
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) কমিটির প্রতিবেদনকে ত্রুটিপূর্ণ, খামখেয়ালী এবং আইনত অগ্রহণযোগ্য উল্লেখ করে নিজেকেই বিসিবির একমাত্র বৈধ সভাপতি দাবি করেছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। গত ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বিসিবি নির্বাচনে কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগও দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন সাবেক এই অধিনায়ক। নির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে অ্যাডহক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তকে ‘সাংবিধানিক অভ্যুত্থান’ বলে আখ্যায়িত করে আইসিসিকে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
গত মঙ্গলবার রাতে নিজের স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি গণমাধ্যমে পাঠান আমিনুল। সেখানে নিজের অবস্থান পরিস্কার করেন তিনি। গত মঙ্গলবার দুপুরে যখন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ বোর্ড ভেঙে অ্যাডহক কমিটি ঘোষণা করে তখন বোর্ডে নিজের রুমেই ছিলেন আমিনুল। এরপর দ্রুত বেরিয়ে যান। তাৎক্ষণিকভাবে তার প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলেও মুখ খুলতে রাজী হননি। রাতে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিজের ক্ষোভ উগড়ে দেন আমিনুল। বিসিবির নির্বাচন নিয়ে তদন্ত করার এখতিয়ার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নেই দাবি করে তিনি বলেছেন, ‘বিসিবির মতো একটি স্বায়ত্তশাসিত ও স্বশাসিত ফেডারেশনের একটি সমাপ্ত নির্বাচনি প্রক্রিয়া তদন্ত করার কোনো এখতিয়ার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নেই। আইসিসির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, সদস্য বোর্ডগুলোকে অবশ্যই সরকারি হস্তক্ষেপমুক্তভাবে কাজ করতে হবে। প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের উদ্যোগে শুরু হওয়া এনএসসির এই তদন্ত একটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপ, কোনো আইনি প্রক্রিয়া নয়। এখতিয়ার বহির্ভূত হওয়ায় প্রতিবেদনটি বাতিল।’
অ্যাডহক কমিটি নিয়ে তার অবস্থানও স্পষ্ট, ‘তামিম ইকবালের নেতৃত্বে ‘অ্যাডহক কমিটি’ চাপিয়ে দেওয়া একটি সাংবিধানিক অভ্যুত্থান। এই পদক্ষেপটি অবৈধ, বিসিবি গঠনতন্ত্রে এখতিয়ার বহির্ভূত এবং সরকারি হস্তক্ষেপ সংক্রান্ত আইসিসির নিয়মের সরাসরি লঙ্ঘন। এনএসসি অধ্যাদেশে সংজ্ঞায়িত চরম পরিস্থিতি ব্যতীত কোনো নির্বাচিত সংস্থাকে বিলুপ্ত করার ক্ষমতা এনএসসির নেই, যার কোনোটিই এখানে বিদ্যমান নেই। ‘অ্যাডহক কমিটি’ একটি অবৈধ সত্তা।’
‘আমরা এই কমিটির কর্তৃত্ব স্বীকার করি না। আইসিসিকে অবিলম্বে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এবং এই অবৈধ সংস্থাকে কাজ করতে না দেওয়ার জন্য আহ্বান জানাই আমরা’, যোগ করেন তিনি। বাংলাদেশ ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি এবং তরুণ ক্রিকেটারদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তায় আমিনুল। এজন্য আইসিসির হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি, ‘আমরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) আমাদের নির্বাচিত বোর্ডের পবিত্রতা রক্ষায় অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানাচ্ছি। ‘অ্যাডহক কমিটি অবৈধ। তদন্ত প্রতিবেদনটিও অবৈধ। সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী এবং একজন ঊর্ধ্বতন সিআইডি কর্মকর্তাসহ একটি নিরপেক্ষ তিন সদস্যের কমিশন দ্বারা পরিচালিত ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবরের নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে পরবর্তীতে কোনো সরকারি সংস্থা প্রশ্ন তুলতে পারে না। আমিনুল দাবি করেন, ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বিসিবি নির্বাচন সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও বৈধ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়েছে। এজন্য নিজেকেই বিসিবির একমাত্র বৈধ সভাপতি হিসেবে তার, ‘হাইকোর্ট অন্য কোনো রায় না দেওয়া পর্যন্ত আমিনুল ইসলাম বুলবুলই বিসিবির একমাত্র বৈধ সভাপতি থাকবেন।’ উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৫ সালের নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বুলবুলের নেতৃত্বাধীন পর্ষদ ভেঙে দেয় এনএসসি। একই সঙ্গে বোর্ডের কার্যক্রম পরিচালনা এবং নতুন নির্বাচনের লক্ষ্যে তামিম ইকবালকে প্রধান করে তিন মাসের ম্যান্ডেটসহ ১১ সদস্যের একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়। এরপরই সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিজের শক্ত অবস্থানের কথা জানান বুলবুল।