ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে শিশু হত্যার নেপথ্যে পারিবারিক বিরোধ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে শিশু হত্যার নেপথ্যে পারিবারিক বিরোধ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কের জঙ্গল থেকে গলাকাটা অবস্থায় জীবিত উদ্ধার করা শিশু (মেয়ে) মারা যাওয়ার ঘটনায় জড়িত বাবু শেখকে (৪৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাকে গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন এক সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বিস্তারিত জানান।

পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের জেরে সীতাকুণ্ড উপজেলায় সাত বছর বয়সি জান্নাতুল নাইমা ইরাকে হত্যার পরিকল্পনা করে আসছিল আসামি বাবু শেখ। এক জবানবন্দিতে এ তথ্য স্বীকার করেছেন বাবু শেখ।

একইদিন দুপুরে কুমিরা কাজীপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্ত বাবু শেখকে (৪৫) গ্রেফতার করা হয়। বাবু শেখের স্থায়ী বাড়ি গাইবান্ধা জেলায় হলেও তিনি শিশুটির বাড়ির পাশেই ভাড়া থাকতেন।

হত্যার দিন অর্থাৎ রোববার (২ মার্চ) সকালে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী বাবু শেখ শিশুটিকে চকলেট কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। কুমিরা থেকে বাসযোগে সীতাকুণ্ড বাসস্ট্যান্ডে নেমে পায়ে হেঁটে পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়।

শিশুটি চিৎকার শুরু করলে বাবু শেখ তার কাছে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলায় আঘাত করেন এবং মৃত ভেবে ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে পালিয়ে যান বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন।

পরে আহত শিশুটি নির্মাণাধীন সড়কের দিকে উঠে এলে শ্রমিকরা তাকে উদ্ধার করে বেলা আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে থানায় খবর দেয়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে জান্নাতুল নাইমা ইরাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নাজির আহমেদ খাঁন বলেন, ঘটনার পর ভুক্তভোগীর বাড়ি কুমিরা থেকে সীতাকুণ্ড পাহাড় পর্যন্ত সড়কের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তায় অভিযুক্ত বাবু শেখকে শনাক্ত করা হয়।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে কুমিরা কাজীপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার আসামির দেখানো মতে ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা পোশাকসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড থানার ওসি মো. মহিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, শিশুটির মা রোববার বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে যে মামলা করেছিলেন সেটি এখন হত্যা মামলায় পরিণত হবে। নারী ও শিশু নির্যাতন আইন অনুযায়ী আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নেপথ্যে পারিবারিক বিরোধ,সীতাকুণ্ডে শিশু হত্যা,চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত