ঢাকা সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

রোনালদো নাকি ইয়ামাল, কে যাচ্ছে কোয়ার্টার ফাইনালে

রোনালদো নাকি ইয়ামাল, কে যাচ্ছে কোয়ার্টার ফাইনালে

এক বছরের একটু বেশি সময় পর, ফের মুখোমুখি স্পেন-পর্তুগাল। সেবার ছিল নেশন্স লিগে; এবারের মঞ্চ আরও বড়, বিশ্বকাপে। জার্মানির সেই অভিজ্ঞতা তেতো স্পেনের জন্য; নেশন্স লিগের ফাইনালে টাইব্রেকারে হেরেছিল লা ফুয়েন্তের দল। ডালাসের ম্যাচটি লুইস দে লা ফুয়েন্তের দলের জন্য তাই প্রতিশোধের উপলক্ষ্যই। উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে বাংলাদেশ সময় আজ রাত ১টায় মুখোমুখি হবে দুই দল। স্পেন ও পর্তুগালের হিসেবটা দলীয় লড়াই। এর অন্দরে চলবে আরও অনেক দ্বৈরথ। এক প্রজন্মের শেষের নায়ক ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর মুখোমুখি হবেন নতুন প্রজন্মের শুরুর প্রতিনিধি লামিন ইয়ামাল।

নেশন্স লিগের ফাইনালেও দেখা হয়েছিল দুই প্রজন্মের প্রতিনিধির। নির্ধারিত সময়ের খেলা ২-২ ড্রয়ে শেষ হওয়ার পর টাইব্রেকারে ৫-৪ গোলে জিতেছিল রোনালদোর পর্তুগাল। ইয়ামালের স্পেন হারিয়েছিল মুকুট। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে, স্পেন অবশ্য গুছিয়ে নিয়েছে নিজেদের। টানা ৩৪ ম্যাচ অপরাজিত থাকার আত্মবিশ্বাস এখন সঙ্গী তাদের। বল পায়ে সাবলীলতা, ফাঁকা জায়গা কাজে লাগানোর পারদর্শীতা এবং রক্ষণের দৃঢ়তা নিয়ে এই স্পেন এখন দুর্দান্ত। ২০২২ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে জাপানের বিপক্ষে গোল হজমের পর, এই মঞ্চে এখন পর্যন্ত তাদের জালের নাগাল পায়নি কেউ। পর্তুগালও সাদামাটা প্রতিপক্ষ নয়। মাঝমাঠে ভিতিনিয়া, জুয়াও নেভ্স ও ব্রুনো ফের্নান্দ্সের মতো নির্ভরতা আছে। তারা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দে লা ফুয়েন্তের কৌশল ভেদ করে, দলকে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছে দিতে সক্ষম। নেশন্স লিগের ফাইনালের জয়ের সেই সুখস্মৃতিও তাদের জন্য বাড়তি অনুপ্রেরণার। ওই ম্যাচে পর্তুগালের রক্ষণ সামলেছিলেন নুনো মেন্দ্স। আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় তিনি ধুঁকেছিলেন বটে, কিন্তু ভুগিয়েছিলেন ইয়ামালদেরও। ডালাসেও খেলবেন অনেকের চোখে, সময়ের সেরা ডিফেন্ডারদের একজন মেন্দ্স।

ইতোমধ্যে ইয়ামালের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত দ্বৈরথের সম্ভাবনা চাউর হয়েছে। কেবল ইয়ামাল নয়, স্পেনের আক্রমণভাগের সামনে প্রতিরোধের দৃঢ় দেয়াল তুলে দেওয়ার সামর্থ্য আছে তার। স্পেনের আক্রমণভাগের শক্তিও কম নয়। মিকেল ওইয়ারসাবাল জালের দেখা পাচ্ছেন নিয়মিত। ইয়ামাল অবশ্য ছন্দের পুরোটা ফিরে পাননি এখনও। তবে, অস্ট্রিয়াকে শেষ বত্রিশের ম্যাচে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পর, এই তরুণ ফরোয়ার্ড বার্তা দিয়েছেন ঠিকই। “আমাদের আরও উন্নতি করা প্রয়োজন, কিন্তু আমরা কাউকেই ভয় পাই না।”

পর্তুগালও ভীত নয়, কিন্তু তুলনামূলকভাবে কম স্বস্তিতে তারা। নকআউট পর্বে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে জিততে যথেষ্ট বেগ পোহাতে হয়েছে তাদের। গ্রুপ পর্বেও স্বরূপে ছিল না রবের্ত মার্তিনেসের দল। এক জয় ও দুই ড্রয়ে হয়েছিল গ্রুপ রানার্সআপ। অন্যদিকে, কেইপ ভার্ডের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র দিয়ে আসর শুরু পর থেকে, স্পেন ক্রমেই হয়ে উঠছে আরও ছন্দময়। এই ম্যাচেও আলাদাভাবে আলোচনায় রোনালদো। ৪১ বছর বয়সকে স্রেফ সংখ্যা বানিয়ে যিনি ছুটে চলেছেন এখনও। এই বয়সেও তিনি অদম্য। বয়সের ভারে মাঠে রাজত্বের পরিধি কিছুটা ছোট হয়ে এলেও, যতটুকু নিয়ন্ত্রণে আছে, ততটুকুতে তিনি দুর্বার। বক্সে এখনও ক্ষীপ্র।

এক বছর আগের ফাইনালেও তা টের পেয়েছিল স্পেন, আলগা বল পেয়ে পর্তুগালকে সমতায় ফিরিয়েছিলেন রোনালদো। ম্যাচ টেনে নিয়েছিলেন অতিরিক্ত সময়ে। এরপর তো টাইব্রেকারে জয়ের আনন্দে ভেসেছিলেন তিনি। রোনালদো এখন তাড়া করছেন হাজারতম ক্যারিয়ার গোলের মাইলফলক। সেখানে ইয়ামাল এখনও ‘শিশুই।’ দুই প্রজন্মের দুই শিল্পী ডালাসের সবুজে মুখোমুখি হওয়ার অপেক্ষায়। ইতোমধ্যে রোনালদোর বোন বলেছেন, বিশ্বকাপের পরই পর্তুগালকে বিদায় বলে দিবেন তার ভাই। যার অর্থটাও পরিষ্কার, এখন থেকে পর্তুগিজদের হয়ে খেলা প্রতিটি ম্যাচই তার সম্ভাব্য শেষের ক্ষণ।

এবারের আসরে দুই দলই নোঙর ফেলেছে ফেভারিট-এর তকমা নিয়ে। অধরা বিশ্বকাপের স্বাদ নিতে মরিয়া পর্তুগাল। স্পেন মুখিয়ে ২০১০ সালের সাফল্যের পুনরাবৃত্তির। শেষ ষোলোর মঞ্চ থেকে নিশ্চিতভাবেই যে কোনো এক দলের স্বপ্ন যাবে গুঁড়িয়ে। স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে, স্পেনের চায় প্রতিশোধ। আরেকবার স্পেনকে চেপে ধরে জয়ের বন্দরে পৌঁছানোর পণ পর্তুগালের।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত