
সিরাজগঞ্জে এবার চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে তামাক চাষাবাদ করা হয়েছে। অনেক কৃষক অধিক লাভের আশায় ফসলের জমিতে এ চাষাবাদে ঝুকেঁ পড়েছে। এ চাষাবাদে কৃষি বিভাগের তেমন সহযোগিতা নেই। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জের ৯টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় ১২৫ হেক্টর জমিতে এ তামাক চাষ করেছে কৃষকেরা। তবে এ তামাক বেশি চাষ হয়েছে যমুনা নদী তীরবর্তী বেলকুচি ও চৌহালীসহ চরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে। এছাড়া কামারখন্দ ও উল্লাপাড়া উপজেলাসহ অনান্য স্থানেও এ চাষাবাদ হয়েছে। স্থানীয় কৃষকেরা বলছেন, কয়েক যুগ আগে এ চাষাবাদে কৃষকেরা উৎসাহিত ছিল। পরবর্তীতে ক্রমাগতভাবে এ চাষে ঝুকছে কৃষকেরা।
প্রতিবছর ডিসেম্বরের প্রথম থেকে কৃষকেরা এ চাষাবাদ করে এবং বিশেষ করে বাড়ির আঙ্গিনা ও পতিত জমিতে এ চাষাবাদ বেশি হয়ে থাকে। স্থানীয় বাজারে চাহিদা মিটিয়ে এ তামাক রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে ব্যবসায়ীরা। এতে কৃষকেরা এ চাষে খরচ বাদে লাভও বেশি পেত। এবার অধিক লাভের আশায় ধানসহ বিভিন্ন ফসলি জমিতে এ চাষাবাদ করেছে কৃষকেরা। কম খরচে এ চাষাবাদে লাভ বেশি হলেও এবার তা পরিলক্ষিত হচ্ছে না। কারণ সম্পর্কে তারা আরো বলেন, এ চাষাবাদ শুরু থেকেই প্রচন্ড শীত ও ঘন কুয়াশায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও গ্রাম বাংলার কৃষকেরা একসময় উৎপাদিত তামাক দিয়ে হুক্কা টানতো। এখন তার পরিবর্তে ধুমপান হিসেবে বিড়ি সিগারেট বেশি খাচ্ছে। যে কারণে তামাকের চাহিদা ক্রমশ কমছে এবং এ চাষাবাদে স্থানীয় কৃষি বিভাগ কৃষকদের তেমন উৎসাহিত করছে না। এ বিষয়ে কৃষি বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কৃষিবিদ বলছেন, ধুমপান বিষপান ও ক্যান্সারের কারণ। এ কারণে এ চাষে কৃষকদের নিরুৎসাহিত করা হয়ে থাকে। তবে কৃষকেরা পরামর্শ চাইলে এ চাষে পরামর্শ দেয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।