ঢাকা শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

সিরাজগঞ্জের ছয় সংসদীয় আসনে জামানত হারিয়েছেন ২৭ প্রার্থী

সিরাজগঞ্জের ছয় সংসদীয় আসনে জামানত হারিয়েছেন ২৭ প্রার্থী

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জের ৬টি সংসদীয় আসনে ৩৯ প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এর মধ্যে ৫টিতে বিএনপি ও ১টি আসনে জয়ী হয়েছেন জামায়াত প্রার্থী। এ নির্বাচনে বিজয়ী ও তার নিকটতম প্রার্থী বাদে ২৭ জন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। এ নিয়ে অনেক স্থানে আলোচনাও জমে উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জ-১ (কাজিপুর-সদরের একাংশ) আসনে বিএনপি প্রার্থী সেলিম রেজা ১ লাখ ১৬ হাজার ৬১৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী শাহিনুর আলম পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ৮১৫ ভোট। এই ২ প্রার্থী ছাড়া ওই আসনের বাকি ৪ প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। এদের মধ্যে জাতীয় পার্টির জহুরুল ইসলাম ২ হাজার ৩৪ ভোট, গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) মল্লিকা খাতুন ১ হাজার ১৭০ ভোট, নাগরিক ঐক্যের নাজমুস সাকিব ৩২ ভোট ও স্বতন্ত্র আব্দুস সবুর পেয়েছেন ২৬৩ ভোট। এ আসনের কেন্দ্রসমূহে ২ লাখ ৮৪ হাজার ২১৪টি ভোট পড়েছে।

সিরাজগঞ্জ-২ (সদর-কামারখন্দ) আসনে বিএনপি প্রার্থী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫৭৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৭৯৭ ভোট। এ আসনে মোট ভোট পড়েছে ৩ লাখ ২৬ হাজার ১৪১টি। এ আসনের ৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫ জন জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন— ইসলামী আন্দোলনের মো. মহিবউল্লাহ পেয়েছেন ২ হাজার ১৬৭ ভোট, বাসদের এস. এম আব্দুল্লাহ আল মামুন ৮৬৫ ভোট, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির আনোয়ার হোসেন ৭৬৯ ভোট, গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান ৪১০ ভোট ও জনতার দলের সোহেল রানা ১৮২ ভোট পেয়েছেন।

সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনে বিএনপি প্রার্থী আয়নুল হক ১ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুহা. আব্দুর রউফ সরকার পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ৮৩৩ ভোট। এ আসনে মোট ভোট পড়েছে ৩ লাখ ৩৭টি। এ আসনে ৪ জন প্রার্থীর মধ্যে ২ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তারা হলেন— জাতীয় পার্টির ফজলুল হক ১ হাজার ৬৫৮ ভোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ইলিয়াছ রেজা রবিন ১ হাজার ৬ ভোট পেয়েছেন।

সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনে জামায়াত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম খান ১ লাখ ৬১ হাজার ৮৭২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির এম. আকবর আলী পেয়েছেন ১ লাখ ৬১ হাজার ২৭৮ ভোট। এ আসনে মোট ভোট পড়েছে ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৬৫টি। এ আসনে ৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩ জনের জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন— ইসলামী আন্দোলনের আব্দুর রহমান ২ হাজার ২১৬ ভোট, জাতীয় পার্টির হিল্টন প্রামাণিক ১ হাজার ২১৩ ভোট ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির আব্দুল হাকিম ৬৯৫ ভোট পেয়েছেন।

সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি-চৌহালী) আসনে বিএনপি প্রার্থী আমিরুল ইসলাম খান আলিম ১ লাখ ৩৪ হাজার ৯৮৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী আলী আলম পেয়েছেন ১ লাখ ৬ হাজার ৮০৫ ভোট। এ আসনে ভোট পড়েছে ২ লাখ ৫৪ হাজার ৮৩টি। এ আসনে ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছেন। তারা হলেন— ইসলামী আন্দোলনের নূরুন নবী ৫ হাজার ৭৫৯ ভোট, জাতীয় পার্টির আকবার হোসেন ১ হাজার ২২৪ ভোট, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির মতিয়ার রহমান ৩২৮ ভোট ও গণ অধিকার পরিষদের (জিওপি) ২৩৫ ভোট পেয়েছেন।

সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনে বিএনপি প্রার্থী ডা. এম এ মুহিত ১ লাখ ৭১ হাজার ৫০৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির প্রার্থী এম, এম সাইফ মোস্তাফিজ পেয়েছেন ১ লাখ ৩ হাজার ৮২৪ ভোট। এ আসনে ভোট পড়েছে ২ লাখ ৮৮ হাজার ৬৯৬টি। এ আসনে ১১ জন প্রার্থীর মধ্যে ৯ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছেন। তারা হলেন— ইসলামী আন্দোলনের মিসবাহ উদ্দিন পেয়েছেন ২ হাজার ৫৮০ ভোট, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মো: মোশারফ হোসেন শহিদুল ১ হাজার ১৩০ ভোট, জাতীয় পার্টির মোক্তার হোসেন ১ হাজার ৯৮ ভোট, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) ৮৯০ ভোট, আমজনতার দলের আসাদুল হক ৬৫৩ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী হুমায়ন কবির ৪৪১ ভোট, বাসদের এ্যাড. আনোয়ার হোসেন ৪০০ ভোট, এবি পার্টির আবু জাফর মো. আনোয়ারুল সাদাত ২৭১ ভোট ও স্বতন্ত্র ওয়াসেফ ইকবাল খান মজলিস ২৫২ ভোট পেয়েছেন।

এ বিষয়ে জেলা নির্বাচন অফিসের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলছেন, সংসদীয় আসনের মোট বৈধ ভোটের ৮ দশমিক ১ ভাগ ভোট না পেলে সেই প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত বলে গণ্য হবে। এ হিসেব অনুযায়ী সিরাজগঞ্জের ৬ সংসদীয় আসনে নির্বাচনে ৩৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মধ্যে ২৭ জন জামানত হারিয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সিরাজগঞ্জ,সংসদীয় আসন,জামানত,প্রার্থী
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত