ঢাকা বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

মাঠের খেলা থেকে কূটনীতির মাঠ-আমিনুলের বড় বার্তা

মাঠের খেলা থেকে কূটনীতির মাঠ-আমিনুলের বড় বার্তা

দেশের ক্রীড়াঙ্গনে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে গতি ফেরানোর উদ্যোগের কথা জানিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। প্রশাসনিক কাঠামো ঢেলে সাজানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রস্তুতি এবং প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে ক্রীড়া সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এসব নিয়েই জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অডিটোরিয়ামে ১৩টি ক্রীড়া ফেডারেশনের এডহক কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

সভা শেষে একদিন আগেই দেশের ক্রীড়াঙ্গনের বর্তমান পরিস্থিতি থেকে শুরু করে বাংলাদেশ-ভারত ক্রিকেট সম্পর্ক, এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতি এবং ফেডারেশনগুলোর পুনর্গঠন নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। আলোচনায় শুরুতেই আসে ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট জয়। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবার টেস্ট জয়ের পর বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে দেশে ফেরার পর সংবর্ধনা দেওয়ার পরিকল্পনা আছে কি না, এমন প্রশ্নে আমিনুল জানান, প্রধানমন্ত্রীর এ বিষয়ে সদিচ্ছা রয়েছে। তবে দল দেশে ফেরার পর প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি সাপেক্ষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে। ক্রিকেটের বাইরেও সবচেয়ে আলোচিত প্রসঙ্গ ছিল ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক। গত বিশ্বকাপকে ঘিরে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হওয়া তিক্ততার প্রভাব দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্কেও পড়েছিল। সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

আমিনুল হক বলেন, ভারতে গত বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ না করার ইস্যুতে যে তিক্ততার সৃষ্টি হয়েছিল, তা নিরসনে কাজ চলছে। এরইমধ্যে ভারতীয় হাইকমিশন এবং দু’দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথেও আলোচনা হয়েছে। তবে ক্রিকেটকে কূটনীতির বাইরে রেখে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার মাধ্যম হিসেবেই খেলাধুলাকে দেখতে চান আমিনুল। তার বক্তব্যে সেই অবস্থানও পরিষ্কার, খেলাধুলা সবকিছুর ঊর্ধ্বে। আমরা খেলার মাধ্যমে বন্ধুপ্রতীম প্রতিবেশী দেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চাই, যাতে পুনরায় দু’দেশের মাটিতে নিয়মিত দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আয়োজন করা সম্ভব হয়। অন্যদিকে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের প্রশাসনিক কাঠামোতেও পরিবর্তনের প্রক্রিয়া চলছে। প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, এরই মধ্যে ২৭টি ক্রীড়া ফেডারেশনের কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। বাকি ফেডারেশনগুলোর কমিটি নিয়েও কাজ চলছে। নতুন কমিটিগুলোর তালিকা শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে প্রশাসনিক পরিবর্তনের এই প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার সময়সূচি নতুন ধরনের জটিলতা তৈরি করেছে। সেপ্টেম্বরের এশিয়ান গেমস সামনে থাকায় কিছু ফেডারেশনে পুরনো কমিটির সদস্যদের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

কারণ, নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই এশিয়ান গেমসের দল ও কর্মকর্তাদের নাম নির্ধারণ এবং অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছিল।

এই পরিস্থিতিতে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিবকে সংশ্লিষ্ট ফেডারেশনগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। একদিকে চলছে ফেডারেশনগুলোর প্রশাসনিক পুনর্গঠন, অন্যদিকে সামনে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা। ফলে নতুন কাঠামো দাঁড় করানোর সঙ্গে সঙ্গে চলমান আন্তর্জাতিক কার্যক্রমও সচল রাখার চ্যালেঞ্জ রয়েছে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সামনে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত