অনলাইন সংস্করণ
১১:৪১, ২০ মে, ২০২৬
সিলেট টেস্টের চতুর্থ দিন শেষেই জয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল বাংলাদেশ। অলৌকিক কিছু না ঘটলে টাইগারদের জয় ঠেকানো কঠিন ছিল পাকিস্তানের জন্য। তবে পঞ্চম দিনের সকালে কিছুটা শঙ্কা তৈরি করেন মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সাজিদ খান। দুজনই দারুণ ব্যাটিং করছিলেন। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আবারও বাংলাদেশের ভরসা হয়ে ওঠেন তাইজুল ইসলাম।
প্রথমে সাজিদ খানকে ফিরিয়ে স্বস্তি এনে দেন এই বাঁহাতি স্পিনার। এরপর সেঞ্চুরির কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়া রিজওয়ানও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। শেষদিকে খুররাম শেহজাদকে আউট করে পাকিস্তানের ইনিংস গুটিয়ে দেন তাইজুল।
মিরপুরে প্রথম টেস্ট জয়ের পর সিলেটেও দাপট ধরে রাখে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচের সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে পাকিস্তানকে ৭৮ রানে হারিয়ে হোয়াইটওয়াশ করে টাইগাররা। এর মধ্য দিয়ে ঘরের মাঠে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানকে টেস্ট সিরিজে ধবলধোলাই করল বাংলাদেশ।
৪৩৭ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে চতুর্থ দিন শেষে ৭ উইকেটে ৩১৬ রান করেছিল পাকিস্তান। শেষ দিনে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল মাত্র তিন উইকেট, আর পাকিস্তানের দরকার ছিল ১২১ রান।
পঞ্চম দিনের শুরুতে ব্যাট করতে নামেন আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সাজিদ খান। দিনের শুরুতেই এই জুটি ভাঙার সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। নাহিদ রানার বলে পিছনের সারিতে ক্যাচ দিয়েছিলেন রিজওয়ান, তবে সেই সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেন মেহেদী মিরাজ।
এরপর রিজওয়ান ও সাজিদ খান ধীরে ধীরে ম্যাচে পাকিস্তানের আশা জাগাতে থাকেন। তবে সেই জুটি ভাঙেন তাইজুল ইসলাম। সাজিদ খানকে আউট করে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি। সাজিদ ৩৬ বলে ২৮ রান করেন।
অন্যদিকে শতকের পথে এগোচ্ছিলেন রিজওয়ান। তবে তাকে সেঞ্চুরি পূর্ণ করতে দেননি শরিফুল ইসলাম। মিরাজের হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে ১৬৬ বলে ৯৪ রান করেন পাকিস্তানের এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার। তার ইনিংসে ছিল ১০টি চার।
এছাড়া খুররাম শেহজাদ শূন্য রানে আউট হন এবং মোহাম্মদ আব্বাস অপরাজিত থাকেন শূন্য রানে।
বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৬ উইকেট নেন তাইজুল ইসলাম। ৩৪ দশমিক ২ ওভার বল করে ১২০ রান দিয়ে এই সাফল্য পান তিনি। এছাড়া নাহিদ রানা নেন ২ উইকেট। শরিফুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ পান একটি করে উইকেট।
এর আগে, সিলেট টেস্টের প্রথম ইনিংসে লিটন দাসের সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ তোলে ২৭৮ রান। জবাবে পাকিস্তান অলআউট হয় ২৩২ রানে। ফলে ৪৬ রানের লিড পায় স্বাগতিকরা।
দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ ৩৯০ রান করলে পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪৩৭ রান। তবে শেষ পর্যন্ত ৩৫৮ রানেই গুটিয়ে যায় সফরকারীদের ইনিংস।