
স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে ভুলক্রমে একটি ট্রেনে উঠে পড়ে হারিয়ে যায় কুমিল্লার শিশু আব্দুল্লাহ। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি শিশুটি। একে একে কেটে গেছে ৮ মাস ১২ দিন। সৃষ্টিকর্তার কাছে কত দোয়া, অঝোরে কেঁদে পরিবার পার করেছেন এই সময়। অবশেষে পরিবারটির ডাক শুনেছেন সৃষ্টিকর্তা।
সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের স্নায়ুকেন্দ্র পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের গুরুত্বপূর্ণ পাবনার ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন স্টেশনে রেলওয়ে পুলিশের (জিআরপি) সহযোগিতায় কুমিল্লা থেকে হারিয়ে যাওয়া শিশু আবদুল্লাহ (১০) কে ফিরে পেয়েছে তার পরিবার।
শিশুটিকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন ঈশ্বরদী জিআরপি পুলিশ। এ সময় হারানো শিশু আবদুল্লাহকে ফিরে পেয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা।
ঈশ্বরদী রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৮ মাস ১২ দিন আগে আবদুল্লাহ স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। এ সময় ভুলক্রমে একটি ট্রেনে উঠে পড়ে সে। এরপর আর শিশুটি বাড়ি ফেরেনি। দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ থাকায় তাকে খুঁজতে খুঁজতে পরিবারের সদস্যরা প্রায় দিশেহারা হয়ে পড়েন। আবদুল্লাহ কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের মো. মামুন মিয়ার ছেলে।
গতকাল রবিবার রাত প্রায় ১০টার দিকে ঈশ্বরদী রেলওয়ের জংশন স্টেশনের সুপারেন্টেনডেন্ট (এসএসএই, সিগন্যাল) মো. ইফতেখারুল ইসলাম শিশুটিকে দেখতে পান। পরে তাকে ঈশ্বরদী রেলওয়ে জিআরপি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর কর্তব্যবোধ ও মানবিকতার তাগিদে রেলওয়ে পুলিশ এবং স্থানীয়দের উদ্যোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ দেশের বিভিন্ন থানায় বিষয়টি প্রচার করা হয়। ধীরে ধীরে কথা বলা শিশুটির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
ঈশ্বরদী রেলওয়ে জিআরপি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিয়াউর রহমান জানান, ৮ মাস ১২ দিন পর পরিবার শিশুটিকে ফিরে পাওয়া সত্যিই খুব আনন্দের ব্যাপার। খবর পেয়ে শিশুটির দুই ভাই ফাহিম ও রিশাত থানায় এসে তাকে দেখতে পান।
এ সময় আবদুল্লাহ দুই ভাইকে জড়িয়ে ধরে এবং তাদের মুখ ও কপালে হাত রেখে দীর্ঘদিনের না-পাওয়ার কষ্টের এক আবেগঘন মুহূর্তের সৃষ্টি হয়। উপস্থিত সবাই সেই দৃশ্য দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
তিনি আরও জানান, সেই মুহূর্তে নিজেকে সামলে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছিল। হয়তো এটিই মানবতা। আমরা ছোট্ট একটি চেষ্টা করেছি—শিশুটির নোংরা পোশাক পরিবর্তন করে তাকে নতুন একটি পোশাক পরিয়ে দিয়েছি। সকল প্রকার আইনি প্রক্রিয়া শেষে শিশুটিকে সোমবার দুপুরে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।