
আর মাত্র ছয় মিনিট! এতটুকু সময় পার করতে পারলেই ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠত ইংল্যান্ড। কিন্তু ফুটবল কখনও শুধু স্কোরবোর্ডের খেলা নয়; এটি সিদ্ধান্তেরও খেলা। আর আটলান্টার সেমিফাইনালে থমাস টুখেলের কয়েকটি সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের স্বপ্ন ভেঙে দিল। অ্যান্থনি গর্ডনের ৫৫তম মিনিটের গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল ইংল্যান্ড। ম্যাচ তখন তাদের নিয়ন্ত্রণেই। কিন্তু দ্বিতীয় গোলের খোঁজে না গিয়ে ধীরে ধীরে রক্ষণে গুটিয়ে যায় থ্রি লায়ন্স। সেই সুযোগই কাজে লাগায় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ৮৫তম মিনিটে লিওনেল মেসির পাস থেকে এনজো ফার্নান্দেজের দুর্দান্ত দূরপাল্লার শটে সমতা ফেরে। এরপর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে আবারও মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে লাউতারো মার্তিনেজের হেড-আর মুহূর্তেই ২-১ ব্যবধানে জিতে ফাইনালে উঠে যায় আর্জেন্টিনা।
পরিসংখ্যানই বলে দেয়, গোল করার পর ইংল্যান্ড কতটা পিছিয়ে গিয়েছিল। গর্ডনের গোল থেকে দ্বিতীয় গোল হজম করার আগ পর্যন্ত সময়ে ইংল্যান্ডের বল দখল ছিল মাত্র ১২ শতাংশ। অর্থাৎ তারা প্রায় পুরোপুরি আর্জেন্টিনার আক্রমণ সামলাতেই ব্যস্ত ছিল।
সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক ওয়েন রুনি মনে করেন, ‘আমরা ভেঙে পড়েছি। সবকিছুর শুরু হয়েছে কোচের সিদ্ধান্ত থেকে। দলটা খুবই প্যাসিভ হয়ে পড়েছিল। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এমন ফুটবল খেলে পার পাওয়া সম্ভব নয়।’ অ্যালান শিয়ারারের মতে, ‘নরওয়ে বা মেক্সিকোর বিপক্ষে যেটা কাজ করেছে, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেটা করার সুযোগ নেই। এই দলের মান অনেক উঁচু। টুখেলের পরিকল্পনা উল্টো তার দলের বিপক্ষেই গেছে।’ সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে বদলি খেলোয়াড় নামানো নিয়ে। ৭২ মিনিটে গোলদাতা গর্ডনকে তুলে এনে ডিফেন্ডার এজরি কনসাকে নামিয়ে পাঁচজনের রক্ষণে চলে যান টুখেল। এরপর ড্যান বার্ন ও নিকো ও’রাইলিকেও নামানো হয়। অথচ আক্রমণভাগের খেলোয়াড় মার্কাস রাশফোর্ড ও আইভান টোনিকে মাঠে নামানো হয় যোগ করা সময়ে, যখন ম্যাচ কার্যত হাতছাড়া।সাবেক স্ট্রাইকার ক্রিস সাটন বলেন, ‘১-০ এগিয়ে থাকার পর ইংল্যান্ড নিজেই আর্জেন্টিনাকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ দিয়ে দিয়েছে। ৩০ মিনিট ধরে এমন মানের দলের বিরুদ্ধে শুধু রক্ষণ করে টিকে থাকা যায় না। এটা ছিল কোচিংয়ের বড় ভুল।’ অবশ্য টুখেল নিজের সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘এখন কোনো আফসোস নেই। দল সবকিছু দিয়েছে। আমরা খুব কাছাকাছি ছিলাম। এমন ম্যাচ হারলে সমালোচনা হবেই, সেটাই স্বাভাবিক।’