ঢাকা রোববার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

মৃত্যুর আগেই নিজেদের কুলখানি করলেন স্বামী-স্ত্রী

মৃত্যুর আগেই নিজেদের কুলখানি করলেন স্বামী-স্ত্রী

সাধারণত মানুষ মারা যাওয়ার পর তার পরিবারের স্বজনরা মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল ও মেজবানির আয়োজন করে থাকেন। কিন্তু এই প্রচলিত প্রথার ব্যতিক্রম ঘটেছে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের গড়বাড়ি বখতিয়ার পাড়া গ্রামে। এই গ্রামের কৃষক শাহজাহান আলী (৭০) ও তার স্ত্রী রহিমা খাতুন (৫৫)। তারা মৃত্যুর আগেই সহস্রাধিক লোকের আয়োজনে নিজেদের মেজবানি করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, রোববার দুপুরে উপজেলার গড়বাড়ি বখতিয়ার পাড়া গ্রামের কৃষক শাহজাহান আলীর নিজ বাড়িতে এই মেজবানির আয়োজন করেন। এতে নিজের পালিত প্রায় তিন লাখ টাকা মূল্যের দুটি গরু এবং ১৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি খাসি জবাই করা হয় অতিথিদের খাওয়ানোর জন্য।

স্থানীয়রা জানায় এলাকায় বিত্তশালী কৃষক শাহজাহান আলীর ১ ছেলে ও ৩ মেয়ে রয়েছে। ইতোমধ্যে তিনি ছেলে মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন। এখন শাহজাহান আলী নিজের জমিজমা সন্তানদের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা করে দেওয়ার চিন্তা করছেন। এর মধ্যে তার মাথায় আসে তিনি মারা গেলে সন্তানরা যদি তাদের মেজবানি না করেন। তাই তিনি তাদের মেজবানি জীবিত অবস্থায় করে গেলেন। এজন্য তিনি বাড়ির ভেতরে ডেকোরেটর দিয়ে শামিয়ানা টাঙিয়ে সহস্রাধিক নারী-পুরুষকে দাওয়াত খাইয়েছেন।

এ নিয়ে শাহজাহান আলী বলেন, ‘এখন যুগ পাল্টে গেছে। মারা যাওয়ার পর কেউ মনে রাখে না। ইদানীং শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছি। নামাজ ছাড়া এখন তেমন কোনো কাজকর্ম করি না। তাই মরার আগে নিজের চল্লিশা (মেজবানি) নিজেই করে গেলাম।’

দাওয়াত খেতে আসা মজনু মিয়া বলেন, ‘জীবিত ব্যক্তি নিজের চল্লিশার আয়োজন করেছেন। এটা আগে আমি কোথাও দেখিনি। তবে খেয়ে তৃপ্তি পেয়েছি।’

শাহজাহান আলীর সন্তানরা বলেন, বাবা- মায়ের ইচ্ছা জীবিত অবস্থায় তাদের মেজবানি করবেন।

মৃত্যু,কুলখানি,সখীপুর
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত