
চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নে ৫৪ বছর ধরে অধিকাংশ নারী ভোটার ভোটকেন্দ্রে যান না- এমন একটি সামাজিক বাস্তবতা ভাঙতে এবার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসন তথা জেলা প্রশাসক মো. নাজমুল ইসলাম সরকার। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। নারী ভোটারদের নিরাপত্তা, পর্দা ও স্বাচ্ছন্দ্য বিবেচনায় প্রতিটি ধাপে নারী কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ করাতে ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বে শুধুই নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফরিদগঞ্জ সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইউএনও সেটু কুমার বড়ুয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৭০ সালে জৈনপুরের পীরের অনুরোধ মেনে ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের নারীরা ভোটের সময়েই ভোট দিতে যান না। মাঝে মধ্যে দু-একটি ভোটের সময় প্রার্থীদের কাছের আত্মীয়রা ভোট দিলেও তার পরিমাণ ছিল নামমাত্র। যদিও ভোট ছাড়া আর বাকি সব কাজেই ওই ইউনিয়নের নারীদের অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো। বিচরণ করেন হাট-বাজারসহ যাবতীয় সব কাজে।
ফলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম সরকার নারীদের পর্দা নিশ্চিত করে যেকোনো মূল্যে নারীদের ভোট দেওয়ার জন্য উদ্যোগ নেন। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের মোট ৮টি কেন্দ্রের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। ওই ইউনিয়নে মোট নারী ভোটার সংখ্যা ১০ হাজার ২৯৯ জন।
ফরিদগঞ্জ সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়নের ৮টি কেন্দ্রে নারী ভোটের জন্য ২০টি বুথ তৈরি করা হয়েছে। ওই বুথগুলোর জন্য সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সব পর্যায়ের ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে নারীদের নিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পুলিশ, আনসার ভিডিপি এবং ৮টি কেন্দ্রের জন্য একজন নারী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়া ৮ জন প্রার্থীকে ওই বুথগুলোতে নারী পোলিং এজেন্ট নিয়োগ দেওয়ার জন্য চিঠি ও মৌখিকভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।
ফরিদগঞ্জের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইউএনও সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর জেলা প্রশাসন ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছেন। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে নারীদের ভোটের জন্য নারী ম্যাজিস্ট্রেটসহ সব কর্মকর্তা নারী নিয়োগ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নারীদের পর্দা মেনে ভোট দেওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আশা করছি এবার নারীরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে ভোটকেন্দ্রে আসবেন।