ঢাকা বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

চাঁদপুর লঞ্চঘাটে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের দুর্ভোগ

চাঁদপুর লঞ্চঘাটে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের দুর্ভোগ

প্রায় ৪ বছর আগে চাঁদপুর আধুনিক লঞ্চঘাট নির্মাণ কাজ শুরু হলেও এখন পর্যন্ত শেষ হয়নি। ঘাটের পন্টুনের সাথে থাকা সিঁড়িগুলো অনেক উঁচু, নেই বিশ্রামাগার, ঘাটে থাকা পরিবহনে অব্যবস্থাপনা, সব মিলিয়ে একটি হযবরল অবস্থা। যার ফলে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লঞ্চে আসা যাত্রীরা ঘাটে এসে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলা হলেও বাস্তব চিত্র উল্টো।

মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সরেজমিনে লঞ্চঘাটে গিয়ে দেখা গেছে যাত্রীদের দুর্ভোগের চিত্র। বিশেষ করে যাত্রীরা লঞ্চ থেকে নামলে ঘাটে থাকা সিএনজি চালিত অটোরিকশা, অটোবাইক চালকদের মালপত্র নিয়ে টানাটানিতে বিশৃঙ্খল অবস্থা তৈরি হচ্ছে। বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হচ্ছে যাত্রীদেরকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চাঁদপুর আধুনিক লঞ্চঘাট নির্মাণ কাজ শুরু হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ রাখায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের। ঈদ উপলক্ষ্যে বিআই ডাব্লিউটিএর প্রকৌশল বিভাগ যাত্রী চলাচলে কিছুটা মেরামত কাজ করলেও তাতে হাজার হাজার যাত্রীর দুর্ভোগ কমছে না।

ঘাটে লঞ্চের জন্য অপেক্ষমাণ যাত্রী রোকসানা বেগম বলেন, ঢাকায় যাব। লঞ্চের জন্য অপেক্ষা করছি। কিন্তু বিশ্রামাগার না থাকায় খোলা আকাশের নীচে বসে থাকতে হচ্ছে। স্যানিটেশন ব্যবস্থা নেই। শিশুদের নিয়ে অনেক বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে। দুর থেকে আসা সকল যাত্রীই এখন একই পরিস্থিতির শিকার।

আরেক যাত্রী আব্দুর রউফ বলেন, ঈদে মানুষ বাড়িতে আসা আনন্দ করার জন্য। কিন্তু লঞ্চ থেকে নামলে কুলিরা মালপত্র নিয়ে টানাটানি করে। এরপর অটো চালকদের টানাটানি। এসব বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করা দরকার।

ঢাকাগামী আরেক যাত্রী জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি বলেন, লঞ্চে যাতায়াত করে নিরাপদ ভ্রমণ হিসেবে। কিন্তু এই লঞ্চঘাটে অব্যবস্থাপনার কারণে যাত্রীদের হয়রানির শিকার হতে হয়। বিশেষ করে গাড়ি চালকরা বেশি হয়রানি করে। কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি তারা যেন বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখেন।

চাঁদপুর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএসএম ইকবাল হোসেন বলেন, ঈদ উপলক্ষ্যে লঞ্চঘাটের যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য নৌ পুলিশ ২৪ ঘন্টা দায়িত্ব পালন করছে। ঈদের পরেও নৌ পুলিশ ঘাটে দায়িত্ব পালন করবে।

চাঁদপুর নৌ বন্দরের উপ-পরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, আমাদের নৌ বন্দরের নির্মাণকাজ চলমান। যে কারণে অস্থায়ী ঘাট দিয়ে যাত্রীদের চলাচল করতে হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি যাত্রীরা যাতে নিরাপদে বাড়ি যেতে পারে।

চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. নাজমুল ইসলাম সরকার বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে লঞ্চঘাটে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে। আশা করছি যারা ঘাটে দায়িত্ব পালন করছেন তাদের তত্ত্বাবধান এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনায় যাত্রী সেবা নিশ্চিত হবে।

চাঁদপুর,লঞ্চঘাট,যাত্রী,দুর্ভোগ
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত