ঢাকা মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

'পুরো দেশ আমাদের দিকে তাকিয়ে'

'পুরো দেশ আমাদের দিকে তাকিয়ে'

জাপানে এবার অ্যাথলেটস ভিলেজ নেই। এশিয়ান গেমসে অংশ নিতে যাওয়া খেলোয়াড়দের কেউ থাকবেন হোটেলে, কেউ ক্রুজশিপে, আবার কারও ঠিকানা হবে অস্থায়ী কনটেইনারের মতো আবাসন। ক্রিকেট দলগুলো চাইলে নিজেদের পছন্দমতো হোটেলও বেছে নিতে পারবে। এ নিয়ে আয়োজকদের প্রস্তুতি যেমন আলোচনায়, তেমনি আলোচনা আছে ক্রিকেটারদের থাকার ব্যবস্থা নিয়েও। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও প্রশ্ন উঠেছে- কোথায় থাকবেন লিটন দাসরা, কী ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাবেন? বাংলাদেশ দলের কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দীনের কাছে অবশ্য প্রশ্নটির গুরুত্বই অন্য রকম। তার কাছে থাকার জায়গা নয়, এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের ক্রিকেটটাই বড়।

হোটেল নিয়ে জানতে চাইলে তাই তিনি বললেন, আমরা তো অন্যান্য সময় খেলতে যাই। অনেক সুবিধা পাই। অনেক সময় তো ভালো ফল করি না। থাকাটা আমার কাছে খুব বড় একটা ব্যাপার না। আমরা দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছি। আমরা ভালো খেলব। কথাটা হয়তো সরল। কিন্তু এশিয়ান গেমসের মতো আসরে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে ঘিরে প্রত্যাশার কথাও এতে আছে। এবার আর কোনো বিকল্প দল নয়, লিটন দাসের নেতৃত্বে পাঠানো হচ্ছে শক্তিশালী জাতীয় দল। থাকার ব্যবস্থা নিয়ে যতই আলোচনা থাকুক, মাঠে কোনো ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। সালাউদ্দীনও সেটাই মনে করিয়ে দিলেন, 'খেলাটাই আমাদের মুখ্য। চ্যালেঞ্জ থাকবেই সব জায়গায়। তবে থাকাটা আমার কাছে খুব বেশি মুখ্য বিষয় না। আমার কাছে মুখ্য বিষয় যে আমরা একটা জায়গায় খেলতে যাচ্ছি। একটা দেশের প্রতিনিধিত্ব করছি। সবাই আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে, আমরা যেন সেখানে খেলাটার দিকেই তাকিয়ে থাকি।'

এই মনোযোগের কারণেই হয়তো দল নির্বাচনেও শেষ পর্যন্ত বদল এসেছে। শুরুতে এশিয়ান গেমসের জন্য এইচপি দল পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু পরে দেখা যায়, প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোও জাতীয় দল পাঠাচ্ছে। তখন আর দ্বিতীয় সারির দল নিয়ে যাওয়ার যুক্তি দেখেনি বাংলাদেশ। সালাউদ্দীন বলেন, যেটা আমি বলব যে আসলে প্রথমে আমাদের এখানে এইচপি দল দেওয়ার কথা ছিল। তবে যখন দেখেছি যে অন্যান্য দলগুলো তো তাদের পুরো জাতীয় দল পাঠাচ্ছে, তাহলে আমরা কেন পাঠাব না। তো আমরা মনে করি এটা একটা চ্যালেঞ্জিং সিরিজ হবে। আমাদের গ্রুপে যে চার দল দেওয়া হয়েছে, তাতে ভালো খেললে আমাদের ফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।'

বাংলাদেশের সেই দলটিও যথেষ্ট শক্তিশালী। লিটনের সঙ্গে ব্যাটিংয়ে আছেন তানজিদ হাসান, পারভেজ হোসেন ইমন, তাওহীদ হৃদয় ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। স্পিনে রিশাদ হোসেন, নাসুম আহমেদ ও শেখ মেহেদী হাসান। পেস আক্রমণে আছেন মুস্তাফিজুর রহমান, হাসান মাহমুদ ও শরীফুল ইসলাম। ১০ দলের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশকে প্রথম পর্ব খেলতে হচ্ছে না। ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে তারাও সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে। ২৪ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে ৩ অক্টোবর শেষ হবে ছেলেদের ক্রিকেট। বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ২৯ সেপ্টেম্বর। প্রতিপক্ষ তখনও অজানা-প্রথম পর্বের ফলের পর জানা যাবে সেটি।

তবে প্রতিপক্ষের নাম জানার আগেই বাংলাদেশ নিজেদের লক্ষ্য ঠিক করে রেখেছে। আর সেই লক্ষ্য অর্জনের পথে হোটেল কতটা ভালো, বিছানা কতটা আরামদায়ক, কিংবা থাকার জায়গা অ্যাথলেটস ভিলেজের বদলে ক্রুজশিপ কি না-এসবকে সামনে আনতে চান না সালাউদ্দীন। কারণ জাতীয় দলের জার্সিতে এশিয়ান গেমসে নামার অর্থ তার কাছে আলাদা। অন্য ডিসিপ্লিনের খেলোয়াড়দের সঙ্গে একই ভিলেজে থাকা কিংবা বিলাসবহুল কোনো হোটেল-কোনোটিই দেশের প্রতিনিধিত্বের বিকল্প নয়! জাপানে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের তাই প্রথম ঠিকানা হবে কোরোগি স্পোর্টস পার্কের মাঠ। থাকার জায়গা যা-ই হোক, সালাউদ্দীনের চাওয়া একটাই-মাঠে যেন বাংলাদেশকে দেখে মনে হয়, তারা এখানে শুধু অংশ নিতে আসেনি। তারা এসেছে জিততে!

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত