অনলাইন সংস্করণ
১২:১৬, ০৬ মার্চ, ২০২৬
বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপে অংশ নিচ্ছে। নিজেদের অভিষেক ম্যাচে চীনের বিপক্ষে ০-২ গোলে হেরেছিল দল। আজ (শুক্রবার) সিডনির কমনওয়েলথ ব্যাংক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ ০-৫ গোলে হারেছে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে।
৪ গোলে হার সামান্য বড় ব্যবধান মনে হলেও বাংলাদেশের ও উত্তর কোরিয়ার র্যাংকিং ও শক্তিমত্তা বিবেচনায় এটি অস্বাভাবিক নয়। যেখানে বাংলাদেশের র্যাংকিং ১১২, সেখানে উত্তর কোরিয়ার র্যাংকিং ৯। তাই এই টুর্নামেন্টে সবোর্চ্চ র্যাংকিংধারী দলের বিপক্ষে ৫ গোলে হারের ফল স্বাভাবিক ধরা যায়।
চীন এশিয়ান কাপের বর্তমান ও সর্বাধিক ৯ বারের চ্যাম্পিয়ন। চীনের বিপক্ষে বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা সমানে সমান লড়াই করেছেন এবং শেষ পর্যন্ত ০-২ গোলে হেরেছেন। দ্বিতীয়ার্ধে চীন বাংলাদেশের জালে কোনো বল পাঠাতে পারেনি। চ্যাম্পিয়ন দলের সঙ্গে দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পর প্রত্যাশা ছিল উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে আরও ভালো খেলবে দল।
উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে কোচ পিটার বাটলার বেশি রক্ষণাত্মক কৌশল অবলম্বন করেননি। ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশ আক্রমণে ছিল। গোলরক্ষক মিলি একাধিক সেভ করেছেন। প্রথমার্ধে স্কোরলাইন আরও বড় হতে পারতো, তবে ভিএআরে তিনটি গোল বাতিল হয়—একটি হ্যান্ডবল, একটি ফাউল ও একটি অফসাইড। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে অধিনায়ক আফিদা খন্দকার বক্সের মধ্যে ফাউল করে পেনাল্টি উপহার দেন এবং কিছুক্ষণ পর ডিফেন্সের ভুলে আরও একটি গোল হয়।
দ্বিতীয়ার্ধেও খেলার চিত্র তেমন বদলায়নি। উত্তর কোরিয়ার আক্রমণ অব্যাহত থাকে, বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিলি আক্তার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন। ৬৩ ও ৬৪ মিনিটে টানা দুটি গোল আসে এবং ম্যাচের শেষের দিকে আরও একটি গোল হয়।
চীনের বিপক্ষে বাংলাদেশ কিছু আক্রমণ তৈরি করেছিল, কিন্তু আজকের ম্যাচে চীনের বক্সে বল পাঠাতে পারেনি। ঋতুপর্ণা চাকমা থাকলেও বলের যোগান যথাযথভাবে পাননি। প্রথমার্ধে তিনটি পরিবর্তন করা হয়। আগের ম্যাচের বদলি খেলোয়াড় আনিকা ও স্বপ্না এবার প্রথমার্ধে নামেন। উমহেলা প্রথমার্ধের শেষের দিকে একাদশে ফিরে আসেন। তহুরা ও আইরিন ৪৫ মিনিটের বেশি খেলতে পারেননি। দ্বিতীয়ার্ধে নবীরনের পর উন্নতি খাতুনকে মাঠে নামান কোচ বাটলার।
দুই ম্যাচ শেষে ছয় পয়েন্ট নিয়ে কোয়ার্টারে পৌঁছেছে উত্তর কোরিয়া। একই ভেন্যুতে আজ সন্ধ্যায় চীন উজবেকিস্তানকে হারালে তাদের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত হবে। বাংলাদেশকে কোয়ার্টারে উঠতে হলে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে পয়েন্ট পেতে হবে এবং পরবর্তী ধাপে যাওয়ার জন্য অন্য গ্রুপের ফলাফলের উপর নির্ভর করতে হবে।