ঢাকা মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৫ ফাল্গুন ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

সিরাজগঞ্জে জমে উঠেছে কাপড়ের হাট

প্রতি হাটে ৬০০ কোটি টাকার বেচাকেনা
সিরাজগঞ্জে জমে উঠেছে কাপড়ের হাট

আসন্ন ঈদ উপলক্ষ্যে সিরাজগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী শাহজাদপুর কাপড়ের হাটে বেচাকেনা জমে উঠেছে। গত বছরের চেয়ে এবার এ হাটে বিপুল টাকার বেচাকেনা হচ্ছে। প্রতি হাটে গড়ে ৬০০ কোটি টাকার লুঙ্গি ও শাড়ি কাপড় বেচাকেনা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শাহজাদপুর কাপড়ের হাট বসে সপ্তাহের রবি ও বুধবার। তবে আগের দিন বিভিন্ন স্থান আগত ব্যবসায়ীরা অবস্থান নেয় এই হাটে। বিশেষ করে রমজানের শুরু থেকেই ওই কাপড়ের হাট জমে উঠছে এবং হাজার হাজার পাইকার-খদ্দেরের কাপড় দরদামের হাঁকডাক শুরু হয়। এমনকি হাটের চারদিকে কাপড়ের গাঁট স্তূপ করে রাখা হয়। এসব বাহারি বাহারি রকমের কাপড়ের রঙের দৃষ্টি পড়ে চোখে। রমজানের আগে প্রতি হাটে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার লেনদেন হয়ে থাকে। আর রমজান শুরুতে সাড়ে ৩’শ থেকে ৪’শ কোটি টাকার বেচাকেনা হয়ে থাকে এবং ঈদের আগ মুহূর্তে প্রতি হাটে ৬’শ কোটি টাকার বেচাকেনা হচ্ছে। বিপুল পরিমাণ বেচাকেনার কারণে এ হাটকে দেশের অন্যতম কাপড়ের হাট বলে পরিচিত। এ হাটের পশ্চিম পাশে মহাসড়ক ও আশপাশে আঞ্চলিক সড়ক এলাকায় সারি সারি ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানে লোড করা হচ্ছে বিভিন্ন রঙের কাপড়ের গাঁট। ব্যবসায়ীদের ক্রয় করা কাপড় শ্রমিকেরা ভ্যান ও অন্যান্য যানবাহনে এ কাপড়ের গাঁট তুলে নিয়ে ট্রাক বোঝাই করছে। আর এ কাপড় বোঝাই ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। এ হাট ঘিরে ছোট-বড় আবাসিক-অনাবাসিক হোটেল ও খাবারের দোকান গড়ে উঠেছে। এসব হোটেলে থাকা খাওয়া খরচও কম।

স্থানীয়রা ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারতসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের পাইকার ব্যবসায়ীরা এ হাটের বড় ক্রেতা। পাইকারি ব্যবসায়ীরা হাটের আগের দিন শাহজাদপুর হাটে অবস্থান করে এবং তারা শাড়ি ও লুঙ্গির কাপড় ক্রয় করেন। এ হাটে কেনাবেচার টাকা ব্যাংকের মাধ্যমে বেশি লেনদেন করা হয়।

ব্যবসায়ীরা আরো বলছেন, সিরাজগঞ্জের শাড়ি-লুঙ্গির চট্টগ্রামে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এ কারণে এখান থেকে কাপড় নিয়ে দোকানের ব্র্যান্ডের মার্কা লাগিয়ে শো-রুমে খুচরা দরে বিক্রি করা হয়। পাইকারি বাজারে শাড়ি-লুঙ্গি বিক্রি করা হয় জোড়া, পেটি, থান হিসেবে। এ অঞ্চলের তাঁতের কাপড়ের সুনাম দেশজুড়ে। শাড়ি, লুঙ্গি, থান কাপড় ও থ্রিপিসসহ দেশি কাপড় কিনতে এই হাটে ভিড় করছেন পাইকাররা। তবে এ বছর সব ধরণের কাপড়ের দাম বেড়েছে। এ অঞ্চলের তাঁতে উৎপাদিত শাড়ি লুঙ্গি বিক্রিতে খরচ বাদে ভালো লাভ হয়ে থাকে।

হাটের ইজারাদার ও তাঁত মালিকরা জানান, বগুড়া-নগড়বাড়ি মহাসড়কের পূর্বপাশে ঐতিহ্যবাহী এই শাহজাদপুর কাপড়ের হাট। প্রতি হাট বারে কোটি কোটি টাকার কাপড় বেচাকেনা হয়ে থাকে। এ কারণে শাহজাদপুরের হাট দেশের অন্যতম কাপড়ের হাট বলে পরিচিত। আশা করছি এবার ঈদ উপলক্ষ্যে গড়ে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকার কাপড় বেচাকেনা হবে।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার ওসি সাইফুল ইসলাম আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, ঐতিহ্যবাহী শাহজাদপুর কাপড়ের প্রতি হাটে কঠোর নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে এবং ব্যবসায়ীদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জ,কাপড়ের হাট,হাট,বেচাকেনা
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত