ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ব্যাগি ক্যাপ

ঘরোয়া ক্রিকেটে নতুন অধ্যায়ের সূচনা

ঘরোয়া ক্রিকেটে নতুন অধ্যায়ের সূচনা

ক্যাপ। হেরিটেজ। প্রাইড। ব্যানারে খোদাই করা এই তিনটি শব্দ, পাশে একটি ক্যাপের ছবি। ব্যাগি ক্যাপ ঐতিহ্য আর গর্বের ব্যাপার বটে। তবে এতদিন সেটি ছিল মূলত টেস্ট ক্যাপ ঘিরেই। এবার দেশের ক্রিকেটে সেই গর্বের ছোঁয়া এলো ভিন্ন আমেজ আর আবহে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও চালু হলো ব্যাগি ক্যাপ, যেটি অর্জনের তাড়না নিয়ে স্বপ্নের ছবি আঁকবেন বিভিন্ন বিভাগের ক্রিকেটাররা।

দেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের সংস্কৃতি আরও সমৃদ্ধ করতে ও ঘরোয়া ক্রিকেটারদের উজ্জীবিত করতে চমকপ্রদ এই উদ্যোগ নিয়েছে বিসিবি। গতকাল মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে ক্রিকেটারদের নতুন ঠিকানা টাইগার্স ডেন-এ ছোট্ট ও ঝলমলে আয়োজনে বুধবার এই ক্যাপ তুলে দেওয়া হয় এবারের জাতীয় লিগের আট বিভাগের অধিনায়ককে। বিসিবির টুর্নামেন্ট কমিটির প্রধান সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর ও বিসিবির কয়েকজন পরিচালক ছাড়াও এই আয়োজনে উপস্থিত থেকে উপলক্ষকে রঙিন করে তোলেন জাতীয় দলের কোচ ফিল সিমন্স. স্পিন বোলিং কোচ ও পাকিস্তানি স্পিন গ্রেট মুশতাক আহমেদ, একশ টেস্ট খেলা দেশের একমাত্র ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম, প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশারসহ নির্বাচক কমিটির সদস্যরা এবং সংশ্লিষ্ট আরও অনেকেই।

আট বিভাগীয় দলের ক্যাপের ভিন্ন আট রঙ নির্ধারণ করে দিয়েছে বিসিবিই। ক্যাপের রঙের ছোঁয়া থাকছে প্রতি দলের পোশাকেও। বর্তমান অধিনায়কদের মাথায় ক্যাপ পরিয়ে দেন ওই বিভাগের প্রথম আসরের অধিনায়ক বা প্রতিনিধিরা। ঢাকা বিভাগের অধিনায়ক মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনকে ক্যাপ পরিয়ে দেন সাবেক কিপার-ব্যাটার জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম বিভাগের অধিনায়ক ইয়াসির আলি চৌধুরিকে সাবেক ব্যাটসম্যান আজম ইকবাল, ময়মনসিংহ বিভাগের অধিনায়ক রকিবুল হাসানকে সাবেক পেসার সাইফুল ইসলাম, রাজশাহী বিভাগের অধিনায়ক প্রিতম কুমারকে সাবেক পেসার আলমগির কবির, খুলনার অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুনকে , সিলেটের অধিনায়ক জাকির হাসানকে , রংপুরের অধিনায়ক আকবার আলিকে , বরিশালের অধিনায়ক ইফতিখার হোসেন ইফতিকে ক্যাপ দেন সাবেক ক্রিকেটার টোটাম। সপ্তাহ দুয়েক আগেই ঘরোয়া সব সংস্করণের ক্রিকেটে ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক দ্বিগুণ বাড়িয়েছে বিসিবি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ম্যাচ ফি বাড়িয়ে করা হয়েছে দেড় লাখ টাকা। লিস্ট 'এ' অর্থাৎ একদিনের ম্যাচের সংস্করণে ম্যাচ ফি ৫০ হাজার থেকে বাড়িয়ে এক লাখ টাকা করা হয়েছে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ৪০ হাজার থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ৮০ হাজার টাকা।

পারিশ্রমিক বাড়ানোর পর এবার ব্যাগি ক্যাপ এবং বিশেষ এই আয়োজন, সব মিলিয়ে মুগ্ধতার শেষ নেই চট্টগ্রাম বিভাগের অধিনায়ক ইয়াসির আলি চৌধুরির। ৮৫টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলা ব্যাটসম্যান বললেন, '২০১২ সালে আমার অভিষেক। সেখান থেকে এই পর্যন্ত এটাই আমার এরকম প্রথম অভিজ্ঞতা যে জাতীয় লিগে নিয়ে এরকম কোনো এয়াজন হচ্ছে। যখন থেকে শুনেছি যে এরকম একটা অনুষ্ঠান হবে, খুবই রোমাঞ্চিত ছিলাম। আমরা যারা টেস্ট ক্রিকেট পছন্দ করি, তারা অনেক জানি যে ব্যাগি ক্যাপটা কতটা সম্মানের। জাতীয় লিগ বা প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এরকম একটা আয়োজন করায় আমার মনে হয়, তরুণ ও উঠতি ক্রিকেটারদের অনেক বেশি অনুপ্রাণিত করবে। আমাদের খেলার মানও অনেক দিক থেকে আরও উন্নত হবে।'

ইয়াসিরের ছয় বছর আগে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক মিঠুনের। ২০ বছরের পথচলায় ১৪৪টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছেন ৩৫ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার। ২০ বছর আগের সেই বাস্তবতার সঙ্গে এখনকার আকালপাতাল ব্যবধান ফুটে উঠল খুলনা বিভাগের অধিনায়কের কথায়। 'আমার শুরুটা যখন, সেটার সঙ্গে এখনকার অবস্থা তুলনা করলে কোনোভাবেই মিলবে না। ২০০৬ সালে আমার শুরু, অনূর্ধ্ব-১৭ দলে খেলার সময়ই। জাতীয় লিগে তখন ৮০০ টাকা পেতাম দৈনিক ভাতা, আর ১০ ম্যাচ খেললে মোট পেতাম ২৫ হাজার টাকা পেতাম। আজকে যে জায়গায় এসেছে, সবারই জানা। আমি এতটুকু বলতে পারি যে, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট এখন যে অবস্থায় এসেছে, এটা অনেক আগেই আসা উচিত ছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আসে নাই। এখন আমরা সবাই চাই নতুন বাংলাদেশ। আমাদের টেস্ট দল ভালো খেলছে। সঙ্গে চেষ্টা করব যে আমাদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটও যেন ওই মানের হয়। যেহেতু সব দিক থেকেই আগের থেকে ভালো হয়েছে, আমরা আশা করব ওই ক্রিকেটাররাও ওই পেশাদারিত্ব মেলে ধরতে পারব।'

ইয়াসির-মিঠুনরা টেস্ট খেলেছেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছেন দেশের হয়ে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ব্যাগি ক্যাপের আবেদন হয়তো কম থাকবে তাদের কাছে। একজন উঠতি ক্রিকেটার বা ঘরোয়া ক্রিকেটারদের কাছে এটির ওজন কেমন হতে পারে, তা কিছুটা বোঝা গেল রাজশাহীর অধিনায়ক প্রিতম কুমারের কথায়। 'এই যে উদ্যোগটা নিয়েছে বিসিবি, সবার কাছেই অন্যরকম একটা অনুভূতি পাবে। কারণ এটা ব্যাগি ক্যাপ, এটা সবাই সবসময় পায় না। বাংলাদেশে প্রথমবার এরকম একটা জিনিস চালু হয়েছে। এটার জন্য অনেক ক্রিকেটার এখন মুখিয়ে থাকবে যে, আমার কখন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হবে, জাতীয় দলের ক্ষেত্রে যেমন হয়।'

আট অধিনায়কের মধ্যে সবচেয়ে তরুণ বরিশালের ইফতিখার হোসেন ইফতিও ছোট্ট করে বললেন তার রোমাঞ্চের কথা। 'খুব ভালো লাগছে, এই যে ব্যাগি ক্যাপের আয়োজন হলো, আগে তো প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এরকম কিছু ছিল না। খুব ভালো আয়োজন হয়েছে। এটা আরও আগে হলে অনেক ভালো হতো। তবে আমা প্রথম বছরের অধিনায়কত্বেই এটা পেয়ে গেলাম, নিজের কাছেই অনেক ভালো লাগছে।' বার্ডের এসব উদ্যোগের পর ক্রিকেটারদের দায়িত্বের পরিধিও যে এখন বেড়ে গেছে, সেই দিকটি তুলে ধরলেন বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রংপুর বিভাগের অধিনায়ক আকবর আলি। 'প্রথমত যদি আয়োজনটির কথা বলি, আমার মনে হয় আমাদের প্রত্যেকের জন্যই একটা বড় সম্মান এই ক্যাপ গ্রহণ করা। এরপর পারিশ্রমিক বাড়ানোর কথা যেটা বললেন, অবশ্যই খুব ভালো ও ইতিবাচক দিক প্রতিটি ঘরোয়া ক্রিকেটারের জন্য। পাশাপাশি এটার সঙ্গে আরও অনেক দায়িত্বও বেড়েছে আমাদের। যেহেতু ভালো পারিশ্রমিক ও সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে বোর্ড, আমাদেরও দায়িত্ব ভালো কিছু মেলে ধরা।'

এবারের জাতীয় লিগ শুরু হচ্ছে আগামী ৩ অক্টোবর। গত কয়েক বছর ডিউক বলে খেলা হলেও এবার আবার কুকাবুরা বলে হবে টুর্নামেন্ট, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যে বল দিয়েই বেশি খেলে থাকে বাংলাদেশ।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত