
আসন্ন বাংলাদেশ সফর ঘিরে দোলাচলে পাকিস্তান। আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তিন ম্যাচের একদিনের সিরিজের ভবিষ্যৎ এখনও নিশ্চিত নয়। একই সঙ্গে আসন্ন সিরিজকে সামনে রেখে দলে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে এমন তথ্যই প্রকাশ করেছে পাকিস্তানের জিও সুপার টিভি। বর্তমান পরিস্থিতি ভ্রমণঝুঁকি বা নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ালে সফর স্থগিতও হতে পারে। এমনটাই বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে বিসিবির দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, সিরিজটি সূচি অনুযায়ী চলবে ধরে নিয়েই এখন পর্যন্ত দুই ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে আলোচনা চলছে। বাংলাদেশে আসার সম্ভাব্য ফ্লাইট কোনটি হলে ভালো হয়, পিসিবি সে বিষয়ে এখন কাজ করছে বলে জানায় বিসিবির এই সূত্র। গত ২০ ফেব্রুয়ারি বিসিবির ঘোষণা করা সূচি অনুযায়ী, ৯ মার্চ ঢাকায় পৌঁছাবে পাকিস্তান ক্রিকেট দল। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওয়ানডে সিরিজের তিনটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে যথাক্রমে ১১, ১৩ ও ১৫ মার্চ। পরদিন পাকিস্তান দলের ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার কথা। বিসিবি সূত্র বলছে, কাছাকাছি সময়ে ঈদুল ফিতর থাকায় পাকিস্তান দলের ফেরার দিনক্ষণ নিয়ে ভাবছে পিসিবি। বর্তমানে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে এবং ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যে পাল্টাপাল্টি হামলায় অস্থিরতা ও আতঙ্কাবস্থা বিরাজ করছে। জিও সুপার জানিয়েছে, আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে পাকিস্তানের বাংলাদেশ সফরটি এখন অনিশ্চিত। সিরিজ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, ভ্রমণঝুঁকি বা নিরাপত্তাসংক্রান্ত শঙ্কা না বাড়লে তবেই সিরিজটি আয়োজন করা হবে। এই সিরিজের দল নিয়ে শিগগিরই পিসিবিতে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা। দক্ষিণ আফ্রিকা, নামিবিয়া ও জিম্বাবুয়েতে অনুষ্ঠেয় ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে এখন মনোযোগ পাকিস্তান দলের। জিও সুপারকে সূত্রের দাবি, নির্বাচক কমিটি দলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। খারাপ ফর্মে থাকা বাবর আজম, সাইম আইয়ুব ও মোহাম্মদ নেওয়াজদের বাদ দিয়ে তরুণদের সুযোগ দেওয়া হতে পারে। গত বছরের নভেম্বরে সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজ খেলেছে পাকিস্তান দল। ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজটিতে সালমান আগার দল জিতেছিল ৩-০ ব্যবধানে।
সূত্রের দাবি, ধারাবাহিকভাবে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ প্রথম সারির কয়েকজন ক্রিকেটারের জায়গায় তরুণদের সুযোগ দেওয়া হতে পারে। আলোচনায় আছে বাবর আজম, সাইম আইয়ুব ও মোহাম্মদ নওয়াজের মতো নামও। নতুনদের ঢুকিয়ে দলকে পুনর্গঠনের পথে হাঁটতে চায় বোর্ড। তাৎক্ষণিকভাবে টি-টোয়েন্টি সূচি না থাকায় ছোট সংস্করণের দলে দ্রুত পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। তবে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের স্কোয়াড থেকে পাঁচণ্ডছয়জন ক্রিকেটারকে ধাপে ধাপে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। সবশেষ একদিনের সিরিজ খেলেছিল পাকিস্তান গত বছরের নভেম্বরে, ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। তিন ম্যাচের সিরিজে শ্রীলঙ্কাকে হোয়াইটওয়াশ করেছিল তারা।