তম) দল! তবে ঐতিহ্যে ও শক্তিতে যোজন যোজন এগিয়ে থাকা চীনের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে ভীত নন আফঈদা। হাল না ছেড়ে, লড়াকু ফুটবল উপহার দিতে চান অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার।

তার কথা, ‘চীন সব দিক দিয়েই ভালো। এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন এবং শক্তিশালী দল হিসেবে তারা খেলছে। চীনের সঙ্গে খেলতে পারাটাও আমাদের জন্য একটা সৌভাগ্যের ব্যাপার যে, চ্যাম্পিয়ন দলের সঙ্গে আমরা খেলব। এ থেকে আমরা অনেক কিছু শিখব। তবে, তারা ভালো দল বলে অবশ্যই মাঠের লড়াই ছেড়ে দেব না। আমরা অবশ্যই লড়াই করব। ইনশাআল্লাহ, ভালো কিছু হবে।’

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত