ঢাকা বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

চবির উপাচার্য পদে যোগদান করলেন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান

চবির উপাচার্য পদে যোগদান করলেন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হিসেবে যোগদান করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৪টায় চবি উপাচার্য দপ্তরে উপাচার্য পদে যোগদান করেন তিনি।

এ সময় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। তিনি চবির উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে বিএসসি (সম্মান) ও এমএস ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে তিনি ১৯৯৩ সালে একই বিভাগের প্রভাষক হিসেবে শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন এবং ২০০৬ সালে অধ্যাপক পদে উন্নীত হন। প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান যুক্তরাজ্যের নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইন্ডিকা ধানের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ক গবেষণার ওপর পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে কানাডার ইউনিভার্সিটি অব আলবার্টা এবং অ্যাগ্রিকালচারাল রিসার্চ কাউন্সিলে তেলবীজের গুণগত মান উন্নয়ন নিয়ে পোস্ট ডক্টরাল গবেষণা সম্পন্ন করেন। এছাড়া তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, ডেভিসে ভিজিটিং প্রফেসর ও গবেষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর পিএইচডি ও পোস্টডক্টরাল গবেষণার জন্য তিনি ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (IDB)-এর মর্যাদাপূর্ণ বৃত্তি লাভ করেন।

২০০৪ সালে তাঁর উদ্যোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়। তাঁর উদ্যোগে বিভাগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ফাংশনাল জেনোমিক্স অ্যান্ড প্রোটিওমিক্স ল্যাবরেটরি (FGPL) এবং অত্যাধুনিক সুবিধাসম্পন্ন স্বয়ংক্রিয় জলবায়ু নিয়ন্ত্রিত গ্রিনহাউস। বাংলাদেশ বায়োলজি অলিম্পিয়াডের আঞ্চলিক চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি স্কুল ও কলেজ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসারে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।

নবনিযুক্ত উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে এমন একটি প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়ার স্বপ্ন দেখি, যাতে করে তা জাতীয়ভাবে উচ্চশিক্ষার ধারণার পটপরিবর্তনকারী ও আন্তর্জাতিকভাবে মর্যাদাসম্পন্ন হবে, এবং যেখানে শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবন সমন্বিতভাবে অগ্রসর হবে। আমার একাডেমিক মিশন হল গবেষণাভিত্তিক ও শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক একটি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা, যেখানে বুদ্ধিবৃত্তিক কৌতূহল, নৈতিক মূল্যবোধ ও সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তির বিকাশ ঘটবে এবং একই সঙ্গে বাংলাদেশের বাস্তব সামাজিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখা যাবে।

তিনি বলেন, আমার একাডেমিক ভিশন হল, একাডেমিক স্বায়ত্তশাসন, মেধাভিত্তিক মূল্যায়ন এবং প্রমাননির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণকে গুরুত্ব দেওয়া, যেখানে শিক্ষকরা উদ্ভাবনে উৎসাহিত হবেন এবং শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যৎ গবেষক, পেশাজীবী ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। আমি বিশ্বাস করি, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় কেবল জ্ঞান সংরক্ষণের প্রতিষ্ঠান নয়; বরং এটি হতে হবে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি।

তিনি আরও বলেন, আমার প্রশাসনিক ভিশন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও অংশগ্রহণমূলক শাসনব্যবস্থার ওপর প্রতিষ্ঠিত। এর মূল লক্ষ্য হলো- এমন একটি দ্রুত সাড়া প্রদানকারী ও ডিজিটালভাবে সক্ষম প্রশাসন গড়ে তোলা, যা ব্যুরোক্র্যাটিক জটিলতা হ্রাস করবে এবং একই সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ও বিধিবিধান অক্ষুণ্ন রাখবে। আমার প্রশাসনিক মিশন হল, বিশ্ববিদ্যালয় শাসনব্যবস্থার প্রতি জনআস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা, আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা, ন্যায্য নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রক্রিয়া বজায় রাখা এবং এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ক্যাম্পাস সংস্কৃতি গড়ে তোলা, যেখানে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা সম্মানিত ও সুরক্ষিত বোধ করবেন। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, প্রশাসনিক উৎকর্ষ নিয়ন্ত্রণমূলক নয়; বরং এটি সেবামুখী হওয়া উচিত, যা দক্ষ শাসনের মাধ্যমে একাডেমিক উৎকর্ষকে সহায়তা করে।

যোগদানের পর তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। এসময় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আমার স্বপ্ন রয়েছে। এ স্বপ্ন বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

তিনি বলেন, আমার বিশ্বাস আপনাদের সকলের ঐকান্তিক সহযোগিতা পেলে এ বিশ্ববিদ্যালয় অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে যাবে এবং আমার ভিশন, মিশন ও স্বপ্ন পূরণ হবে। নবনিযুক্ত উপাচার্য রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষা উপদেষ্টা এবং চট্টগ্রাম-৫ আসনের এমপি ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

চবি প্রক্টর প্রফেসর ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী এর সঞ্চালনায় এসময় বক্তব্য রাখেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. কামাল উদ্দিন ও চবি বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন। এরপর উপাচার্য অন্যান্যের নিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শহীদ মিনারে, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি স্বাধীনতা স্মৃতিস্তম্ভে এবং শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে বুদ্ধিজীবী চত্বরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. কামাল উদ্দিন, জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোশারফ হোসেন, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত), প্রভোস্ট, প্রক্টর, ছাত্র-ছাত্রী পরামর্শ ও নির্দেশনা পরিচালক, চাকসু কেন্দ্রের পরিচালক, বিভিন্ন বিভাগ-ইনস্টিটিউটের সভাপতি/পরিচালক, সহকারী প্রক্টর, বিভিন্ন দপ্তরের প্রশাসক, শিক্ষক, অফিস প্রধান এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

চবি,উপাচার্য,প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত