
টপ এন্ড টি-টোয়েন্টিতে যেন নিজের চারপাশে এক অদৃশ্য ধোঁয়াশা তৈরি করেছেন মোহাম্মদ রুবেল। বল হাতে তার রহস্যের সমাধান খুঁজে পাচ্ছে না প্রতিপক্ষের ব্যাটাররা। এক ম্যাচে যা শুরু হয়েছিল, পরের ম্যাচে তা হয়ে উঠেছে ধারাবাহিকতা। গতকাল সোমবার তৃতীয় ম্যাচে এসে সেটি যেন রীতিমতো আতঙ্কের গল্প! ডারউইন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ভিক্টোরিয়া ক্রিকেট একাডেমির বিপক্ষে বাংলাদেশ এইচপির ৫ উইকেটের জয়ে আবারও সামনে রুবেল। ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রান দিয়ে ৪ উইকেট। তার ঘূর্ণিতে ভিক্টোরিয়ার ইনিংস থেমেছে ১৯.১ ওভারে মাত্র ১৩১ রানে। জবাবে ১৬ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করেছে ইরফান শুক্কুরের দল।
এই জয়টি শুধু আরেকটি জয় নয়। টুর্নামেন্টে টানা তিন ম্যাচ জিতে বাংলাদেশ এইচপি এখন পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে। আর সেই তিন জয়ের প্রতিটিতেই গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হয়ে উঠেছেন রুবেল। প্রথম দুই ম্যাচে তার শিকার ছিল সাত উইকেট। ভিক্টোরিয়ার বিপক্ষে আরও চারটি যোগ হওয়ায় তিন ম্যাচে তার উইকেটসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১। ফলে টুর্নামেন্টের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সফল বোলারও এই ৩০ বছর বয়সী স্পিনার।
ভিক্টোরিয়ার ইনিংসের শুরুতেই রুবেলের আঘাত। দ্বিতীয় ওভারেই সাফল্য এনে দেন তিনি, এরপর নিজের স্পেলের মধ্যেই তুলে নেন আরও উইকেট। তার সঙ্গে রাকিবুল হাসানও যোগ দেন বিধ্বংসী বোলিংয়ে। দুজন মিলে ভিক্টোরিয়ার সাতটি উইকেট তুলে নিয়ে কার্যত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের হাতে তুলে দেন! তবে একেবারে বিনা লড়াইয়ে আত্মসমর্পণ করেনি ভিক্টোরিয়া। অধিনায়ক স্যাম হার্পার একপ্রান্ত আগলে রেখেছিলেন। উইল সাদারল্যান্ডের ২৫ বলে ৩০ রানের পর হার্পারই হয়ে ওঠেন শেষ ভরসা। বাংলাদেশের বোলারদের ওপর শেষ পর্যন্ত পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে ৩৬ বলে ৪৯ রান করেন তিনি। কিন্তু শেষ ব্যাটার হিসেবে তাঁর বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গেই ভিক্টোরিয়ার ইনিংসও শেষ হয়ে যায় ১৩১ রানে।
বাংলাদেশের রান তাড়াটাও শুরু হয়েছিল ধাক্কা দিয়ে। কোনো রান যোগ হওয়ার আগেই হাবিবুর রহমান সোহান ফিরে যান। এরপর জিসান আলম ও আরিফুল ইসলামও দ্রুত বিদায় নেন। আগের ম্যাচের জয়ের নায়ক সাব্বির রহমানের কাছ থেকেও এবার বড় কিছু পাওয়া যায়নি। ১৪ বলে মাত্র ৫ রান করে ফিরেছেন তিনি।
তখন বাংলাদেশের ইনিংসেও শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সেই জায়গা থেকেই ম্যাচের চিত্র বদলে দেন অধিনায়ক ইরফান শুক্কুর ও শামীম হোসেন পাটোয়ারি। দু’জনের ৮৩ রানের জুটি ভিক্টোরিয়ার ম্যাচে ফেরার দরজা বন্ধ করে দেয়। ৩২ বলে ৪৩ রান করে শুক্কুর ফিরলেও শামীম ছিলেন শেষ পর্যন্ত। ৩৩ বলে দুটি চার ও তিনটি ছক্কার সাহায্যে ৫১ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জয় এনে দেন তিনি।
বাংলাদেশের জয়ে তাই ব্যাট হাতে শামীমের অবদান যেমন গুরুত্বপূর্ণ, ম্যাচের ভিত্তিটা তৈরি করে দিয়েছেন রুবেল। আর এই টুর্নামেন্টে তার ধারাবাহিকতা এখন বাংলাদেশ এইচপির সাফল্যের অন্যতম বড় কারণ। টি-টোয়েন্টিতে সাধারণত ব্যাটারদের বিস্ফোরণ, পাওয়ার হিটিং কিংবা শেষ ওভারের নাটকীয়তা আলোচনায় থাকে। কিন্তু টপ এন্ডে বাংলাদেশ এইচপির গল্পটা একটু আলাদা। এখানে আলো কেড়ে নিচ্ছেন এক রহস্যময় স্পিনার, যিনি প্রতিটি ম্যাচেই প্রতিপক্ষের ব্যাটিংকে নতুন করে পরীক্ষা নিচ্ছেন। তিন ম্যাচে ১১ উইকেটের পর এখন প্রশ্ন একটাই-রুবেলের এই ঘূর্ণির রহস্য ভাঙবে কে? আর বাংলাদেশ এইচপির জন্য আরও বড় প্রশ্ন, এই রহস্য যতদিন অটুট থাকবে, ততদিন টপ এন্ডে তাদের জয়যাত্রাও চলবে?