
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, আমরা দেশ থেকে দুই ভূত বিতাড়িত করতে ১১ দল ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। রাজনীতি থেকে এ ভূত বিতাড়িত করতে হবে। এক ভূত হলো সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি আর এক ভূত হলো জনগণের সম্পদ নিয়ে দুর্নীতি।
রোববার সন্ধ্যায় সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ভূইয়াগাঁতী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী (রিকশা প্রতীক) মুফতি আব্দুর রউফ সরকারের নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মামুনুল হক বলেন, আমরা কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হইনি। বঞ্চিত, নিপীড়িত ও ভাগ্যাহত ১৮ কোটি মানুষের অধিকার ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে আমাদের এই ঐক্য। এ দেশ ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্তি পেলেও প্রকৃত স্বাধীনতার স্বপ্ন পূরণ আজও হয়নি। মহান মুক্তিযুদ্ধের পর মানুষ ভেবেছিল তারা নিজেদের শাসন করবে। কিন্তু আজও সাধারণ মানুষ শোষণ, দুর্নীতি ও বৈষম্যের শিকার।
তিনি বলেন, দেশে ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হলে যেমন হিন্দুরা অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে না, মুসলমানরাও অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে না। ইনসাফ কায়েম হলে কোনো শিশুকে নির্যাতন করার সুযোগ থাকবে না। কোনো নারীকেও কেউ তার প্রাপ্য ও ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারবে না। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বৈষম্যহীন একটি সমাজ গঠিত হবে।
তিনি আরও বলেন, দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারের পতন হয়েছে। জুলাই যোদ্ধার রক্তে এ মাটি পবিত্র হয়েছে এবং সেই আত্মত্যাগকে যারা সম্মান জানাতে পারে না, দেশের ভবিষ্যৎ তাদের হাতে নিরাপদ নয়। এ নির্বাচনের মাধ্যমে জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে হবে। এজন্য প্রত্যেককে ‘হ্যাঁ’ ও রিকশা মার্কায় ভোট দিতে হবে। এটা নিয়ে কোনো আপস নয়, কোনো নমনীয়তা নয়।
রায়গঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির আলী মর্তুজার সভাপতিত্বে এ সভায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ড. মাওলানা আব্দুস সামাদ ও ঐক্য জোটের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।