
পারফরম্যান্স, শক্তিমত্তা, দর্শক-সবকিছুর বিচারেই পিছিয়ে ছিল প্যারাগুয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলতে নেমে প্রথম যেন তার প্রমাণ দিল দলটি। ভুল থেকে পাওয়া গোলের পর ম্যাচের শেষ পর্যন্ত দাপট দেখিয়ে স্বপ্নের মতো সূচনা হলো যুক্তরাষ্ট্রের। সপ্তম মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার পর আর পেছনে তাকাতে হলো না তাদের। গতিময় আক্রমণাত্মক ফুটবলে আরও দুই গোল করে প্রথমার্ধে চালকের আসনে বসে গেল বিশ্বকাপের সহ-আয়োজকরা। দ্বিতীয়ার্ধে প্যারাগুয়ে একটু লড়াই করলেও সহজ জয়ই পেল মাওরিসিও পচেত্তিনোর দল। বাংলাদেশ সময় গতকাল শনিবার সকালে ‘ডি’ গ্রুপের ম্যাচে ৪-১ গোলে জিতেছে যুক্তরাষ্ট্র। জোড়া গোল করেছেন ফোলারান বালোগান, একটি জিওভানি রেইনা, অন্যটি আত্মঘাতী।
১৯৩০ আসরের পর এই প্রথম বিশ্বকাপে মুখোমুখি হলো যুক্তরাষ্ট্র ও প্যারাগুয়ে। সেবার বার্ট প্যাটেনডের হ্যাটট্রিকে ৩-০ গোলে জিতেছিল যুক্তরাষ্ট্র। প্যাটেনডের ওই কীর্তির পর এবারই প্রথম বিশ্ব আসরে কোনো ম্যাচে একাধিক গোল পেলেন দেশটির কোনো ফুটবলার। ক্যালিফোর্নিয়ার সোফি স্টেডিয়ামে যুক্তরাষ্ট্রের শুরুটা হয় দারুণ। দামিয়ান বোবাদিয়ার আত্মঘাতী গোলে সপ্তম মিনিটেই এগিয়ে যায় বিশ্বকাপের সহ-আয়োজকরা। পায়ের দারুণ কারিকুরিতে তিন জনকে এড়িয়ে ক্রিস্টিয়ান পুলিসিক খুঁজে নেন ওয়েস্টন ম্যাককনিকে। তার শট ছুটে আসা প্যারাগুয়ে মিডফিল্ডার বোবাদিয়ার পায়ে লেগে দিক পাল্টে জড়ায় জালে!
এগিয়ে যাওয়ার পর আক্রমণাত্মক ফুটবলে প্যারাগুয়ের রক্ষণে প্রবল চাপ তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্র। পরের কিছুক্ষণ পুলিসিক, ম্যাককেনিদের কোনোমতে ঠেকিয়ে রাখে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা লাতিন আমেরিকার দেশটি। ২৮তম মিনিটে প্যারাগুয়ের জালে বল পাঠান বালোগান। অফসাইডের জন্য মেলেনি গোল। তবে গোলের জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি বালোগানের। ৩১তম মিনিটে পুলিসিকের নিখুঁত ক্রসে পেনাল্টি স্পটের কাছ থেকে জাল খুঁজে নেন মোনাকো ফরোয়ার্ড।
যোগ করা সময়ের চমৎকার ফিনিশিংয়ে স্কোর লাইন ৩-০ করে ফেলেন বালোগান।
মালিক টিলমানের রক্ষণ চেরা পাস পেয়ে সঙ্গে লেগে থাকা ডিফেন্ডারের চ্যালেঞ্জ এড়িয়ে বল নিয়ন্ত্রণে রাখেন তিনি। পরে ঠাণ্ডা মাথার বাঁকানো শটে খুঁজে নেন জাল। দেশের হয়ে বালোগানের এটি ১১তম গোল। দ্বিতীয়ার্ধে আর মাঠে নামেননি পুলিসিক।
তাতেও যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণের ধার খুব একটা কমেনি। সুযোগ তৈরি করতে থাকে স্বাগতিকরা। খেলার ধারার বিপরীতে ৭৩তম মিনিটে ব্যবধান কমায় প্যারাগুয়ে। হুলিও এন্সিসকোর কাছ থেকে জাল খুঁজে নেন মাওরিসিও।
যোগ করা সময়ের সপ্তম মিনিটে বল পায়ে ডি বক্সে ঢুকে দূরের পোস্ট দিয়ে জাল খুঁজে নেন রেইনা। ২৬ পাসের যোগ ফলে হওয়া ওই গোলই ম্যাচের শেষ শট।