অনলাইন সংস্করণ
১৭:১০, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের প্রবাসী অধ্যুষিত বাণিজ্যিক এলাকা কোতারায়ায় এক সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে দেশটির যৌথ বাহিনী।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) পরিচালিত এই বৃহৎ অভিযানে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন অভিযোগে মোট ৪৭২ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে সর্বাধিক ৩৬৪ জনই বাংলাদেশি।
কুয়ালালামপুর অভিবাসন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এদিন সকাল ১১টা থেকে শুরু হওয়া অভিযানে প্রায় ২ হাজার ৫০০ জন বিদেশি নাগরিকের নথিপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। বেআইনিভাবে ব্যবসা পরিচালনা, অনাকাঙ্ক্ষিত জনসমাগম এবং বৈধ নথিপত্র না থাকার মতো বিষয়গুলো চিহ্নিত করতে এই সমন্বিত তল্লাশি চালানো হয়।
অভিযান শেষে কুয়ালালামপুর অভিবাসন বিভাগের পরিচালক হামশাহ ইনজাউ জানান, অভিবাসন বিভাগ, সিটি করপোরেশন (ডিবিকেএল), ফায়ার সার্ভিস, জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে গঠিত ৩৩৭ সদস্যের একটি যৌথ দল এ অভিযান পরিচালনা করে।
তিনি আরও জানান, যাচাই-বাছাই শেষে আটক ৪৭২ জনের বয়স ১৮ থেকে ৬২ বছরের মধ্যে। এদের মধ্যে ৪৩৯ জন পুরুষ এবং ৩৩ জন নারী। আটককৃতদের মধ্যে ৩৬৪ জন বাংলাদেশি ছাড়া বাকিদের মধ্যে রয়েছে মায়ানমারের ৫৭ জন, ফিলিপাইনের ৯ জন, নেপাল, ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তানের ৭ জন করে, ভারতের ৬ জন, চীনের ৩ জন এবং জিম্বাবুয়ে ও সৌদি আরবের ১ জন করে নাগরিক।
মাঠপর্যায়ের তদন্তে দেখা যায়, পরীক্ষাকৃত অধিকাংশ প্রবাসীর বৈধ কাগজপত্র থাকলেও নির্দিষ্ট কিছু আইন ও শর্ত লঙ্ঘনের কারণে তাঁদের সাময়িকভাবে আটক করা হয়। বিশেষ করে বৈধ অনুমতি ছাড়া ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে স্থানীয় সিটি করপোরেশন (ডিবিকেএল) পৃথক আইনি পদক্ষেপ নেবে।
আটককৃতদের প্রাথমিক প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা ও অধিকতর তদন্তের জন্য বুকিত জলিল ইমিগ্রেশন ডিপোতে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এদিকে, অনিয়মিত প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে অভিবাসন পরিচালক হামশাহ ইনজাউ পুনরায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি এবং তাঁদের আশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে সরকারি কঠোর অবস্থান বহাল থাকবে। তিনি মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত অবৈধ প্রবাসীদের অনতিবিলম্বে দেশটির 'মাইগ্র্যান্ট রিপ্যাট্রিয়েশন প্রোগ্রাম' (পিআরএম)-এর সুযোগ নিয়ে নিজ নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান।