
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার জেলার ৪টি আসনে ২৪ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৪ জন প্রার্থীই জামানত হারিয়েছেন। নির্বাচনের পর ফলাফলের ভিত্তিতে জেলা নির্বাচন কার্যালয় এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছে।
জানা যায়, আইন অনুযায়ী নির্বাচনে কোনো প্রার্থী সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। জেলার ৪টি সংসদীয় আসনে ১৪ জন প্রার্থীই প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট পাননি।
মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ী): এ আসনে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে জাতীয় পার্টির প্রার্থী লাঙল প্রতীকের আহমেদ রিয়াজ উদ্দিনের। তার প্রাপ্ত ভোট ১,৩৭৫টি। স্বতন্ত্র প্রার্থী কাপ-পিরিচ প্রতীকে বেলাল আহমদ ভোট পান ৬,৪৫৮, গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী ট্রাক প্রতীকে মো. আব্দুন নূর পান ২১৯ ভোট এবং গণফ্রন্টের প্রার্থী মাছ প্রতীকে মো. শরিফুল ইসলাম পান ১৭৪ ভোট।
মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া): সাবেক তিনবারের এমপি (জাতীয় পার্টি-কাজী জাফর) স্বতন্ত্র প্রার্থী ফুটবল প্রতীকে নওয়াব আলী আব্বাস খান পান ১৩,৭৫৪ ভোট, হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী আব্দুল কুদ্দুছ পান ৫২০ ভোট, ঘোড়া প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী এম জিমিউর রহমান চৌধুরী পান ২,১৪১ ভোট, জাতীয় পার্টির প্রার্থী লাঙল প্রতীকে মো. আব্দুল মালিক পান ৫৮৪ ভোট এবং বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল মার্কসবাদী দলের প্রার্থী কাঁচি প্রতীকে সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী পান ৫৯১ ভোট।
মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর): এ আসনে মাওলানা আহমদ বিলাল ১১ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী দেয়াল ঘড়ি প্রতীকে পান ৪,৬২৪ ভোট এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী জহর লাল দত্ত কাস্তে প্রতীকে পান ১,৭০৪ ভোট।
মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ): জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’র প্রার্থী প্রীতম দাশ শাপলা কলি প্রতীকে পান ৪,৫৬৩ ভোট। জাতীয় পার্টির প্রার্থী লাঙল প্রতীকে মোহাম্মদ জরিফ হোসেন পান ৯২৪ ভোট এবং বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) মই প্রতীকে মো. আবুল হাসান পান ৯৮১ ভোট।
জেলায় ৪টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ২৪ জন প্রার্থী। মোট ভোটার ছিলেন ১৬ লাখ ১৪ হাজার ৯৩৬ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ছিল ৫৫৮টি। মোট ভোট পড়েছে ৫১.২৭ শতাংশ। পোষ্টাল ভোট রেজিস্ট্রেশন হয়েছিল ২৩ হাজার ৭৩৬টি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসে পৌঁছায় ১৬,৮৬২ ভোট। বাতিল হয় ১,৪৬৪ ভোট।