ঢাকা রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

হোয়াইটওয়াশ এড়িয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস বাংলাদেশের

হোয়াইটওয়াশ এড়িয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস বাংলাদেশের

হারতে হারতে যেন জয়ের পথটাই ভুলে গিয়েছিল বাংলাদেশ! জিম্বাবুয়ে সফরে একমাত্র টেস্টে ভরাডুবি, এরপর টানা দুই ওয়ানডেতে পরাজয়-সব মিলিয়ে সফরজুড়ে ছিল শুধু হতাশার গল্প। শেষ ওয়ানডেতে এসে সেই গল্পের শেষটা অন্তত কিছুটা বদলাতে পারল মেহেদী হাসান মিরাজের দল। সিরিজ আগেই হাতছাড়া হলেও হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়িয়ে দাপুটে এক জয় তুলে নিয়েছে টাইগাররা।

হারারের স্পোর্টস ক্লাবে জিম্বাবুয়েকে ৭ উইকেটে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ শেষ করেছে ২-১ ব্যবধানের হারে। ১৯৯ রানের লক্ষ?্য ৮৪ বল বাকি থাকতেই পেরিয়ে যায় মিরাজের দল। ৯৪ রান করেন তানজিদ হাসান তামিমও ৬৯ রান করা সৌম?্য সরকারের। তাদের দেড়শ রানের জুটির পর জয় নিয়ে শঙ্কা ছিল না!

জয়ের ভিত গড়ে দেন বাংলাদেশের বোলাররা। টসে জিতে আবারও বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক মিরাজ, আর শুরু থেকেই সেই সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণ করেন শরিফুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদ। মাত্র ২৭ রানেই জিম্বাবুয়ের তিন শীর্ষ ব্যাটারকে ফিরিয়ে দিয়ে স্বাগতিকদের বড় চাপে ফেলে দেন তারা।

তবে সেই ধাক্কা সামলে ইনোসেন্ট কাইয়া ও ওয়েসলি মাধেভেরে ধীরে ধীরে ইনিংস গড়েন। কাইয়া ২৫ রান করে ফিরে গেলেও মাধেভেরে ছিলেন একেবারেই আলাদা ছন্দে। শুরুতে সময় নিয়ে খেললেও পরে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করেন তিনি। ৭৪ বলে ৭৫ রানের ইনিংসে জিম্বাবুয়ের ইনিংসকে টেনে নিয়ে যান লড়াইয়ের জায়গায়। মাধেভেরের সঙ্গে সিকান্দার রাজা কিছুটা সঙ্গ দিলেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। পরে ক্লিভ মাদান্দে দ্রুত বিদায় নিলে আবারও চাপে পড়ে জিম্বাবুয়ে। শেষদিকে ব্র্যাড ইভান্স দ্বিতীয় ম্যাচের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে ৪৩ বলে ৫০ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন। তার ব্যাটেই দুইশর কাছাকাছি পৌঁছে যায় স্বাগতিকরা। তবে ৪৮.১ ওভারে ১৯৯ রানেই থেমে যায় তাদের ইনিংস।

বাংলাদেশের হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেন শরিফুল ইসলাম।

১০ ওভারে ৪৪ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন এই বাঁহাতি পেসার। তাসকিন আহমেদ ও তানভীর ইসলাম দুটি করে উইকেট শিকার করেন। একটি উইকেট পান মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। ২০০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় বাংলাদেশ। সৌম্য সরকার ও তানজিদ হাসান তামিম এমন আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং করেন, যেন আগের দুই ম্যাচের ব্যর্থতার কোনো ছাপই নেই। পাওয়ারপ্লেতে বিনা উইকেটে ৫৯ রান তুলে জয়ের ভিত্তি গড়ে দেন দুই ওপেনার।

এরপরও থামেননি তারা। চার-ছক্কার পাশাপাশি দারুণ স্ট্রাইক রোটেশনে জিম্বাবুয়ের বোলারদের কোনো সুযোগই দেননি।

সুযোগ এলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি স্বাগতিকরা। একাধিক ক্যাচ হাতছাড়া করে ম্যাচে ফেরার সম্ভাবনাও নষ্ট করে তারা। সেই সুযোগের পুরো সুবিধা নেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার। দুজনই তুলে নেন অর্ধশতক। এরপরও সমান আক্রমণাত্মক ছিলেন। সৌম্য সরকার খেলেন ৮২ বলে ৬৯ রানের ইনিংস। ১৫১ রানে গিয়ে ভাঙে উদ্বোধনী জুটি। তখন পর্যন্ত ম্যাচ কার্যত বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণেই।

সৌম্য ফেরার পর নাজমুল হোসেন শান্ত এসে কোনো ঝুঁকি না নিয়ে ইনিংস এগিয়ে নেন। অন্যপ্রান্তে তানজিদ আরও বিধ্বংসী হয়ে ওঠেন। একের পর এক বাউন্ডারি, সঙ্গে দৃষ্টিনন্দন ছক্কায় ম্যাচকে একপেশে করে তোলেন তিনি। ব্যক্তিগত সেঞ্চুরির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেলেও শেষ পর্যন্ত ৯৪ রানে থামতে হয় এই বাঁহাতি ওপেনারকে।

উড়িয়ে মারতে গিয়ে আউট হয়ে শতকের আক্ষেপ নিয়েই মাঠ ছাড়েন তিনি। তাওহিদ হৃদয় রান না করেই ফিরে গেলেও তাতে জয়ের পথে কোনো বাধা তৈরি হয়নি। শান্ত ১৮ রানে অপরাজিত থেকে নুরুল হাসান সোহানকে সঙ্গে নিয়ে ম্যাচ শেষ করেন। ৩৬ ওভারে মাত্র তিন উইকেট হারিয়ে লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে বাংলাদেশ। হাতে তখনও বাকি ৮৪ বল।

এই জয় সিরিজের ফল বদলাতে পারেনি। তবে দীর্ঘ ব্যর্থতার পর দলের জন্য এনে দিয়েছে কিছুটা স্বস্তি, কিছুটা আত্মবিশ্বাস। বিশেষ করে শরিফুলের ধারালো বোলিং, সৌম্যর ফর্মে ফেরা এবং তানজিদের ম্যাচজয়ী ইনিংস টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগে বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক বার্তা হয়ে থাকল। এবার দুই দলের লড়াই গড়াবে সংক্ষিপ্ত সংস্করণে। ১৫, ১৭ ও ১৯ জুলাই বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত হবে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। ওয়ানডের শেষ ম্যাচের এই জয়কে পুঁজি করে নতুন অধ্যায়ের শুরু করতে চাইবে বাংলাদেশ।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত