ঢাকা মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলায় নেইমারের মানবিক সহায়তা

ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলায় নেইমারের মানবিক সহায়তা

মাঠে যখন প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের কড়া পাহারা আর চোটের সাথে এক নির্মম লড়াই চলে, তখন মাঠের বাইরে চলে আরেক অন্যরকম যুদ্ধ। ২০২৬ বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্রাজিলের জার্সি গায়ে চেনা ছন্দে ফেরার জন্য যখন চোটের সাথে লড়ছেন নেইমার জুনিয়র, ঠিক তখনই তার হৃদয় কেঁদে উঠল প্রতিবেশী দেশ ভেনেজুয়েলার এক চরম আর্তনাদে। চোটের কারণে বিশ্বকাপের প্রথম দুটো ম্যাচ গ্যালারিতে বসে কাটিয়েন। কিন্তু সেই ব্যক্তিগত কষ্টের চেয়েও বড় হয়ে উঠল এক মানবিক বিপর্যয়। উত্তর ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা ৭.৫ ও ৭.২ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে যখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হলো হাজারো স্বপ্ন, ১ হাজার ৪৩০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহীন দেহ আর হাজার হাজার পরিবারের কান্নায় যখন বাতাস ভারী হয়ে উঠল, তখন দূর থেকেই সেই আর্তনাদ ছুঁয়ে গেল সাম্বা জাদুকর নেইমারকে। জরুরি উদ্ধার ও মানবিক সহায়তার জন্য নিজের তহবিল থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলারের বিশাল অনুদান।

যখন তার নিজের পায়ে ব্যান্ডেজ, যখন লাখো ভক্তের প্রত্যাশার চাপ তার কাঁধে, তখন তিনি ভাবছিলেন ভেনেজুয়েলার সেইসব শিশুদের কথা যারা ঘর হারিয়েছে, সেই পরিবারগুলোর কথা যাদের মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও কেড়ে নিয়েছে প্রকৃতি। ভেনেজুয়েলার সংবাদমাধ্যম এল সুমারিও ডটকমের মাধ্যমে নেইমার এক বার্তা পাঠিয়েছেন, ‘ভেনেজুয়েলার মানুষের প্রতি আমার হৃদয় থেকে সমবেদনা রইল। আমি আশা করি, আমার এই সামান্য সহায়তা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য কিছুটা হলেও শক্তি ও স্বস্তি বয়ে আনবে।’

এই অর্থ কেবল কিছু ডলার বা সংখ্যা নয়, এটি ক্ষুধার্তের মুখে এক মুঠো অন্ন, তৃষ্ণার্তের জন্য বিশুদ্ধ জল, আর আহতদের জন্য একটুখানি বাঁচার ওষুধ। নেইমারের এই মহানুভবতার মাঝেই ভেনেজুয়েলার বুক থেকে উঠে এল এক অলৌকিক চকমক। ধ্বংসস্তূপের নিচে যখন জীবনের আশা ফুরিয়ে আসছিল, তখন দমকলকর্মীরা উদ্ধারকাজ শেষ করে চলে যাওয়ার মুহূর্তে শুনতে পেলেন এক ক্ষীণ ঘেউ ঘেউ শব্দ।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত