
ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান ও তার স্ত্রী নুসরাত জাহানের নামে থাকা নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার জলসিঁড়ি প্রজেক্টের ১২ নম্বর সেক্টরের ৫০৬ নম্বর রোডের ১৪ নম্বর প্লটের জয়িতা নামের ৮তলা বাড়ির তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট সিলগালা করেছে প্রশাসন।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা আরডিসি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার পারভেজ এ সিলগালা করেন।
তবে ৮ তলার অন্যান্য ফ্ল্যাট ভাড়া দেওয়া থাকায় এবং ভাড়াটিয়া বসবাস করায় সেগুলো সিলগালা করা হয়নি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পূর্বাচল রাজস্ব সার্কেলের কানুনগো দেলোয়ার হোসেন, রূপগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশীলদার আবুল কালামসহ আরও অনেকে।
জানা গেছে, ক্ষমতার অপব্যবহার ও আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং তার স্ত্রী নুসরাত জাহানের নামে ১২০ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন করার অভিযোগে গত বছরের ২৩ জানুয়ারি দুদকের উপপরিচালক মো. সালাউদ্দিন বাদী হয়ে জিয়াউল আহসান ও তার স্ত্রী নুসরাত জাহানের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন।
ওই মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত হওয়া এই কর্মকর্তা নিজ নামে ২২ কোটি ২৭ লাখ ৭৮ হাজার ১৪২ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন।
এ ছাড়া গাইডলাইন অব ফরেন এক্সচেঞ্জ ট্রানজ্যাকশন-২০১৮ ও ২০২০ সালের সার্কুলার অনুযায়ী অনুমোদিত সীমা লঙ্ঘন করে নিজের ব্যাংক হিসাবে ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার জমা করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এছাড়া জিয়াউল আহসান নিজ নামে থাকা আটটি সক্রিয় ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১২০ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন করেছেন। তিনি তার পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে স্ত্রী নুসরাত জাহানের যোগসাজশে বিপুল পরিমাণ এই অর্থ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তর করেছেন।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে জিয়াউল আহসান দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, দণ্ডবিধি, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে অপরাধ করেছেন।
অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় গত বছরের ৭ জানুয়ারি জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।