
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে রমজান মাস শুরুর সাথেই পুষ্টিকর ফল কলার দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর সাথে তাল মিলিয়ে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ দাম বেড়েছে লেবুর। কয়েকদিনের ব্যবধানে প্রতি হালি কলায় দাম বেড়েছে ১০ থেকে ৩০ টাকা। দাম নিয়ন্ত্রণে ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ক্রেতারা।
সরেজমিনে বাজার ঘুরে দেখা যায়, কয়েকদিনের ব্যবধানে কলা ব্যবসায়ীরা প্রতি হালি কলাতে ১৫ থেকে ৩০ টাকা বেশি দামে বিক্রি করছেন। রমজান মাস শুরু হওয়ায় ফড়িয়া ব্যবসায়ীরা দাম ইচ্ছেমতো আদায় করছেন। ২০ টাকা হালি দামের কলা বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। চাম্পা কলা ও সাগর কলা প্রায় একই দামে বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে কঁচি কলাও কেমিক্যাল দিয়ে পাকিয়ে বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। পাশাপাশি লেবুর হালি ২০ টাকা থেকে বেড়ে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি রমজান মাস আসার কারণে বেশি দামে কলা ও লেবু কিনে আনতে হচ্ছে। ফলে সে অনুযায়ী দাম বাড়িয়ে বিক্রি করতে হচ্ছে।
পতনঊষার শহীদনগর বাজারে কলা কিনতে আসা মশিউর রহমান চৌধুরী বলেন, প্রায় সময় চম্পা কলা কিনে থাকি ১৫ থেকে ২০ টাকা হালি। রমজান মাস আসায় হঠাৎ করে ১০ টাকা কলার হালিতে বেড়ে ৩০ টাকা আর ২০ টাকার হালি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, রোজাদারদের অধিকাংশই রমজানে সেহরির সময়ে দুধ কলা দিয়ে ভাত খেয়ে থাকেন। ফলে কলার চাহিদাও কিছুটা বেশি থাকে।
শমশেরনগর বাজারের কলা ব্যবসায়ী মকুল মিয়া বলেন, রমজান আসলে কিছুটা কলার দাম বাড়ে। আমরাও বিভিন্ন এলাকা বা পাইকারি বাজার থেকে দাম দিয়ে কিনে আনতে হয়। দামে কিনে কিছু টাকা লাভ রেখে বিক্রি করি। আমাদের তো কিছু করার নাই।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সব সময় বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। রমজান মাসে যাতে কোনোভাবে ব্যবসায়ীরা যেকোন পণ্যে অতিরিক্ত ফায়দা লুটতে না পারে প্রশাসন সেভাবে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, মূল্যের চাইতে অতিরিক্ত দামের কোনো অভিযোগ থাকলে ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।
জাতীয় ভোক্তা অধিদ্প্তরের মৌলভীবাজারের সহকারী পরিচালক মো. আল আমিন জানান, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী ন্যায্য দামে প্রাপ্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযান চলমান আছে।’