ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

'আবাহনী মাঠ' থাকছে না আবাহনীর

'আবাহনী মাঠ' থাকছে না আবাহনীর

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে ৯৯ বছরের জন্য ইজারা নিয়ে ব্যবহার করা আবাহনীর মাঠটি আর থাকছে না আবাহনীর। সরকার মাঠটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে মাঠটির নামও বদলাচ্ছে। নাম পরিবর্তন করে নতুন নাম রাখা হয়েছে ধানমন্ডি ক্রিকেট মাঠ। এটি হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিকতা সারা হবে আজ। হস্তান্তর শেষে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন থেকে এই মাঠের নিয়ন্ত্রণ যাবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কাছে। এরপর মাঠটি সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার কথা গতকাল বুধবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বলেছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। ধানমন্ডির ৮ ও ৯ নম্বর সড়কের মাঝে অবস্থিত ১০ দশমিক ৬৫ একর জমি এই বিশাল মাঠ দীর্ঘদিন ধরে ইজারা নিয়ে ব্যবহার করে আসছে আবাহনী লিমিটেড। দেশের ক্রীড়াঙ্গণের ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি ১৯৯৬ সালে মাঠের ৯.৭৬ একর জমির ইজারা চেয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে আবেদন করে। ১৯৯৮ সালে মাঠের সিংহভাগ জমি এবং ২০১০ সালে অবশিষ্ট আরও ০.৮৯ একর জমি মিলিয়ে ১০.৬৫ একর জমি ৯৯ বছরের জন্য ইজারা দেওয়া হয় আবাহনীকে। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, আবাহনী মাঠের নাম এখন পরিবর্তন হচ্ছে। সরকার মনে করেছে তাদের ইজারা বাতিল করার, সেটা হয়েছে। এই মাঠের পাশে আবাহনী ক্লাবের পুরনো অবকাঠামো দাঁড়িয়ে আছে। ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ক্ষমতার পালাবদলে ক্লাবটিতে হানা দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। ক্লাবটিতে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। ট্রফিগুলোও লুট করা হয়। সেসময় অন্তত ট্রফিগুলো ফিরিয়ে দেওয়ার আর্তি জানিয়েছিল ক্লাবটির কর্মকর্তা থেকে সমর্থকদের অনেকে। মাঠের বড় অংশে বর্তমানে শেখ কামাল স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের কাজ চলছে। আধুনিক এই কমপ্লেক্সে ক্লাবের কার্যালয়, সুইমিংপুল, জিমনেশিয়ামসহ বিভিন্ন ইনডোর ক্রীড়া সুবিধা রাখার পরিকল্পনা ছিল আবাহনীর।

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে আবাহনী ক্রীড়া চক্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই মাঠটিকে অনুশীলন ও খেলাধুলার কাজে ব্যবহার করে আসছে ক্লাবটি। পরে ধানমন্ডির মাঠটি 'আবাহনী মাঠ' হিসেবে পরিচিতি পায়। ধানমন্ডি এলাকার এ জায়গা ষাটের দশকে ইটভাটা হিসেবে ব্যবহৃত হতো, পরে সেটিকে খেলার মাঠ হিসেবে গড়ে তোলা হয়। ১৯৭২ সালে আবাহনী ক্লাব প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই মাঠে অনুশীলন ও খেলাধুলার কার্যক্রম চলে আসছিল, যার সূত্রেই এটি ধীরে ধীরে আবাহনী মাঠ নামে পরিচিতি পায়। সরকারি নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর মাঠটি কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে ক্রীড়া মন্ত্রণালয় একটি পরিকল্পনা তৈরি করছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত