
লিঙ্গ নির্ধারণ পরীক্ষায় চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী শরীরে পুরুষ হরমোনের আধিক্য থাকা প্রমাণিত হওয়ায় বাংলাদেশি অ্যাথলেট জান্নাত বেগম এবং কবিতা রায়কে নারী অ্যাথলেট হিসেবে প্রতিযোগিতা থেকে আজীবন নিষিদ্ধ করেছে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন। একই সঙ্গে তাদের অর্জিত মোট ১৫টি পদক বাতিল এবং দুটি নতুন জাতীয় রেকর্ড বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
এর আগে, ঘরোয়া অ্যাথলেটিকসে নারী বিভাগে অংশ নিয়ে জান্নাত বেগম জ্যাভলিন থ্রো ও ডিসকাস থ্রো ইভেন্টে ২টি নতুন জাতীয় রেকর্ডসহ ৮টি স্বর্ণ, ১টি রৌপ্য ও ২টি ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিলেন।
আরেক অ্যাথলেট কবিতা রায় ১০০ মিটার, ২০০ মিটার ও ৪×১০০ মিটার ইভেন্টে ১টি স্বর্ণ, ১টি রৌপ্য ও ২টি ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিলেন।
শনিবার বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সভায় এ পর্যন্ত তাদের অর্জিত সব পদক বাতিল করা হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছিল এই দুই অ্যাথলেট আসলে নারী নন, পুরুষ। অবশেষে লিঙ্গ নির্ধারণ পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে, তারা পুরুষ।
বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন জানিয়েছে, অ্যাথলেট জান্নাত বেগম (বাংলাদেশ সেনাবাহিনী) এবং কবিতা রায় (বাংলাদেশ নৌবাহিনী)-এর লিঙ্গ নির্ধারণ বিষয়ে স্ব-স্ব সংস্থার অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার অনুরোধ জানানো হয়েছিল।
তার প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গত ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ তারিখে একটি ৫ সদস্য বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ড গঠন করে অ্যাথলেটদের শারীরিক পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু করে। গত ১১ মে শেষ হয় পরীক্ষা এবং মেডিকেল বোর্ড গত ১৬ মে তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন ফেডারেশনে হস্তান্তর করে।
২৮ বছর বয়সী অ্যাথলেট জান্নাত বেগম এবং ১৯ বছরের কবিতা রায়ের হরমোন ও শারীরিক পরীক্ষা প্রমাণিত হয়েছে, তারা দুইজন পুরুষ।
ফেডারেশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অ্যাথলেট জান্নাত বেগম ও কবিতা রায় চিকিৎসা শাস্ত্র ও বিশ্ব সংস্থার বিধি অনুযায়ী পুরুষ বিবেচিত হওয়ায় তাদের নারী অ্যাথলেট হিসেবে প্রতিযোগিতা থেকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আবা/এসআর/২৬