ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের শাহাদাত বার্ষিকী কাল

বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের শাহাদাত বার্ষিকী কাল

আগামীকাল, ১০ ডিসেম্বর, বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিনের ৫৪তম শাহাদাত বার্ষিকী পালন করা হবে। ১৯৭১ সালের এই দিনে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন তিনি খুলনার রূপসা নদীতে বাংলাদেশের বিজয়ের ৬ দিন আগে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর জঙ্গি বিমান থেকে ছোড়া বোমায় দগ্ধ হয়ে শাহাদাত বরণ করেন। তবে এই বীর শহীদের নিজ জন্মস্থান এখনও অনুন্নত। সরকারের উন্নয়ন থেকেও বঞ্চিত বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের জন্মস্থান রুহুল আমিন নগরের বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

দিবসটি উপলক্ষে আগামীকাল (১০ ডিসেম্বর) বিকাল ৩টায় তার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার দেওটি ইউনিয়নের বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন নগরে (বাঘপাছড়া) উপজেলা প্রশাসন এবং রুহুল আমিন গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরের উদ্যোগে আলোচনা সভা, মিলাদ মাহফিল ও খাবার বিতরণের আয়োজন করা হবে।

চট্টগ্রাম বিভাগের একমাত্র বীরশ্রেষ্ঠ খেতাব অর্জন করেছেন বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মো. রুহুল আমিন। বাবা মো. আজহার পাটোয়ারী ও মাতা জুলেখা খাতুনের ঘরে আলোকিত করে ১৯৩৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন এ বীর যোদ্ধা।

১৯৪৯ সালে সোনাইমুড়ী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এইচএসসি পাস করে পরিবারের সহায়তায় ১৯৫৩ সালে জুনিয়র মেকানিক্যাল অফিসার হিসেবে পাকিস্তান নৌবাহিনীতে যোগদান করেন।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি চট্টগ্রামে কর্মরত ছিলেন। সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে নৌঘাঁটি থেকে পালিয়ে নিজ বাড়িতে এসে যুবকদের প্রশিক্ষণ দিতে থাকেন। একাত্তরের মে মাসের প্রথম সপ্তাহে পাঁচ শতাধিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যুবকদের নিয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। যুদ্ধকালে জাহাজ পলাশ ও পদ্মার স্কোয়াড্রন লিডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর খুলনার রূপসা নদীতে মুক্তিযোদ্ধাদের বহনকারী যুদ্ধ জাহাজ পলাশের ইঞ্জিনরুমের দায়িত্ব পালন করার সময় পাকিস্তান বিমান বাহিনীর ছোড়া বোমায় গুরুতর আহত হন। আহত অবস্থায় রাজাকারের হাতে ধরা পড়ে তিনি বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে নিহত হন।

মরণোত্তর বিভিন্ন সময়ে নানা পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত করা হয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ মো. রুহুল আমিনকে। তার নামে রো-রো ফেরির নামকরণ করা হয়েছে ‘বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন’। ২০০৮ সালে তার বাড়ির সামনে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মো. রুহুল আমিন গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ করা হয়। নান্দিয়াপাড়ায় বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মো. রুহুল আমিন ডিগ্রি কলেজ নামকরণ ও সরকারিকরণ করা হয়েছে। বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মো. রুহুল আমিন একাডেমি স্থাপন করা হয়েছে।

এতো কিছুর পরও উন্নয়ন ও সরকারের সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত রুহুল আমিন নগরের বাসিন্দারা। রুহুল আমিন গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ করা হলেও এটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। রুহুল আমিন গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরের কেয়ারটেকার নাসির উদ্দিন জানান, প্রাংথাগার ও জাদুঘরের চেয়ার-টেবিল ভাঙা, লাইব্রেরিতে পর্যাপ্ত বই নেই, বাউন্ডারী ওয়াল নেই এবং ভবনের ইট সুরকি খসে পড়ছে। উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়গুলো জানানো হলেও কোন কাজ হচ্ছে না।

জাতির এই মহান বীর যোদ্ধার কবর খুলনার রূপসা নদীর পাড় থেকে তার জন্মস্থান সোনাইমুড়ীর রুহুল আমিন নগরে হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছে পরিবারের সদস্যরা ও এলাকাবাসী। বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মো. রুহুল আমিনের পুত্র শওকত জানান, “আমার পিতা দেশের এবং আমাদের এলাকার সম্পদ। বাবার কবরটি খুলনা থেকে নোয়াখালীতে আনার জন্য সরকারের কাছে বারবার জানালেও এখনো পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আমরা চাই দ্রুত বাবার কবরটি নোয়াখালীতে হস্তান্তর করা হোক।”

সোনাইমুড়ী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ডা. শামছুল আরেফিন জাফর বলেন, “একজন বীরশ্রেষ্ঠের এলাকা হিসেবে আমরা যা প্রত্যাশা করেছি তার কিছুই পাইনি। বরাবরই আমরা অবহেলিত ও বঞ্চিত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের নিহত সৈনিকদের সমাধি চট্টগ্রাম থেকে সম্প্রতি তাদের দেশে হস্তান্তর করা হয়েছে, কিন্তু আমাদের দেশের অভ্যন্তরে বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের কবর খুলনা থেকে নোয়াখালীর নিজ জন্মস্থানে আনা হচ্ছে না, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”

সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাসরিন আকতার জানান, “প্রতি বছরের ন্যায় এবারও আমরা বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মো. রুহুল আমিনের স্মরণে দোয়া ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছি। এলাকাবাসী ও পরিবারের দাবীর প্রেক্ষিতে উনার কবরটি খুলনা থেকে জন্মস্থানে হস্তান্তরের বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মো. রুহুল আমিনের জন্মস্থান হিসেবে এলাকার উন্নয়নে বিশেষ দৃষ্টি থাকবে।”

শাহাদাত বার্ষিকী,বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত