
মানবিক সাড়াদানে গুণগত অর্থায়ন (Quality Funding) এবং ঝুঁকি ভাগাভাগি (Risk Sharing) নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কক্সবাজারে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) কক্সবাজার শহরের একটি স্থানীয় হোটেলের সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পালস্-এর উদ্যোগে “প্রতিশ্রুতি থেকে কার্যকর পদক্ষেপ: মানসম্মত অর্থায়ন ও ঝুঁকি ভাগাভাগির অগ্রযাত্রা” শীর্ষক এই লোকালাইজেশন বিষয়ক সেমিনার আয়োজন করা হয়।
আন্তর্জাতিক সংস্থা মাল্টিজার ইন্টারন্যাশনাল এর সার্বিক সহযোগিতায় টুগেদার প্রকল্প এর আওতায় আয়োজিত এ সেমিনারের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন পালস্-এর অবৈতনিক নির্বাহী পরিচালক আবু মোরশেদ চৌধুরী।
সেমিনারে টুগেদার প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশসহ আটটি দেশে পরিচালিত কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা করেন মাল্টিজা ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সমন্বয়কারী মোহাম্মদ আরিফ দেওয়ান। এ সময় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পালস্-এর প্রকল্প সমন্বয়কারী রাশেদুল হাসান।
পরে পালস্-এর নির্বাহী পরিচালক আবু মোরশেদ চৌধুরী-এর সঞ্চালনায় মানবিক সাড়াদানে গুণগত অর্থায়ন, ঝুঁকি ভাগাভাগি এবং লোকালাইজেশন বিষয়ক একটি প্ল্যানারি সেশন অনুষ্ঠিত হয়।
প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন শরণার্থী প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসন কমিশনের প্রতিনিধি ও ক্যাম্প-ইন-চার্জ (উপসচিব) মো. শরিফুল ইসলাম, ব্রাক এর সিনিয়র পরিচালক এ কে এম মোরশেদ, বিটা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক শিশির দত্ত, মাল্টিজা ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি ডিরেক্টর কীর্তি, ISCG এর প্রিন্সিপাল কো-অর্ডিনেটর ডেভিড বাগড্যান, মুক্তি কক্সবাজার-এর প্রধান নির্বাহী বিমল চন্দ্র দে সরকার, UNHCR প্রতিনিধি এস্ট্রিট, এনজিও প্লাটফর্ম-এর কো-অর্ডিনেটর মার্কো মিলজ্যভিক, জেনাস-এর নির্বাহী পরিচালক শিউলি শর্মা, Oxfam-এর হেড অব ফিল্ড অফিস জোবাইদা আখতার এবং সুশীলন-এর উপদেষ্টা মো. মুজিবুর রহমান।
এছাড়া কক্সবাজার প্রেসক্লাব-এর সভাপতি মাহবুবুর রহমান, কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট রমিজ আহমদ, সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস শুক্কুর, গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, কোনো সংকট বা মানবিক বিপর্যয়ের সময় স্থানীয় সংগঠন, জনগণ এবং জনপ্রতিনিধিরাই সবার আগে এগিয়ে আসে এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো চলে যাওয়ার পরও দীর্ঘ সময় ধরে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থাকে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও আস্থার কারণে তারা দ্রুত এবং বাস্তবসম্মতভাবে সহায়তা প্রদান করতে সক্ষম হয়।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্থানীয়করণ নীতির বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবে স্থানীয় সংস্থাগুলোর কাছে সরাসরি অর্থায়নের সুযোগ এখনও সীমিত। অধিকাংশ অর্থ আন্তর্জাতিক সংস্থা বা বিভিন্ন স্তরের মাধ্যমে প্রবাহিত হওয়ায় তা স্থানীয় পর্যায়ে পৌঁছাতে সময় লাগে এবং প্রশাসনিক ব্যয়ও বৃদ্ধি পায়।
মানবিক সহায়তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে সেমিনারে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে— স্থানীয় সংস্থাগুলোর জন্য সরাসরি ও নমনীয় অর্থায়ন বৃদ্ধি, বহু বর্ষী অর্থায়নের ব্যবস্থা চালু করা, প্রশাসনিক ব্যয় নিশ্চিত করা, স্থানীয় উদ্যোগকে শক্তিশালী করতে বিশেষ অর্থায়ন তহবিল গঠন এবং সরকার, দাতা ও আন্তর্জাতিক সংস্থার মধ্যে সমতাভিত্তিক ঝুঁকি ভাগাভাগির নীতি প্রণয়ন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে আবু মোরশেদ চৌধুরী বলেন, ঐতিহাসিকভাবে মানবিক সহায়তা ব্যবস্থায় প্রায়শই এমন একটি ঝুঁকি স্থানান্তর (Risk Transfer) মডেল অনুসরণ করা হয়েছে, যেখানে আর্থিক, আইনি, কমপ্লায়েন্স এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত ঝুঁকির বড় অংশ আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে স্থানীয় ও জাতীয় এনজিওগুলোর ওপর স্থানান্তর করা হয়। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে লোকালাইজেশন একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক পদ্ধতির আহ্বান জানায়, যা আস্থা, পারস্পরিক জবাবদিহিতা এবং যৌথ দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে গড়ে উঠবে।
শেষে বিটা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক শিশির দত্ত উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানানোর মাধ্যমে সেমিনারের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।