ঢাকা মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

ঈদেও ঈশ্বরদীর শতবর্ষী বেনারসি পল্লীতে নেই কর্মচাঞ্চল্য

ঈদেও ঈশ্বরদীর শতবর্ষী বেনারসি পল্লীতে নেই কর্মচাঞ্চল্য

এবারের ঈদকে সামনে রেখে যেখানে ব্যস্ত থাকার কথা ছিল, সেখানে ছিটেফোঁটাও কর্মচাঞ্চল্য নেই ঈশ্বরদীর ঐতিহ্যবাহী বেনারসি পল্লীতে। শতবর্ষের এই তাঁত শিল্প এখন অস্তিত্ব সংকটে। বাজার দখল করে নিয়েছে ভারতীয় শাড়ি, ফলে কাজ হারাচ্ছেন দেশীয় কারিগরেরা।

ঈশ্বরদীর বেনারসি পল্লী ঘুরে জানা যায়, পাবনার ঈশ্বরদীর বেনারসি পল্লীর ইতিহাস শত বছরেরও বেশি পুরোনো। ব্রিটিশ আমলে ভারত থেকে আসা কারিগরেরা এখানে বসতি স্থাপন করে দক্ষ হাতে কাতান ও বেনারসি শাড়ি বুননের মাধ্যমে গড়ে তোলেন সমৃদ্ধ এই তাঁত শিল্প।

২০০৪ সালে ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড ফতেমোহাম্মদপুর এলাকায় সাড়ে ৫ একর জমির ওপর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বেনারসি পল্লী প্রতিষ্ঠা করে। ২০ বছরে প্লটের কিস্তি পরিশোধের সুবিধায় ৯০ জন তাঁতিকে ৯০টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়।

এর মধ্যে ৭০টি ৩ শতাংশ এবং ২০টি ৫ শতাংশ জমির প্লট। তবে ৯০টির মধ্যে মাত্র ৭টিতে কারখানা স্থাপন করা হলেও বর্তমানে চালু রয়েছে হাতে গোনা কয়েকটি।

এক সময় এই এলাকা তাঁতের খটখট শব্দে মুখর থাকত। কয়েক হাজার কারিগর ও শতাধিক কারখানায় দিন-রাত চলত শাড়ি তৈরির কাজ। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সেই ঐতিহ্য আজ হারিয়ে যাওয়ার পথে। ঈদ সামনে থাকলেও নেই আগের মতো ব্যস্ততা; খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে অল্প কিছু কারখানা, অধিকাংশই বন্ধ হয়ে গেছে।

এখানকার কারিগর ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ভারতীয় স্বয়ংক্রিয় মেশিনে তৈরি কম দামের শাড়ি বাজার দখল করায় দেশীয় হাতে বোনা বেনারসি শাড়ির চাহিদা কমে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে বিলুপ্ত হয়ে যাবে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প।

বেনারসি পল্লীর কারখানা মালিক ও কারিগররা জানান, সরকারি উদ্যোগে গড়ে উঠলেও প্রত্যাশিত সংখ্যক তাঁত মালিক এখানে কারখানা স্থাপন করেননি। ফলে পল্লীটি ধীরে ধীরে ধ্বংসের পথে যাচ্ছে।

তাঁত মালিকদের ভাষ্য, “আগে এখানে প্রায় এক হাজার তাঁত ছিল। এখন কমে দাঁড়িয়েছে ৪০ থেকে ৫০টিতে। সরকারি সহায়তা ও সহজ কিস্তির সুবিধা পেলে আমরা এই শিল্প টিকিয়ে রাখতে পারতাম। নতুন প্রজন্মও আর এই পেশায় আসছে না। হয়তো কয়েক বছরের মধ্যেই এই শিল্প পুরোপুরি হারিয়ে যাবে।”

ব্যবসায়ীরা বলছেন, একসময় এখানে অসংখ্য কারখানা ও শ্রমিক থাকলেও এখন তা হাতে গোনা কয়েকটিতে সীমাবদ্ধ। সরকারি সহায়তা ছাড়া এই শিল্প টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।

ব্যবসায়ী মো. জাবেদ খান বলেন, “আমার বাবা বেনারস থেকে এসে এখানে ব্যবসা শুরু করেন। কিন্তু ভারতীয় শাড়ির দাপটে আমরা আর তাঁত টিকিয়ে রাখতে পারছি না। উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় কারিগরদের ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।”

শাড়ি ব্যবসায়ী ওয়াকিল খান বলেন, “ভারতে মেশিনে কম খরচে দ্রুত শাড়ি তৈরি হয়। সেখানে আমরা হাতে একটি শাড়ি তৈরি করতে সময় ও খরচ দুটোই বেশি লাগে। ফলে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছি না।”

শতবর্ষের এই ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্প টিকিয়ে রাখতে আধুনিক প্রযুক্তি, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এবং বাজার সুরক্ষার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

নেই কর্মচাঞ্চল্য,শতবর্ষী বেনারসি পল্লী,ঈদেও ঈশ্বরদী
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত