অনলাইন সংস্করণ
১০:৫৩, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬
নরসিংদীতে মহাসড়ক উন্নতকরণে অপসারণকৃত বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের ম্যুরালের পুনর্নির্মাণের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রায়পুরা উপজেলার মাহমুদাবাদ নামাপাড়া এলাকায় দুপুরে নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা। এ সময় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, গত ২০ জানুয়ারি ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় মহাসড়কের পাশে নির্মিত বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের ম্যুরালটি অপসারণ করা হয়।
বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের পরিবারের অনুমতিক্রমেই ম্যুরালটি সরানো হয়েছে বলে জানা যায়। সড়ক সংস্কারের জন্য নির্ধারিত জায়গার বাইরে মহাসড়কের পাশেই আগের চেয়ে বড় পরিসরে এই ভাস্কর্যটি পুনর্নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মহাসড়ক প্রশস্তকরণের কাজ নির্বিঘ্নে বাস্তবায়নের স্বার্থেই সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তর সাময়িকভাবে ম্যুরালটি অপসারণ করেছে। এতে বীরশ্রেষ্ঠের প্রতি কোনো ধরনের অসম্মান বা অবহেলার বিষয় নেই। আগের নকশা ও কাঠামো অনুসরণ করে ম্যুরালটি পুনরায় নির্মাণ করা হবে এবং আগের চেয়ে বড় আকারে ৩০ ফুট বাই ৩০ ফুট করা হবে। আগে ম্যুরালটির আয়তন ছিল ১৬ ফুট বাই ১৬ ফুট, যাতে দূর থেকে আরও ভালোভাবে দেখা যায়।
রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক প্রশস্তকরণ কাজ চলমান রয়েছে। প্রথমে ম্যুরালটি রেখেই উন্নয়ন কাজ করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু ম্যুরালটি সড়কের মাঝখানে পড়ে যাওয়ায় সড়ক ও জনপদ বিভাগ এবং স্থানীয় প্রশাসনের উপস্থিতিতেই এটি সাময়িকভাবে অপসারণ করা হয়েছে।
উন্নয়নের জন্য নির্ধারিত জায়গার পর মহাসড়কের পাশেই আগের চেয়ে বড় আকারে বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের ম্যুরালটির নির্মাণকাজ ২৩ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে।
আগের নকশা অনুযায়ী পুনর্নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দও দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৬ মার্চের আগেই নির্মাণকাজ শেষ করার আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান বাংলাদেশের সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের একজন। মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে পাকিস্তানের একটি বিমানঘাঁটি থেকে যুদ্ধবিমান নিয়ে দেশে ফেরার পথে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে তিনি শহীদ হন। তার অসামান্য বীরত্ব ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবে ভূষিত করা হয়। বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের গ্রামের বাড়ি নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার রামনগর গ্রামে। তার স্মৃতি সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে ২০০৮ সালে তার গ্রামের বাড়িতে একটি জাদুঘর নির্মাণ করা হয়। পাশাপাশি ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে রায়পুরা উপজেলার মাহমুদাবাদ নামাপাড়া এলাকায় বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের স্মৃতিফলক ‘বাংলার ঈগল’ নির্মাণ করা হয়।
ত্রিমুখী কালো পাথরের এই ফলকের একটি স্তম্ভে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের প্রতিকৃতি, আরেকটিতে তার জীবনবৃত্তান্ত এবং অন্যটি খোলা আকাশের প্রতীক হিসেবে ফাঁকা রাখা হয়েছে। মাঝখানে ত্রিভুজ আকৃতির স্তম্ভে টেরাকোটায় মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন দৃশ্য ফুটে উঠেছে। সবার ওপরে রয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর নগর গ্রামের প্রবেশ নির্দেশক।