
কক্সবাজারের টেকনাফে মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে আহত ওই শিশু বেঁচে আছে। এর আগে, মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি ও রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাতের জেরে ছোড়া গুলিতে বাংলাদেশি ওই শিশু নিহত হয়েছে বলে খবর প্রচার হয়েছিল।
রোববার (১১ জানুয়ারি) বিকেল পৌনে ৩টার দিকে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে, রোববার সকাল ৯টায় টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ সীমান্ত এলাকায় সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি ও রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাতের জেরে ছোড়া গুলিতে বাংলাদেশি এক শিশু নিহত এবং কয়েকজন আহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছিলেন হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক খোকন কান্তি রুদ্র।
তবে বিকেল পৌনে ৩টার দিকে তিনি জানান, শিশুটি এখনও বেঁচে আসে। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে।
আহত শিশু আফনান (৭) একই এলাকার জসিম উদ্দিনের মেয়ে।
খোকন কান্তি রুদ্র বলেন, রোববার সকালে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ এলাকা সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি এবং রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র সংঘাতের ঘটনা ঘটে। এতে দুইপক্ষের মধ্যে অন্তত ঘন্টাব্যাপী গোলাগুলির হয়। এক পর্যায়ে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা সীমান্তের শূন্যরেখার দিকে পিছু হটে অবস্থান নেয়। এতে সকাল ৯টার দিকে আবারও উভয়পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘাতের ঘটনা ঘটে। এসময় মিয়ানমারের দিক থেকে ছোড়া গুলি সীমান্তের বাংলাদেশি এক বসত ঘরে আঘাত হানে। এতে বাংলাদেশি এক শিশু গুলিবিদ্ধ হয়। শুরুর দিকে শিশুটি মারা গেছে বলে সব দিকে প্রচার করা হয়। শিশুটির পিতা-মাতাও বুঝতে না পেরে শিশুটির মৃত্যুর সংবাদ প্রচার করে। পরে দেখা গেছে শিশুটি বেঁচে আছে। তাকে কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতাল থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ জালাল জানান, মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলি এক বাংলাদেশি শিশু আহত হওয়ার পর আশঙ্কাজনক হওয়ায় মারা গেছে বলে প্রচার হয়। এতে স্থানীয় লোকজন সড়ক অবরোধ করেছে। এখানে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী সহ জনপ্রতিনিধি পরিস্থিতি শান্ত করে নিশ্চিত হওয়া গেছে শিশুটি মারা যায়নি। তাকে আশঙ্কাজনক চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে।