
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
তিনি বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র হিসেবে জাতীয় বিদ্যুৎ খাতে যুগান্তকারী অবদান রাখবে।
রোববার (৮ মার্চ) সকালে প্রকল্প সাইট পরিদর্শন করে নির্মাণকাজের বর্তমান অবস্থা ও প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ শেষে এসব কথা বলেন তিনি।
পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আযাদ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন, মন্ত্রীর পিএস মোখলেছুর রহমান, প্রকল্প পরিচালক ড. কবীর হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমারসহ প্রকল্পে কর্মরত প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল)-এর চিফ পিপিএস এস এম মাহমুদ আরাফাত পরিদর্শনের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মন্ত্রীর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল প্রকল্পের মেইন কন্ট্রোল রুমসহ পুরো সাইট ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি প্রকল্পের বিভিন্ন ধাপের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। প্রকল্প এলাকায় পৌঁছালে এনপিসিবিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জায়েদুল হাসান মন্ত্রীকে স্বাগত জানান।
পরিদর্শন শেষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রকল্পের কাজের চূড়ান্ত প্রস্তুতি, অগ্রগতি এবং সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জায়েদুল হাসান। এ সময় প্রকল্পের সার্বিক কার্যক্রমের ভিডিওচিত্রও উপস্থাপন করা হয়।
ড. জায়েদুল হাসান জানান, প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে জ্বালানিবিহীন রিয়্যাক্টর (হট রান) অপারেশন চালানোর পরও পরিদর্শনে কোনো বড় ধরনের ত্রুটি ধরা পড়েনি। নিরাপত্তাসংক্রান্ত সব কার্যকরী পরীক্ষাও সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে, যা বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। তাই অচিরেই রিয়্যাক্টরে পারমাণবিক জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোড করে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।