
সিরাজগঞ্জে চরাঞ্চলের ৩টি আসনে নির্বাচনে ভোটের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। ভোটের আগের দিন এ ক্যাম্প স্থাপন সম্পন্ন করা হয়। এ ক্যাম্পে দায়িত্বরতরা ভোটকেন্দ্র ও ভোটারদের নিরাপত্তা এবং ভোটের সরঞ্জাম আনা-নেওয়া করবেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, যমুনা বিধৌত এ জেলার কাজিপুর, চৌহালী ও শাহজাদপুর উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলে ভোটারদের নিরাপত্তায় এ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে চৌহালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার এইচ এম খোদাদাদ হোসেন আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি-চৌহালী) আসনে ভোটের নিরাপত্তায় চরাঞ্চলের ৩টি ইউনিয়নে অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এ উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নে সেনাবাহিনীর ৩০ সদস্য ও বিজিবির ২০ সদস্যের দল এ ক্যাম্প করেছে।
এছাড়া মোবাইল টিম হিসেবে তিনটি ভাগে ১৫ থেকে ২১ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া ঘোরজান ইউনিয়ন ও স্থল ইউনিয়নে দায়িত্ব পালনের জন্য সেনাবাহিনীর ৩৫ সদস্যের একটি দল এ ক্যাম্প করবে এবং পুলিশ সদস্যরা মোবাইল টিম হিসেবে দায়িত্বে থাকবে।
এ উপজেলায় ৪৩টি কেন্দ্রের মধ্যে অতীতে যেসব জায়গায় অপরাধ প্রবণতার অভিযোগ ছিল, সেই ধরনের ১৩টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করা হয়েছে।
কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সিরাজগঞ্জ-১ (কাজিপুর-সদরের একাংশ) আসনে যমুনা নদীর পশ্চিমপাড়ে অবস্থিত ৬টি ইউনিয়নে ভোটের নিরাপত্তায় ১০০ জন সেনাবাহিনী ও বিজিবির সদস্য দায়িত্ব পালন করবে।
এর মধ্যে নাটুয়ারপাড়া ইউনিয়নে ৪০ সদস্যের একটি বিজিবির দল এবং সেনাবাহিনীর ৬০ সদস্যের ২টি দল চরগিরিস ও মনসুরনগর ইউনিয়নে ক্যাম্প করেছে। এছাড়া পুলিশ সদস্যরাও মোবাইল টিমের দায়িত্ব পালন করবেন।
এদিকে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মাসফিকা হোসেন বলেন, সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের চরাঞ্চলের সোনাতনী ইউনিয়নে ৩০ সদস্যের সেনাবাহিনীর দল ক্যাম্প করেছে।
এছাড়া পুলিশ সদস্যরা মোবাইল টিম হিসেবে কাজ করবে। এ উপজেলায় মোট ১৬০টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮টি ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা বলছেন, জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২৬ লাখ ৮৬ হাজার ৮৫৮ জন। আর ৯২৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৭৮টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ, ২৮১টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৪৬৪টি সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এসব নির্বাচনী এলাকায় ভোটের নিরাপত্তায় ৩৮ জন নির্বাহী হাকিম, ১ হাজার ৩৭৪ জন সেনা সদস্য, ৯৬ জন র্যাব সদস্য, ৩৬০ জন বিজিবি সদস্য, ১ হাজার ৯৮৪ জন পুলিশ এবং ১২ হাজার আনসার সদস্য ভোটকেন্দ্র ও ভোটারের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবেন।
পুলিশ সদস্যদের কাছে কমপক্ষে ৩শ’ বডি ওর্ন ক্যামেরা থাকবে। দায়িত্বরতদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে জেলা প্রশাসকের গঠিত কমিটি অভিযোগ গ্রহণ করবে। দুর্গম চরাঞ্চলসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ভোটকেন্দ্র সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের জন্য প্রতিটি কেন্দ্রে কমপক্ষে ৩টি করে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।