ঢাকা সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

কক্সবাজারে গ্যাসপাম্পে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বিস্ফোরণ অধিদপ্তরের মামলা

কক্সবাজারে গ্যাসপাম্পে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বিস্ফোরণ অধিদপ্তরের মামলা

কক্সবাজারের কলাতলীতে এলপিজি গ্যাস পাম্পে আগুনের ঘটনায় মালিক নুরুল আলম প্রকাশ এন আলমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে বিস্ফোরণ অধিদপ্তর।

রবিবার রাতে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় বিস্ফোরণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রামের সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক এস. এম. সাখাওয়াত হোসেন বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি মো. ছমি উদ্দিন।

তিনি জানান, গ্যাস পাম্পের মালিক রামু উপজেলার নুর আহমদ সিকদারের ছেলে নুরুল আলম প্রকাশ এন আলমকে একমাত্র আসামি করে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।

মামলায় বিস্ফোরক আইন-১৮৮৪ এর বিধি ৫-এর ৩(ক), ৩(খ) এবং তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বিধিমালা, ২০০৪-এর বিধি ১১১ ধারা ও পেনাল কোড-১৮৬০-এর ৩০৪ ধারা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আসামিকে গ্রেপ্তারসহ আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।

বিস্ফোরণ অধিদপ্তরের দায়ের করা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আগুনের ঘটনার পর পরিদর্শন ও যাচাই-বাছাই করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে গ্যাস পাম্প পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসনের অনাপত্তিপত্র, পরিবেশ অধিদপ্তরের সনদ, ফায়ার সার্ভিসের অনুমতিপত্র এবং বিস্ফোরণ অধিদপ্তরের লাইসেন্স নেননি মালিক এন আলম, যা বিস্ফোরণ আইন অনুযায়ী অপরাধ।

এজাহারে একজন নিহতসহ ১০ জন আহত হওয়ার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে পাম্পের ট্যাংক থেকে গ্যাস নির্গত (লিকেজ) হয়ে আগুন ধরে যায়। পাম্পের কর্মচারীরা বালু ও পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আবার আগুন ধরে যায়।

বিস্ফোরণের পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের ঘরবাড়িসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে। আগুনে ৩০টির মতো গাড়ি, ৪টি বাড়িসহ নানা অবকাঠামো পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আগুনে দগ্ধসহ আহত হন ১৫ জন। এর মধ্যে ৬ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়।

শুক্রবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান মোহাম্মদ এস খালেদ জানান, গ্যাস পাম্পে অগ্নিকাণ্ডে চিকিৎসাধীন ৬ জনের মধ্যে আবু তাহের ৯০ শতাংশ, রহিম ৫০ শতাংশ, সিরাজ ৪০ শতাংশ, সাকিব ৩০ শতাংশ এবং মেহেদি ও মোতাহের ২০ শতাংশ করে দগ্ধ হয়েছেন।

আগুনের ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) কে প্রধান করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. শাহিদুল আলম। কমিটিকে ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

এদিকে, রবিবার দুপুর আড়াইটার দিকে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ আবু তাহের ৩ দিন পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

আবু তাহের (৪২) কক্সবাজার শহরের কলাতলী আদর্শ গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে। তিনি পেশায় অটোরিকশা চালক।

আবু তাহেরের মরদেহ এখনও কক্সবাজারে পৌঁছেনি। ময়নাতদন্ত শেষে সোমবার বিকেলে ঢাকা থেকে মরদেহ নিয়ে স্বজনরা কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন আদর্শ গ্রাম সমাজ কমিটির সভাপতি নছির উদ্দিন।

কক্সবাজার সদর থানার ওসি মো. ছমি উদ্দিন জানান, আগুনে দগ্ধ একজন ঢাকায় মৃত্যুর বিষয়টি অবহিত হয়েছে। মরদেহ কক্সবাজারে আসার পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিস্ফোরণ অধিদপ্তরের মামলা,অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা,কক্সবাজারে গ্যাসপাম্প
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত