
গত বেশ কিছু দিন ধরে জাতীয় নারী দলের কোচ পিটার বাটলার একটা অ্যাসাইনমেন্ট শেষ হতেই ছুটির ইঙ্গিত দিয়েছেন। দেশে ফিরে গিয়ে নতুন করে ভাববার কথাও বলেছেন। কিন্তু তার এই কথা শুধুই যে, দলের ব্যর্থতা লুকানোর জন্য- তা বলেই দেওয়া যায়। সিডনিতে ঋতুপর্ণাদের ব্যর্থতা ঢাকতে ছুটির পাশাপাশি কোচিং নিয়ে নতুন করে চিন্তা করার কথা বলেছিলেন। এবারও থাইল্যান্ডে এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ চূড়ান্ত পর্ব থেকে রিক্ত হস্তে ফেরার পর ছুটির কথা এসেছে!
অল্প সময়ের ব্যবধানে দুটি এশিয়ান কাপের মূল পর্বে পৌঁছানোর পর বাটলারের বাংলাদেশ নিয়ে উপলব্ধিটা হচ্ছে, ‘আমি নিরলসভাবে কাজ করেছি, কিন্তু আমাদের সেই মানের খেলোয়াড় নেই। আবার যোগ্যতা অর্জন করতে হয়তো অনেক সময় লেগে যেতে পারে।’ এরপর অন্যদের সঙ্গে নিজেদের ব্যবধানটা তুলে ধরলেন এভাবে, ‘আমাদের মেয়েরা অবশ্যই ভালো। তবে আমরা খেলেছি ভিয়েতনাম (ফিফা র্যাংকিং ৩৩), থাইল্যান্ড (৫০) ও চীনের (১৭) মতো শক্তিশালী দলের সঙ্গে। তারপরও কোনো অজুহাত দিতে চাই না, আমরা যথেষ্ট ভালো ছিলাম না।’ অনেক কিছুই এখানে তার মনের মতো হয়নি। তাই খানিকটা বিরক্ত হয়েই যেন সংবাদমাধ্যমকে আগেই বলেছিলেন, ‘আমার একটু বিশ্রাম দরকার। আমি অনেক বেশি কাজ করেছি। আমার বিশ্বাস, মেয়েদের ফুটবলের কিছুটা উন্নতি করতে পেরেছি। হয়তো এখন আমার যুক্তরাজ্যে ফিরে যাওয়ার সময় এসেছে। দেখুন, সাফল্য আর শেখা হাতে হাত ধরে চলতে হয়। আমি যে পথচলা ও কোচিং প্রোগ্রাম শুরু করেছি, সেটা চালিয়ে যেতে হবে। তবে সামনে কী হবে নিশ্চিত নই। সমর্থন না পেলে আমাকে হয়তো চলে যেতে হবে।‘ তবে ছুটি কিংবা চলে যাওয়ার ইঙ্গিত দিলেও আদতে বাটলার ঢাকাতেই আছেন। গতকাল বুধবার থাইল্যান্ড থেকে দল ফিরেছে। খেলোয়াড়েরা ছুটি কাটাতে গেলেও ইংলিশ কোচ ঢাকাতেই অবস্থান করছেন। মে মাসে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ রয়েছে। আজ-কালের মধ্যে সেই দল নিয়ে অনুশীলনে নামতে হচ্ছে। তাই বাটলারের ছুটি নেই।
জাতীয় নারী দলের ম্যানেজার খালিদ মাহমুদ নওমি বলেছেন, ‘কোচ বাটলার ঢাকায় আছেন, সাফের খেলা রয়েছে। শিগগিরই তার অধীনে মাঠের অনুশীলন শুরু হবে।’ জানা গেছে, সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ শেষে ইংলিশ কোচের ছুটি মিলতে পারে। দেশে ফেরার সুযোগও থাকছে।