ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

খানসামায় জৈব পদ্ধতিতে লাউ চাষে আমিনুলের সাফল্য

খানসামায় জৈব পদ্ধতিতে লাউ চাষে আমিনুলের সাফল্য

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় নিরাপদ ও আধুনিক কৃষি পদ্ধতি অনুসরণ করে সুপার গ্রিন জাতের লাউ চাষে সফলতা পেয়েছেন বাশুলী গ্রামের কৃষক আমিনুল ইসলাম। কৃষি বিভাগের পরামর্শে লাউ চাষে কম খরচ ও বেশি লাভ পাওয়ায় তার এই উদ্যোগ এলাকায় অন্য কৃষকদের মাঝেও আগ্রহ তৈরি করেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সবুজে ঘেরা বিস্তীর্ণ লাউখেত। মাচাজুড়ে ঝুলছে সারি সারি লাউ। খেত থেকেই ফসল সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষি ও শ্রমিকরা। পাইকাররা সরাসরি জমি থেকে লাউ সংগ্রহ করায় বাজারজাত নিয়ে কৃষকদের দুশ্চিন্তাও অনেকটাই কমেছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আওতায় বাস্তবায়নাধীন দিনাজপুর অঞ্চল টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের (প্রথম সংশোধিত) অংশ হিসেবে খানসামা উপজেলায় নিরাপদ ও জৈব পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদনে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

এরই ধারাবাহিকতায় প্রকল্পের সহায়তায় বাশুলী গ্রামে ২০ শতক জমিতে জৈব সবজি উৎপাদনের একটি প্রদর্শনী স্থাপন করেন কৃষক আমিনুল ইসলাম।

পরবর্তী সময়ে নিজ আগ্রহে তিনি আরও ৮০ শতক জমিতে সুপার গ্রিন জাতের লাউ চাষ সম্প্রসারণ করেন। চাষের ক্ষেত্রে তিনি ফেরোমন ট্র্যাপ, হলুদ আঠালো ফাঁদসহ বিভিন্ন জৈব বালাই দমন পদ্ধতি ব্যবহার করেন। এতে ক্ষতিকর পোকামাকড়ের আক্রমণ কমেছে। উৎপাদিত লাউয়ের মান ভালো হওয়ায় বাজারে চাহিদাও বেড়েছে।

কৃষক আমিনুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে তিনি মোট ১০০ শতক জমিতে সুপার গ্রিন জাতের লাউ চাষ করেছেন। এর মধ্যে ২০ শতক জমিতে কৃষি বিভাগের সহায়তা পেয়েছেন। বীজ, মাচা তৈরি, জৈবসার, শ্রমিক ও নিয়মিত পরিচর্যা বাবদ তার মোট ব্যয় হয়েছে আনুমানিক ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকা।

তিনি বলেন, ‘লাউ রোপণের দুই থেকে আড়াই মাস পর ফসল সংগ্রহ শুরু করি। ইতোমধ্যে প্রায় দেড় লাখ টাকার লাউ বিক্রি করেছি। জমিতে এখন পর্যাপ্ত লাউ রয়েছে।’

আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আরও আনুমানিক দুই থেকে তিন লাখ টাকার লাউ বিক্রি করা সম্ভব হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, ‘কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী জৈবসার ও পরিবেশবান্ধব বালাই দমন পদ্ধতি ব্যবহার করেছি। সুপার গ্রিন জাতের লাউয়ের ফলন ভালো হওয়ায় বাজারেও ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে।’

স্থানীয় কৃষক আব্দুস সালাম বলেন, ‘অল্প খরচ ও পরিশ্রমে যদি এত লাভ হয়, তাহলে লাউ চাষ অবশ্যই লাভজনক। কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে আমরাও এই জাতের লাউ চাষ করব।’

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ ইয়াসমিন আক্তার বলেন, ‘দিনাজপুর অঞ্চল টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কৃষি বিভাগ নিরাপদ ও জৈব পদ্ধতিতে সবজি চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছে। প্রদর্শনীর মাধ্যমে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কৃষক আমিনুল ইসলাম উচ্চফলনশীল ও রোগসহনশীল সুপার গ্রিন জাতের লাউ চাষ করে সফলতা পেয়েছেন। তা অন্যান্য কৃষকের জন্য অনুকরণীয়। নিরাপদ সবজি উৎপাদনে কৃষি বিভাগ সবসময় কৃষকদের পাশে রয়েছে।’

আমিনুলের সাফল্য,জৈব পদ্ধতিতে লাউ চাষ,খানসামা
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত