
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ১২ ফেব্রুয়ারি একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। এ গণভোট সামনে রেখে এরই মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে শুরু হয়েছে প্রচারণা। দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে ইসি’র ভোটের গাড়ি। তবে এই প্রচারণা সীমাবদ্ধ রয়েছে জেলা শহর পর্যন্ত। গণভোট যতটা গুরুত্বপূর্ণ ততটাই তা বিস্ময় ভোটারদের কাছে। মূলত গণভোট নিয়ে অজ্ঞতাই মূল কারণ।
মৌলভীবাজার জেলার ৯৩টি চা বাগানের ভোটার এবং গ্রামগঞ্জের সাধারণ ভোটাররা এখনো গণভোট কী, তা বুঝে উঠতে পারেননি। গণভোট কিসের জন্য, তাও জানেন না তারা। নির্বাচন কমিশন বিষয়টি নিয়ে কাজ করার ঘোষণা দিলেও এখনো তা দৃশ্যমান হয়নি। জানা গেছে, ‘দেশের চাবি আপনার হাতে’ স্লোগানে সাংবিধানিক গণভোটকে সামনে রেখে এরই মধ্যে জনসচেতনতা কার্যক্রম ও প্রচার শুরু করেছে অন্তবর্তীকালীন সরকার। তবে এই প্রচার শুধু সীমাবদ্ধ রয়েছে জেলা শহর পর্যন্ত। ফলে চা বাগানের সাধারণ ভোটার ও গ্রামাঞ্চলের লাখ লাখ ভোটাররা গণভোট কি তা বুঝে উঠতে পারছেন না। তারা গণভোট কি ও কি বিষয়ে ভোট হচ্ছে তাও জানেন না। ফলে অনেকটা না বুঝেই এই ভোট দিতে হবে তাদের।
কুলাউড়া ও কমলগঞ্জ উপজেলার গাজীপুর, বিজয়া, দিলদারপুর, কালিটি, শমশেরনগর, কানিহাটি, মাধবপুর, আলীনগরসহ কয়েকটি চা-বাগান ঘুরে বেশ কয়েকজন নারী ও পুরুষ ভোটারের সঙ্গে আলাপকালে তারা বলেন, তারা শুধু জানেন ফেব্রুয়ারিতে এমপি ভোট হবে। অনেক প্রার্থীই তাঁদের কাছে গিয়ে ভোট চেয়েছেন। তবে গণভোট নিয়ে কেউ কথা বলতে যাননি। ফলে গণভোট কী এবং কিসের জন্য, তা তারা জানেন না।
আলাপকালে দূর্গা মুন্ডা, সাবিত্রী চাষি, সুমী রবিদাস, ও নন্দিতা রবিদাস বলেন, আমরা কখনো গণভোট দেইনি। এবার সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি যে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট হবে, তা আমরা জানি না। আমাদের কেউ গণভোট দেওয়ার কথা বলেনি বা কিভাবে এই ভোট দেব, তা কেউ জানায়নি। যাদের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে, সবাই এমপি ভোটের (সংসদ নির্বাচন) কথা বলেছেন।
গাজীপুর, দিলদারপুর চা-বাগানের ভোটার লছমন রবিদাস, রামভজন তাঁতি বলেন, ‘গণভোট কি তা আমরা জানি না ভাই, আমাদেরকে এই ভোট নিয়ে কিছুই বলেনি। এই ভোট কিভাবে দিতে হবে আমরা জানি না।’
গণভোটের প্রচারের বিষয়ে মৌলভীবাজারের জেলা তথ্য কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এই প্রচারণা পিআইবি থেকে চালানো হচ্ছে। আমি যতটুকু জানি, শুধু জেলা শহরে এ প্রচারণা হবে। উপজেলা পর্যায়ে হবে না।’
তবে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, ‘গণভোট নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা ও মাইকিং করা হবে। প্রতি ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তারা প্রতিটি ওয়ার্ডে ভোটারদেরকে সচেতন করবেন।’