
চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে পুনর্গণনা ও পুনঃভোটের দাবি জানিয়েছেন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য লায়ন মো. হারুনুর রশিদ।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নে নিজ বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কারচুপি ও জাল ভোটের মাধ্যমে নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করা হয়েছে।
হারুনুর রশিদ অভিযোগ করেন, কয়েকটি কেন্দ্রে ধানের শীষের এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয় এবং কেন্দ্র দখল করে বিপুল পরিমাণ জাল ভোট প্রদান করা হয়।
তিনি বলেন, বড়গাঁও উচ্চ বিদ্যালয়, গাজীপুর আহমদিয়া ফাজিল মাদরাসা, পশ্চিম ভাওয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাইকপাড়া বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শোশাইরচর প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাচনমেঘ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব আলোনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চররামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে তার নেতাকর্মীরা প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা না থাকার অভিযোগ জানিয়েছেন।
তিনি জানান, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণের আশা করেছিলেন। ভোটগ্রহণ শুরুর পর কাউনিয়া শহীদ হাবিব উল্লাহ ভোটকেন্দ্রে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভোট প্রদান করেন এবং বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। প্রথমদিকে নারী-পুরুষ ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করলেও দুপুরের পর শোল্লা, ঘড়িয়ানা ও মুন্সীরহাটসহ কয়েকটি কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ পান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন নিরপেক্ষ তদন্ত দল গঠন এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ফল পুনর্গণনার মাধ্যমে প্রকৃত ফলাফল প্রকাশের দাবি জানান তিনি। তার ভাষ্য, অধিকাংশ কেন্দ্রে তিনি এগিয়ে থাকলেও কয়েকটি কেন্দ্রে স্বতন্ত্র প্রার্থীর অস্বাভাবিক ভোট ব্যবধান কারচুপি ছাড়া সম্ভব নয়।
এছাড়া, স্বতন্ত্র প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণার পর গত দুই দিনে ফরিদগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় তার দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, মারধর ও বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এক কর্মীর তিনটি দাঁত ভেঙে দেওয়া এবং আরেক কর্মীকে না পেয়ে তার শিশুসন্তানের ওপর হামলার ঘটনাও উল্লেখ করেন তিনি।